Showing posts with label paulo coelho. Show all posts
Showing posts with label paulo coelho. Show all posts

Monday, February 22, 2016

স্মৃতির স্যুভেনিগুলো ভেঙে দিন

একজন মানুষের জানা দরকার জীবনের শেষ ধাপ কোথায়? আমরা যদি একটা ধাপে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সময় থাকি তাহলে আমরা অন্য ধাপগুলোর আনন্দ আর উদ্দেশ্য থেকে বঞ্চিত হবো। জীবনের এইসব ধাপগুলো পূর্ণ করা, দরজা বন্ধ করা, অধ্যায়ের ইতি টানা, আসলে যাই বলা হোক না কেন আসল কথা হলো যে অতীত, যে সময় ফুরিয়ে গেছে তাকে পেছনে ফেলে আসা।

সম্পর্ক ভেঙে গেছে? চাকরি চলে গেছে? বাবা-মার বাসা থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে? কিংবা অনেক অনেকদিনের গড়া বন্ধুত্বা এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে?
কেন চাকরি গেল, কেন সম্পর্ক ভাঙলো, কেন সব শেষ? ‘কেন’-র ভুবনে ডুব দিয়ে অনেক সময় পার করা যায়।

অনেক অনেক মুহূর্ত চিন্তা করে কাটিয়ে দেয়া যায়। জীবনের এইসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো কেন হঠাত্ আচমকা ধুলোর সঙ্গে মিশে গেল সেই কারণ খুঁজে বের করার আগে আপনি হয়তো একটুও এগোতো চাইবেন না, পা চলতে চাইবে না! ‘সব শেষ’ নামের হাহাকার সেই ‘কেন’-র উত্তর খুঁজতে আপনাকে অহর্নিশ পাগল করে দেবে।

কিন্তু এমন আচরণ আপনাকে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন আর সন্তানের ওপর চাপ তৈরি করবে। সেই চাপ অসহনীয় হয়েও যেতে পারে। আসলে সবাই তাদের জীবনের ধাপগুলো শেষ করছে, করেছে। পাতা উল্টাচ্ছে, জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। আর সেই তারাই আপনাকে এক জায়গায়, একই বৃন্তে আর একটাই প্রশ্নের সামনে আটকে থাকতে দেখে মন খারাপ করবে।
সত্যি বলতে কী, যা চলে যায় তাকে চলে যেতেই দেওয়াই উচিত। সেটা করতে গিয়ে যত তীব্র বেদনাই হোক অতীত সেই সম্পর্ক, স্মৃতির স্যুভেনিগুলো ভেঙে দিন, সরিয়ে ফেলুন, প্রয়োজনে দান করে দিন কোনো এক অনাথ আশ্রমে, বিক্রি করে দিন, স্রেফ ভুলে যান।

এই আলো-বাতাস, দৃশ্যমান পৃথিবীর সবকিছুই হলো অদৃশ্য পৃথিবীর ছায়া। আমাদের যাপিত জীবনে কিছু স্মৃতি ফেলে দেয়ার অর্থ একটাই-নতুন কিছু স্মৃতির জন্য তৈরি আপনার মন, আপনি নিজে। যে চলে গেছে, চলে যেতে চায় তাকে ছেড়ে দিন। সেই সব মানুষ আর তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত করুন।
আমার মনে হয় জীবনটা স্রেফ তাস খেলার মতো। আসলে কার্ডগুলো আমরা কেউ চিনে রাখি না। তাই কখনও আমরা জিতে যাই, আবার কখনও বা হেরে যাই। কোনো প্রতিদান আশা করবেন না, না কোনো প্রতিদানই নয়। বাহ-বা-র আশাও করবেন না। আপনার মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে কী হচ্ছে না, ভালোবাসা পেলেন কী পেলেন না ভাবার দরকার নেই।

কিছু একটা হারাতে আপনি কতটা কষ্টে নীল হয়েছেন, কতটা ভুগেছেন? অনুভূতির জানালা খুলে, আবেগের টেলিভিশন খুলে সেই অনুষ্ঠান বারবার দেখা বন্ধ করুন। এসব কিছু আপনার মনকে বরং বিষন্ন করে দেবে। একটু একটু করে নিজের অজান্তেই আরও বেশি একা হয়ে উঠবেন আপনি। এছাড়া আর কিছুই হবে না, হয়ও নি কোনোদিন!
ঠিক না থাকা কাজের প্রতিশ্রুতি, ভেঙে যাওয়া প্রেম এসব মেনে না নেয়ার মতো বোকামি আর ক্ষতিকর কিছুই হতে পারে না।

জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরুর আগে আগের অধ্যায়টিকে শেষ করতেই হবে। হাসিমুখে নিজেকে বলুন-যা চলে গেছে তা একেবারেই গেছে, ফিরে আর আসবে না কখনও। যে জিনিস কিংবা যে মানুষটাকে ছাড়া একসময় বেঁচেছিলেন সেই সময়ের কথা ভাবুন। সবকিছুই প্রতিস্থাপনীয়। অভ্যেস আর প্রয়োজন এক ব্যাপার নয়।

কথাগুলো অবশ্য বলে ফেলা গেল অনায়াসে কিন্তু মেনে নেয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।একটু একটু করে প্রতিদিন জীবনের চক্রটা পূরণ করুন। গর্ব, অপ্রাপ্তি, অক্ষমতা আর অহংবোধের জন্য নয়, আপনার জীবনের সঙ্গে ব্যাপারগুলো যায় না সেই কারণে কাজগুলো করুন। আর দরজা বন্ধ করে দিন, প্লেয়ারের সিডি বদলান, ঘরটা পরিস্কার করুন, ধুলো-বালি ঝেড়ে ফেলার এইতো সময়।

অতীতের ‘আমার আমি’র মধ্যে আটকে না থেকে বরং হয়ে উঠুন ‘বর্তমানের আপনি...’


                                                   ############

(‪#‎পাওলো_কোয়েলো‬ বরাবরই তরুণদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণার নাম। ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থাকা মন তার লেখাগুলোতে খুঁজে পায় বেঁচে থাকার নতুন মন্ত্র। স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসেন ব্রাজিলিয়ান এই লেখক। তার ব্লগ থেকে তেমনই এক আশা জাগানিয়া লেখা ভাবানুবাদ করেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। সেটা গতবছরের জুনে বন্ধু তানভীর তারেক ছেপেছিলেন ইত্তেফাকে। টাইমলাইনেও এটা তুলে রাখলাম।)

http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/vino-chikhe/2015/06/05/52694.html

Wednesday, December 21, 2011

জীবন বহতা নদীর মতো..



..একটা গোলাপ রাত-দিন অহর্নিশ মৌমাছির কথা ভাবতো, কিন্তু কখনোই তার পাপড়িতে এসে মৌমাছি বসেনি!

তাতে কি? গোলাপটি তারপরও স্বপ্ন বুনে যেতো। সারারাত জেগে সে ভাবতো সেই স্বর্গের কথা যেখানে অনেক অনেক মৌমাছি উড়ে এসে বসতো তার পাপড়িতে আর মমতাময় চুমুতে ভরিয়ে দিত তাকে! এভাবেই একসময় ঘুমিয়ে পড়তো। টিকে থাকতো পরের দিন পর্যন্ত যখন সূর্যের আলোতে তার ঘুম ভাঙতো।

আকাশের ওই চাঁদ জানতো তার এই একাকিত্বের কথা। এক রাতে চাঁদ তাকে জিজ্ঞেস করলো-তুমি যে এতো অপেক্ষা করো, অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাওনা?

-হয়তো হই। কিন্তু আমাকে যে চেস্টা করে যেতেই হবে।

কেন?

কারণ আমি যদি নিজেকে এভাবে মেলে না রাখি, তাহলে তো একদিন মিলিয়ে যাবো।

যখন একাকীত্ব সমস্ত সৌন্দর্যকে পিষে ফেলতে চায়, তখন টিকে থাকার একমাত্র উপায় মনকে মেলে রাখা...।

                                  .................................

এটা পাওলো কোয়েলোর লাইক দ্য ফ্লোইং রিভার (Like the Flowing River) বইয়ের রিমেনিং ওপেন টু লাভ গল্পের কিছুটা অংশ। যখন সত্যিই আমি ক্লান্ত হয়ে উঠি তখন এই গল্পটা বারবার অনুপ্রেরনা হয়ে উঠে আমার জন্য। কতোবার যে এটা পড়েছি হিসেব নেই। এর আগে ফ্লিকারেও একটা পোষ্ট করেছিলাম। তুলে রাখলাম আমার ব্লগে।

আমার অনুবাদ পড়ে ক্লান্ত হয়ে উঠলে মুল ইংরেজি অংশটি পড়ে নিতে পারেন।  


A rose dreamed day and night about bees, but no bee ever landed on her petals.

The flower, however, continued to dream. During the long nights, she imagined a heaven full of bees, which flew down to bestow fond kisses on her. By doing this, she was able to last until the next day, when she opened again to the light of the sun.

One night, the moon, who knew of the rose's loneliness, asked: 'Aren't you tired of waiting?'
'Possibly, but I have to keep trying.'
'Why?'
'Because if I don't remain open, I will simply fade away.'

At times, when loneliness seems to crush all beauty, the only way to resist is to remain open...

Monday, March 22, 2010

একাকিত্ব...

আমার ওই এক অবলম্বন হয়েছে পাওলো কোয়েলো। তোমার কথায় বিরক্তিই শোনালোকেন বারবারই শুধু পাওলো ওই স্বপ্ন নির্ভর কথা? স্বপ্ন পুরন করতে চাইলে তো চোখের স্বপ্ন সরিয়ে বাস্তবতার পথেই হাটতে হবে তোমাকে।
কিন্তু সেখানেও আমাকে ওই ব্রাজিলিয়ান ৬০ বছর বয়সীতরুনে কাছেই ফিরে যেতে হয়। Like the Flowing River এর একটা গল্পের কিছুটা অংশ যতোবারই পড়ছি অন্যরকম মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে। গল্পটি অবশ্য কোয়েলোকে পাঠিয়েছিলেন তারই ভক্ত-
‘‘
এক বাগানের একটি গোলাপ ফুল সবসময়ই মৌমাছির কথা ভাবতো। ভাবতো একটা মৌমাছি এসে বসবে তার গায়ে! ভালোবাসার ছোঁয়ায় মুগ্ধ হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য কখনোই তার পাপড়িতে মৌমাছি এসে বসতো না। কিন্তু গোলাপটি ঠিকই স্বপ্ন দেখে যেতো। সবসময় সেই স্বর্গের কথা ভাবতো যেখানে অনেক অনেক মৌমাছি উড়ে এসে বসতো তার পাপড়িতে। ভালবাসার চুমুতে ভরিয়ে দিতো পুরো শরীর! এভাবে স্বপ্ন দেখে টিকে থাকতো পরের দিন পর্যন্ত। সৃর্যের আলোতে ঘুম ভাঙ্গলেই শুরু হতো প্রতীক্ষা..
গোলাপের এই একাকিত্বের কথা জানতো আকাশের ওই চাঁদ! এক রাতে চাঁদ কৌতহল চেপে না রাখতে পেরে জিজ্ঞেস করলো তুমি এই যে প্রতীক্ষা করছো, নিরন্তর স্বপ্ন দেখছো ক্লান্ত হয়ে যাও না?
তা হয়তো হই! কিন্তু দেখো আমার তো আর কিছুই করার নেই। আমাকে তো চেস্টা করে যেতেই হবে!
চাঁদ অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলো কেন?’
কারন আমি যদি নিজেকে এভাবে মেলে না রাখি তাহলে একদিন তো আমি চিরতরে মিলিয়ে যাবো!’’

**
আসলেই যখন একাকিত্ব আমাদের সৌন্দর্যকে নিঃশেষ করে ফেলতে চায়, তখন টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরা! যখন শুধুই একাকিত্ব সঙ্গী হয়ে উঠে আমাদের তখনই উচিত মনকে মেলে রাখা..

Tuesday, March 2, 2010

..এবং প্রতীক্ষা

..প্রতীক্ষায় ছিলাম, কখন আবার কথা হয় তোমার সঙ্গে! হলো, কিন্তু সত্যিই কি হলো?
অদৃশ্যহয়ে থাকলেই বরং ভালো হতো! ভালো হতো ভালো কিছুর জন্য প্রতীক্ষায় থাকা। কিন্তু তোমার ওমন ষ্পস্ট বদলে যাওয়া চেহারা, তোমার ওই অচেনা অস্তিত্ব কি সত্যিই হতাশ করেছে আমাকে? সত্যিই কি তোমার ওই কথাগুলো আমার বুকে এসে বিঁধেছে?


না, মোটেও না! আমার স্বপ্নে একটুও আচড় লাগেনি.. কোন ঘৃনাই জমা হয়নি তোমার জন্য। যাকে ভালোবাসি, যাকে সত্যি করে ভালবাসি তার জন্য ঘৃনা জন্মায় না।

তোমার এবং আমার প্রিয় লেখক পাওলো কোয়েলো যেমনটা বলেছেনএমন অনেক সময় আসে যখন আমরা আমাদের ভালবাসার মানুষটির জন্য কিছু করতে চাই। কিছু করার জন্য অস্থির হয়ে উঠে আমাদের মন! কিন্তু কিছু করতে পারি না। আসলে পরিস্থিতি আমাদের ওই ভালোবাসার মানুষটির কাছে যেতে দেয় না। অন্যভাবে বলা যায় ভালোবাসার ওই মানুষ থেকে যায় নাগালের বাইরে। সময় আমাদের হয়ে কথা বলে না!


ওই মুহুর্তে আমাদের কেবলই একটা কাজ করার থাকে- তা হলে ভালোবাসা! যে সময়গুলোতে আমাদের কিছুই করার থাকেনা। যখনই কেবলই আমরা অসহায় তখনও ভালোবাসতে পারি, কোন পুরস্কার, কোন নুন্যতম প্রতিদান কিংবা কৃতজ্ঞতার আশা না করেই আমরা শুধুই ভালোবাসতে পারি ওই ভালোবাসার মানুষকে

আর সেটা যদি আমরা করি, তবে তাহলো ভালোবাসার শক্তি ঠিকই এই অস্থির বিশ্বকে পাল্টে দেবে। পরিবর্তন করতে শুরু করবে এই জগতকে। আর এই শক্তি চলতে শুরু করলে গন্তব্যে ঠিকই পৌছবো আমরা। যেমনটা বলেছিলেন হেনরি ড্রামন্ডআসলে সময় মানু কে বদলে দেয়না। এমনকি মনের জোরও মানুষক বদলায় না! ভালোবাসা বদলে দেয় মানুষকে।’’

যেমনটা বলছিলেন শুরুতে অনেক দিন প্রতীক্ষার পর তোমার ওই কন্ঠ...! আমার এই মনে তাতেই ছুঁয়ে গেছে এক রাশ স্বস্তি। মনে হয়েছে এইতো আবার ছুঁয়ে দিলে তুমি!

এরচেয়ে বেশি কি কিছু চেয়েছিলাম? এরচেয়ে বেশি কিছু কি প্রাপ্য আমার?