Showing posts with label aapon tariq. Show all posts
Showing posts with label aapon tariq. Show all posts

Tuesday, July 19, 2016

জ্বিভে জল আনা পুরানো ঢাকার বিখ্যাত ৫০ খাবার

পুরনো ঢাকার খাবার মানেই লোভনীয়! চারশ বছরের পুরনো ঐতিহ্য বলে কথা। কিছুটা মান হারালেও সেই মিথ এখনো বহন করে চলছে পুরনো ঢাকা। ভোজনরসিকরা সময় পেলেই ছুটে যান সেখানে। রসনা তৃপ্ত হয়ে ফিরেন ঘরে।

এবার চলুন দেখে নেই পুরনো ঢাকার বিখ্যাত ৫০টি খাবার হোটেলের নাম, ঠিকানা। সুযোগ মতো আপনিও সেই খাবারে পেট পুজো করে আসতে পারেন। মিলিয়ে নিন, লিস্ট।

হোটেলের নাম, ঠিকানা-

১. হোটেল আল-রাজ্জাকের কাচ্চি, গ্লাসি, মোরগ পোলাও।
২. লালবাগ রয়্যালের কাচ্চি, জাফরান-বাদামের শরবত, চিকেন টিক্কা আর সেরা লাবান, কাশ্মীরী নান।
৩. নবাবপুর রোডে হোটেল স্টার এর খাসির লেকুশ, চিংড়ি ,ফালুদা।
৪. নবাবপুর আরজু হোটেল এর মোরগ পোলাও, নাশতা আর কাচ্চি।
৫. নারিন্দার ঝুনু বিরিয়ানি
৬. নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানি।
৭. নাজিমুদ্দিন রোডের হোটেল নিরবের অনেক ধরনের ভর্তা।
৮. নাজিরা বাজারের হাজি বিরিয়ানি এর উল্টা দিকের হানিফের বিরিয়ানি।
৯. বংশালের শমসের আলীর ভূনা খিচুড়ি, কাটারী পোলাও।
১০. নাজিরা বাজার মোড়ে বিসমিল্লার বটি কাবাব আর গুরদার।
১১. বেচারাম দেউরীতে অবস্থিত নান্না বিরিয়ানি এর মোরগ-পোলাও।
১২. ঠাটারীবাজার স্টার এর কাচ্চি বিরিয়ানি, লেগ রোস্ট আর ফালুদা।
১৩. ঠাটারী বাজারের গ্রিন সুইটস এর আমিত্তি, জিলাপি।
১৪. রায় সাহেব বাজারের গলিতে মাখন মিয়ার পোলাও।
১৫. সুত্রাপুর বাজারের রহিম মিয়ার খাসির বিরিয়ানি।
১৬. গেন্ডারিয়ার রহমানিয়া এর কাবাব।
১৭. কলতাবাজারের নাসির হোটেলের বিখ্যাত গরুর মাংস আর পরাটা ।
১৮. ভিক্টোরিয়া পার্কের সুলতান ভাইয়ের চা ১।
১৯. দয়াগঞ্জের সিটি বিরিয়ানি ও কাচ্চি ।
২০. নারিন্দার সফর বিরিয়ানি ।
২১. আরমানিটোলা তারা মসজিদের পাশে জুম্মন মামার চটপটি ।
২২. সিদ্দিক বাজারের মাজাহার সুইটস ।
২৩. সুত্রাপুর ডালপট্টির বুদ্ধুর পুরি ।
২৪. আবুল হাসনাত রোড এর কলকাতা কাচ্চি ঘর ।
২৫. রায় সাহেব বাজারের বিউটি লাচ্ছি আর চকবাজারের নুরানী শরবত।
২৬. গেন্ডারিয়ার সোনা মিয়ার দই।
২৭. লালবাগ মোড় এর মীরা মিয়ার চিকেন ফ্রাই আর গরুর শিক।
২৮. লালবাগ চৌরাস্তার খেতাপুরি।
২৯. মতিঝিল শাপলা চত্বর হিরাঝিলের চা।
৩০. নাজিরা বাজারের ডালরুটি ।
৩১. গেন্ডারিয়া ভাটিখানার হাসেম বাঙ্গালির ডালপুরি ।
৩২. রায়সাহেব বাজারের আল ইসলামের মোরগ পোলাও, চিকেন টিক্কা।
৩৩. বাংলাবাজারের বিখ্যাত কাফে কর্নার এর কাকলেট ও চপ।
৩৪. বাংলাবাজারের বিখ্যাত চৌরঙ্গী হোটেলের পরাটা, ডাল ।
৩৫. রায়সাহেব বাজারে কাফে ইউসুফের নান ও চিকেন টিক্কা ।
৩৬. নবাব পুরের মরণ চাঁদ মিষ্টির দোকানের ভাজি-পরোটা, মিষ্টি ও টক দই ।
৩৭. লক্ষীবাজার এর মাসহুর সুইটমিট এর লুচি, ভাজি আর ডাল।
৩৮. লালবাগের পাক-পাঞ্জাতন এর মজার তেহারি ।
৩৯. দয়াগঞ্জ এর ঢাকা কাবাব ।
৪০. ওয়াইজ ঘাটের নানা রেঁস্তোরা ।
৪১. শাখারী বাজারের অমূল্য সুইটস এর পরোটা-ভাজি ।
৪২. তাতিবাজারের কাশ্মীর এর কাচ্চি।
৪৩. নারিন্দায় সৌরভ এর মাঠা আর ছানা ।
৪৪. আবুল হাসনাত রোডের কলকাতা কাচ্চি ঘর।
৪৫. আবুল হাসনাত রোডের দয়াল সুইটস এর মিষ্টি।
৪৬. নারিন্দায় অবস্থিত রাসেল হোটেলের নাশতা ।
৪৭. ঠাটারী বাজারের বটতলার কাবাব ।
৪৮. টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত হোটেল খান এর টাকি মাছের পুরি।
৪৯. লক্ষীবাজার পাতলাখান লেনের লুচি-ভাজি ।
৫০. বেচারাম দেউড়িতে হাজী ইমাম এর বিরিয়ানি ।

















Wednesday, April 13, 2016

আক্ষেপের জীবন!


সারাক্ষণই ভাবতে থাকি এটা নেই, সেটা নেই। আরো বেশি কেন পাচ্ছি না, আরো বেশি কেন হচ্ছে না? শুধু 'নেই' আর আক্ষেপের জগতে ঘুরে বেড়াই, প্রতিনিয়ত! বার্গারের সঙ্গে সস নেই কেন- বলে চিৎকারে আকাশ-মাটি এক করি! ম্যাচিং করা জীবনে কী পাইনি, তার হিসেব চলে সকাল থেকে রাত অব্দি।
অথচ যা পেলাম তা নিয়ে সন্তুষ্টির ছিটেফোটাও নেই। মৃত্যু'র ঠিক আগ মুহুর্তেও দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে যাবো- 'আরো কিছু পেলাম না কেন?'

তাই হয়তো দশ বছর বয়সী এই আবু'র চোখে জীবনটা দেখা হয়ে উঠে না আমাদের। আক্ষেপের ক্র্যাচ বগলদাবা করে ঘুরে বেড়াই, অহর্নিশ! অসুখীই থেকে যাই একটা জীবন। আহ, জীবন!!


GMB Akash
March 9 ·
‘I did not get anything to eat yesterday. I slept hungry. But now I am feeling lucky to get this rotten bread. My shoes, cloth or food everything comes from this dump yard. Aren't you asking me about the odor? I was born in this place, someone left me here after my birth, smell of this place make me feel like a home. This is my home and these dogs, birds are my family.’
- Abu (10)

Saturday, March 26, 2016

স্বাধীন...




‘‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী, সাথী মোদের ফুল পরী, ফুল পরী লাল পরী, লাল পরী নীল পরী, সবার সাথে ভাব করি...”

এই সুর বারবার ফিরিয়ে আনে আমাদের সাদাকালো শৈশবের রঙীন স্মৃতি। ফেলে আসা দিনের কতোশতো প্রিয় মুখ ...! প্রানহীন রঙীন ঘোড়ায় চড়ে বসতেই বেজে উঠতো এই গান। এখনো নাকি তাই হয়। ইট-কাঠের যাদুর শহরে খানিক বিনোদন তো এটুকুই।

সেদিন আমার মেয়েটা এই আনন্দে ডুবে থাকল কিছুক্ষণ। আর গানটা বেজে উঠতেই চনমনে হয়ে উঠল আরো, হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে থাকল সুন্দর মুহুর্তটাকে। চোখের কোনায় কিছুটা বিস্ময়, মুখে এক চিলতে হাসি, মা’র দিকে তাকিয়ে যেন বলতে চাইছে- ‘আমি একা, দেখো তারপরও আমি কতোটা স্বাধীন...’

কিন্তু মেয়েটা বুঝবেও না এখন আর সেই ‘স্বপ্নপুরী’ নেই, লাল পরী আর নীল পরীদের রূপকথারাও মরে গেছে! ফুল পরি’রা ফুলের গায়ে ভুলেও বসে না আর.. আগামীর পথে শুধুই কাঁটা ছড়ানো...


দানব, দৈত্যদের দাপটে ‘ভাল’রা নির্বাসনে যাচ্ছে, প্রতিদিন। ‘বোকা মানুষ’রা অভিমান করে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতি মুহুর্তে, চিরতরে!
তারপরও সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়া এই অবেলায় অগ্রজদের মতো একটাই চাওয়া-‌‌‘‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে...”

Wednesday, January 6, 2016

খুব মনে পড়ছে ইব্রাহিম ভাইকে

এক টুকরো আলো এসে পড়লো ইব্রাহিম ভাইয়ের মুখে। মুখে এক চিলতে হাসি! তার ঠিক ওপরে যে চোখ দুটো জ্বলমল করছে, তার একটির আলো নেই! সেই কবে ছোটবেলায় কিছু বুঝে উঠার আগেই কী থেকে যে কী হয়ে গেল! থাক সেই ভুলে যেতে চাওয়া গল্প.. আজ বরং অন্য কিছু হোক..

টুয়েন্টিফোরের ঠিক সামনের রাস্তায় একপাশে ছোট্ট ছোট্ট দোকান। দু'পাশে দুইটা টুল, কেউ আবার চেয়ার সাজিয়ে রেখেছে। তাতেই সিগারেট, চা কিংবা বিস্কিট সঙ্গে আড্ডা। আড্ডাবাজিটা থাকলেও চায়ের দোকানে ঘন্টার পর বসে থাকার অভ্যাসটা কখনো ছিলো না! ছিলো না মানে আগে কখনো করিনি।

হয়নি, হবে না, করিনি, করবো না- এইসব গ্যারান্টির মৃুত্যু হলে আমরা কতো কী যে করি! একদিন ডিসেম্বরের শুরুতে সেই টুলের ধুলো মুছে আমিও বসতে শুরু করি।

চায়ের সঙ্গে আড্ডায় সংগতভাবেই একঘেয়ে সেই একটি প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গই থাকতো তখন। তখন প্রতিবাদী কথাগুলোই বরং ভাল লাগত। এরই ফাঁকে আড্ডা যখন আরো একঘেয়ে হয়ে উঠতো, ধুলো আর সিগারেটের ধোয়া মাখামাখি করতো, আমি তখন চলে যেতাম সেই ঢুল-চেয়ার পেড়িয়ে ছোট্ট দোকানটার ভেতরে। সেখানটায় ভীড় নেই। তখনই একটু একটু করে জানা ইব্রাহিম ভাইকে।

আশ্চর্য্য হয়েই তখন লক্ষ্য করতাম আমার কিংবা প্রতীকের জন্য কতোটা উদিগ্ন তিনি। প্রতিদিন দেখা হলেই বিনয়ের সঙ্গে সেই খোঁজটাই নিতেন। আক্ষেপ ঝরে পড়তো উনার চোখে-মুখে। কিছুদিন যেতেই আরো অবাক হতে থাকলাম-চা, বিস্কিট যাই খাই, টাকা নিতে চাই তো না! রীতিমতো জোর করে প্রতিবার টাকা দিতে হতো তাকে। কোন দোকানির সঙ্গে এমনটা কী যায়!

দিনের পর দিন এমনটা চলতে থাকল! আমরা মুগ্ধতা নিয়ে দেখলাম, সর্বনাশা দিনেও কিছু মানুষ পাশে থাকে আমাদের, সাহস জুগিয়ে যায়। তারাও একটু একটু করে আপন হয়ে উঠে। আবার কিছু মানুষ বন্ধুত্বা হারায়ও, সম্ভবত...

আজ ইব্রাহিম ভাইকে খুব মনে পড়ছে!






Sunday, April 20, 2014

ছিন্নপত্র..

জীবন অতীব সুন্দর.. সেই ছোট্ট বেলায় একদিন শেষ বিকেলে ঘরে ফিরতে ফিরতে আমি দেখেছি- বৃষ্টির শেষে আকাশে রঙ ছড়িয়ে হেসে উঠে রঙধনু.... :)

Tuesday, March 19, 2013

Candlelight POWER

Candlelight POWER

Bangladeshis attend a mass candlelight vigil accused of committing war crimes in the Bangladesh Liberation War to trial. Millions of people across the country expressed their solidarity with the Shahbagh movement during a candlelight vigil at 7 PM on February 14th. 
peaceful non political movement protesters participating in the Shahbagh demonstration demanded capital punishment for Jamaat-e-Islami leaders awaiting a court verdict for war crimes committed during the 1971 Independence War.

Sunday, December 2, 2012

গেইলের টুইট..



বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা সমালোচকদের তালিকা করতে গেলে রাখতেই হবে ক্রিস গেইলকে। এমনকি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়েও তার শঙ্কার শেষ নেই! বিশ্বকাপ চলার সময় ক্যারিবীয়দের বাসে এক টুকরো ইট এসে লাগার খবরটা টুইটারে তিনিই জানিয়েছিলেন প্রথম।
তাইতো খুলনায় মুশফিকরা গেইলের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৬০ রানে উড়িয়ে দিতেই টুইটারে এই জ্যামাইকানকে লিখলাম.. এবার বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কিছু একটা বল-
এরপর ক্রিস গেইলের জবাবটা পেয়ে মনটা ভালো হয়ে গেল..



Saturday, November 3, 2012

স্বাদ পূরনের সাধ্য..



কোথায় যেন খুঁজতে গিয়ে পুরনো ঢাকার জিভে জল আনা এই খাবারের তালিকাটা পেলাম। এই খাবারগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা স্মৃতি। আমার হারিয়ে যাওয়া সময়ও যেন ফিরে ফিরে আসছে...। আহ! ‘‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম...’’

সব ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে তখন ইচ্ছে মতো ছুটে যেতে পারতাম, এখানে সেখানে। ধুর ভুল বললাম, ব্যস্ততা কিসের আবার? স্বাদ পূরনের সাধ্য তখন তেমন করে ছিল না। তাতে যেন পুরনো ঢাকার সেই রাত জাগা সময়গুলো এখন আরো বর্নিল হয়ে ওঠছে। হায় রে মুঠো গলে পড়ে যাওয়া আমার হারানো সময়!
বেচারাম দেউরিতে নান্না মিয়ার মোরগ পোলাও খাওয়ার কথা ভুলি কি করে? ঝুনুর বিরিয়ানির স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে! চানখারপুলের নীরব হোটেলের কথা সারা জীবনই মনে থাকবে!

এখন স্বাদ পূরনের সাধ্য ঠিকই এসেছে কিন্তু নাগরিক ব্যস্ততায় সময় মিলছে কোথায়?

তার চেয়েও বড় প্রশ্ন- আমাদের নৈতিকতা যেভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এখনো কি সেই আগের মতোই আছে আমাদের পুরনো ঢাকা? পুরনো ঢাকার সেইসব জিভে জল আনা খাবার? নাকি এখানেও বানিজ্য এসে সব শেষ করে দিয়ে গেছে?

আমাদের ঐত্যিহ্যের অংশ হয়ে ওঠা পুরনো ঢাকার সেই সব খাবারের স্বাদ নিতে বড্ড মন চাইছে..





Wednesday, October 3, 2012

ফেরা


‘‘কে হায় হূদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’’

হাসান,
আজ যদি কিছুটা বিষণ্ন করেই থাকি তাহলে অনুশোচনা নেই। ভাববো, এখনো বোধ কিংবা আবেগ আগের মতোই আছে। এখনো সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে ফিরে আসে... এখনো পিছু ফিরে তাকালে আত্মতুষ্টির সঙ্গে যোগ হয় আক্ষেপটাও। এখনো বোধহীন মানুষ হয়ে আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে জাগে না। বরং এই বেশ ভালো আছি...

আমি নিশ্চিত এই ছবিগুলো শুধুই নিছক ছবি নয়। হয়তো প্রতিটিতেই লুকোনো আছে কোনো এক সুন্দর সকাল কিংবা শেষ বিকেলে ঘরে ফেরার তাড়া। কতো স্মৃতি! আহ, ধুলো পড়ে যাওয়া কতো স্মৃতি...
হয়তো এখানে ইচ্ছে করলেই খুঁজে পাওয়া যায় হারিয়ে যাওয়া সেই দুরন্ত সময়।

ভোর হয়নি! এখনো অন্তবিহীন রাত! তারপরও এক চিলতে রোদ রেখে গেলাম... আবেগ আর বোধের সঙ্গে আমাদের সেই স্বপ্নটাও যে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে!


Thursday, June 28, 2012

প্রতীক্ষা

এমনিতে প্রতীক্ষা মানে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, সময় বা ঘটনার আশায় থাকা।
অপেক্ষা করা আর প্রতীক্ষা প্রকৃতপক্ষে একই আভিধানিক অর্থ বহন করে। তবে প্রায়োগিক কিছু পার্থক্য আছে। অপেক্ষা শব্দটার অধৈর্য্য একটা একটা ব্যাপার আছে। অপেক্ষা ফুরোলেই শান্তি। অপেক্ষা করতে ভালো লাগে না।

কিন্তু প্রতীক্ষা অসীম সময়ের জন্য হতে পারে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গেও প্রতীক্ষা করা চলে।
পিয়নের জন্য, রিকশাওয়ালার জন্য বা ছুটির জন্য অপেক্ষা করা যায়। কিন্তু প্রেমিকার জন্য অপেক্ষা করা যায় না; প্রেমিকার জন্য প্রতীক্ষা করতে হয়।

সোজা কথায় যার প্রতি টান নেই, ঘটনাটা হলে বাঁচা যায় এমন কোনো কিছুর আশায় থাকা অপেক্ষা। আর যার প্রতি মনের টান আছে, যার জন্য দিনের পর দিন বসে থাকা যায়, তার জন্য বসে থাকা হল প্রতীক্ষা।

Thursday, June 14, 2012

‘পাপ’


(এটা ঠিক গল্প নয়। আমি আসলে গল্প লিখতে জানি না। সত্য ঘটনার চরিত্রগুলো ঠিক রেখে শুধুই নাম বদলে এখানে তুলে রাখলাম। এটা আমাদের স্কুলের স্যুভিনির জন্য লিখেছিলাম।)

চারদিকে যেন উত্সবের আমেজ। গন্ডার দিয়া গ্রামে পার্বন লেগেছে! মে মাসের এই সময়টাতে এমন দেখা যায় না। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মাইকিংয়ের শব্দ, পূর্বপাড়া থেকে পশ্চিমপাড়া। বাজারে, স্কুলের মোড়ে মসজিদে সবখানেই ওই একটাই আলোচনা। ছেলে-বুড়ো সবাই এমন এক সুরে কবে যে শেষ কথা বলেছে তা মনে করতে পারছিলেন না নব্বই ছুঁই ছুঁই করা ফজর আলী মেম্বার। 

হবেই না কেন? আজ যে গন্ডার দিয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মমতাজউদ্দিন মজুমদারের বিদায় সংবর্ধনা। বিদায়ের সঙ্গে কষ্টের বসবাস সব সময়ই। কিন্তু তার এই বিদায়ের রাগীনিতে উত্সবের ছোঁয়াটাও আছে। তিনি যে জাতীয় পর্যায়ে দুইবারের স্বর্ণপদক জয়ী শিক্ষক। এলাকার গর্ব। তার মতো একজন মানুষকে তো আর সাদামাটাভাবে বিদায় দেয়া যায় না। তাইতো গত দুই সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি চলছে। লেখা হয়েছে বিদায় বাণী, কেনা হয়েছে উপহার, তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। মনোহরদীর টিএনও সাহেব জানিয়ে দিয়েছেন তিনি হাজির থেকে বিদায় জানাবেন। মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে কিছুক্ষণ পর পর। ধারণা করা হচ্ছে, মাঠ উপচে পড়বে মানুষে। 

প্রিয় স্যারকে সংবর্ধনা দিতে চায় গ্রামের সবাই। কিন্তু যাকে ঘিরে এতো আয়োজন সেই মমতাজউদ্দিন মজুমদার সকাল থেকেই মনমরা হয়ে আছেন। দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙেছে সেই মাঝরাতে। এরপর ঘুমোবার কত যে চেষ্টা করেছেন লাভ হয়নি। মেডিটেশনের অভ্যাস আছে। সেটা করেও দুচোখের পাতা এক করতে পারেননি।

দুঃস্বপ্নটা কিছুতেই মন থেকে মুছতে পারছেন না। অথচ আজ গর্বভরে হাসিমুখে বিদায় নেয়ার দিন তার। তার অনেক পুরনো ছাত্রছাত্রীরা ব্যস্ততা রেখে এরই মধ্যেই গ্রামে চলে এসেছে। সবাই দিনটা স্মরণীয় করে রাখতে চায়। শ্রদ্ধা জানাতে চায় প্রিয় মমতাজ স্যারকে।
এইতো গতকাল শেষ বিকেলে আয়েশা এসেছিল তার স্বামী নিয়ে। সালাম করে গেছেন স্যারকে। আয়েশা এখন ঢাকায় থাকে। কাজ করে সচিবালয়ে। স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে তার সুখের সংসার। অথচ দারিদ্র্যতার ছোঁবলে পরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল সব কিছু। সেটা ৩০ বছর আগের গল্প। মমতাজ স্যারের বয়সও তখন তেমন কিছু নয়। ক্লাসের সবার খুটিনাটি আচরণই চোখে পড়তো তার। এভাবেই একদিন আবিষ্কার করলেন আয়েশা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ক্লাসেও আসছে অনিয়মিত। এক-দুই ক্লাস করে অসুস্থতার কথা বলে চলে যাচ্ছে বাড়িতে। অথচ মেয়েটা অনেক মেধাবী। নিশ্চিত ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে।

মমতাজউদ্দিন মজুমদার বুঝতে পারলেন কিছু একটা নিশ্চয়ই ঘটেছে। আয়েশার বাড়ি পাশের দাইদারি গ্রামে। সাইকেল নিয়ে সোজা চলে গেলেন সেখানে। খুঁজে বের করলেন আয়েশার বাবাকে। এরপরই বেরিয়ে আসলো ঘটনা।

তিনবেলার মধ্যে যদি একবেলাও খাবার না জুটে তাহলে কি আর পড়ায় মন বসে? স্কুল থেকে শরীর খারাপের কথা বলে এসে প্রায় প্রতিদিনই আয়েশা কাজ করতো পাশের ভুঁইয়া বাড়িতে। তাতেই জুটতো একবেলার খাবার। এমন ঘটনা নাড়িয়ে দিল মমতাজ স্যারকে। আয়েশার বাবাকে বললেন, বৃত্তি পরীক্ষার আগে ও আমার বাড়িতে থেকে পড়বে।
তাই হলো। তিন মাস পেট পুড়ে খেয়ে পড়াশুনা করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল আয়েশা। এরপর হাইস্কুলে পড়ার সময়ও খরচের একটা অংশ আয়েশাকে দিয়েছেন মমতাজ স্যার। উনার মতো মানুষের সংবর্ধনায় না থেকে কি পারা যায়?
এমন অনেকেই গতকাল এসে পা ছুঁইয়ে সালাম করে গেছেন তাদের প্রিয় স্যারকে।
কিন্তু মমতাজউদ্দিন মজুমদার স্বস্তিতে নেই। ফজরের নামাজ পড়ে সরকার বাড়ির পাশ দিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে এসেছেন। কথাও বলেছেন কয়েকজনের সঙ্গে। তারপরও মন ভাল হচ্ছে না। পুরনো একট স্মৃতি ফিরে এসেছে আবার। সবাই যেখানে তাকে সফল আর আদর্শ শিক্ষক বলছে, সেখানে নিজেকে শুধুই ব্যর্থ নয় অপরাধীও মনে হচ্ছে মমতাজ স্যারের।

গতকাল গভীর রাতে দেখা স্বপ্নটা যে নিছকই স্বপ্ন নয়। সেটা যে তার জীবনের ঘটে যাওয়া এক ঘটনা। আজকের এই বিদায়ের দিনে এসে নিজেকে আর ক্ষমা করতে পারছেন না তিনি।
এই যখন ভাবছিলেন, তখন বাড়ির বাইরে থেকে কেউ একজন ডাকছিলেন স্যারকে। অনিচ্ছা নিয়ে বিছানা ছেড়ে বাইরে গেলেন। গফুর চেয়ারম্যান এসেছেন। স্যারকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আপনার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। আমি ঠিক করেছি স্বর্ণের মেডেল আজ আপনার গলায় পড়িয়ে দেব।

সকালের নাস্তা পড়ে রয়েছে সামনে। বছর কয়েক আগে ডায়াবেটিস হয়েছে। তাইতো নিয়ম মেনে চলতে হয়। দুটো আটার রুটি আর আলুর ভাজি। কিন্তু আজ মুখে যে কিছুই উঠছে না।
সেই স্বপ্নটা যেন গ্রাস করে ফেলেছে তাকে। 

ভাবনার স্রোতে ভাসতে ভাসতে মমতাজউদ্দিন মজুমদার চলে গেলেন ২০ বছর আগে। তখন মাত্রই প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। এমনিতেই নিয়ম শৃঙ্খলার ব্যাপারে দারুণ কঠোর তিনি। এবার তো দায়িত্বটা আরো বেড়ে গেল। 

গন্ডার দিয়া সরকারী প্রাথমিক স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করার তেমন রেকর্ড নেই। মমতাজ স্যারের কল্যাণে এটি উপজেলার সেরা প্রাইমারী স্কুলের একটি। কিন্তু এবার সেই নিয়মের ব্যাতিক্রমটাই যেন ঘটলো। ক্লাস ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করলো পুর্ব পাড়ার সালমা। পুরো স্কুলে ফেল ওই একজনই।

সবাই যখন রেজাল্ট নিয়ে হাঁসিমুখে বাড়ির পথে, সালমা তখন দাঁড়িয়ে টিচার্স রুমের সামনে। এই মুখ নিয়ে বাড়ি যাবে কি করে? আবার স্যারদের সামনে যেতেও লজ্জা পাচ্ছে!
সালমার এমন অসহায়ভাবে দাড়িয়ে থাকার ব্যাপারটা খেয়াল করছিলেন স্কুলের পুরনো দপ্তরি রমজান আলী। তিনি জানতে চাইলেন, কিরে কী হয়েছে তোর?

সালমা পুরো ঘটনা খুলে বললো রমজান চাচাকে। রমজান আলীও তার মতো করে একটা বুদ্ধি বের করলেন। বললেন, কিছু টাকা এনে স্যারদের খাওয়াও। তারা তোমারে পাশ করাইয়া দিব।

প্রস্তাবটা খারাপ মনে হলো না সালমার। কিন্তু সমস্যা হলো ও টাকা পাবে কোথায়? বাড়িতে ফেল করার কথা বলবে নাকি চুরি করে টাকা জোগাড় করবে তাই নিয়ে দ্বিধায় থাকলো কিছুক্ষণ। কিন্তু ঘরে তো তেমন কিছুই নেই। কী বিক্রি করবে? তেমন কিছুই খুঁজে না পেয়ে চোখ গেল চালের ড্রামের দিকে। ঢাকনা খুলতেই দেখলো সেখানে কিছু চাল জমা আছে। তাই তুলে নিল গামছায়। বাজারে নিয়ে তা বিক্রি করে ৮ টাকা পেল।  

সেই টাকা নিয়ে যখন স্কুলে গেল তখন সাড়ে তিনটা বাজে প্রায়। কিছুক্ষণ পরই স্যাররা বাড়ি চলে যাবেন। ভাবলো, সংকোচ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কোন অর্থ হয় না। সালাম দিয়ে সালমা ঢুকে পড়ে টিচারদের রুমে।

কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখস্ত বুলির মতো বলতে থাকে, স্যার আমারে পাশ করাইয়া দেন। আমি ৮ টাকা নিয়া আইছি। এইটা দিয়া আপনাদের চা-বিস্কুট কিন্না দেই। আমারে ফিরাইয়া দিয়েন না স্যার। আমি ক্লাস সিক্সে উঠতে চাই। আমি পড়া লেখা করতে চাই।
জলিল স্যার বয়স্ক মানুষ। তার মেজাজ সারাক্ষণই চড়া। এমন কথা শুনে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন, তোর এত্তো বড় সাহস! ঘুষ দিতে আইছস। যা এক্ষুনি! জলিল স্যার তো মারতেই যাচ্ছিলেন। তাকে থামালেন তানিয়া ম্যাডাম।

মমতাজউদ্দিন পুরো বিষয়টাই দেখছিলেন। তিনি শিক্ষক মানুষ। নিয়মের বাইরে তো আর যেতে পারেন না। কিন্তু আবেগ বলেও তো একটা কথা আছে। কিছুক্ষণ ভাবলেন। শেষে সালমাকে ডেকে বললেন, আমাদের কিছুই করার নেই। ভালভাবে পড়াশোনা করো। পরেরবার পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠো।

স্যারদের এমন কথা আর আচরণের পরও বেশ ক্ষানিকক্ষণ সালমা দাঁড়িয়েছিল। চোখের জলও ফেলছিল। যদি তাতে কিছুটা দয়া হয়! কিন্তু হলো না।

এবার বিপদটাতো আরো বেড়ে গেল। ফেলের সঙ্গে যোগ হলো চুরি! কী করবে সালমা ভেবে উঠতে পারে না। অস্থিরতা বেড়ে যায় আরো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু কোন মুখে ফিরবে ও?

ভুঁইয়া বাড়ির বাগানের বেল গাছে সালমার ঝুলন্ত লাশ দেখে পরদিন ভোর হয় গন্ডারদিয়া গ্রামে। আ্ত্তহত্যা করে সালমা। সবাই এটাই জানতে পারে চুরির লজ্জা থেকে বাঁচতেই আ্তাাহুতি দিয়েছে ১১ বছর বয়সী মেয়েটি। 

স্বপ্নে দেখা এই বাস্তব ঘটনাই যখন পোড়াচ্ছিল মমতাজ স্যারকে, তখন আবার বাইরে থেকে ডাক আসে- স্যার চলেন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হইছে। স্কুলের দপ্তরি বদি মিয়া নিতে এসেছে মমতাজ স্যারকে। কিন্তু কিছুতেই যে সেখানে যেতে মন চাইছে না তার। তার মতো একজন ব্যর্থ মানুষের জন্য সংবর্ধনা-টংবর্ধনা কেন?

সালমার ওই মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করেন তিনি। ওই দিন তাকে পাশ করিয়ে দিলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটতো না। সবাই যাই জানুক তিনি জানেন এই মৃত্যুর জন্য তিনিই দায়ী।
স্বপ্নে দেখা সালমার সেই আর্তনাদ কানে বাজছে- স্যার আমারে বাঁচতে দিলেন না।
বাড়ির বাইরে থেকে বদি মিয়ার আবার তাড়া স্যার জলদি আসেন।
 
গ্রামের চিকন আইল ধরে মমতাজউদ্দিন ধরেছেন স্কুলের পথ। দূর থেকে শোনা যাচ্ছে মাইকে কেউ একজন বলছে এলাকার গর্ব, দুইবারের স্বর্ণপদক জয়ী সফল শিক্ষক মমতাজ স্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবেন।
 
শ্রেষ্ঠ, সফল, গর্ব এই শব্দগুলো জ্বালা দিতে থাকে স্যারকে। মমতাজউদ্দিন মজুমদার ভাবতে থাকেন, আজ এমন দিনে আমার ওই অপরাধের গল্পটাও সবার জানা উচিত। তাতে যদি পাপ বোধ কিছুটা কমে!

মাথা নিচু করে স্কুল মাঠ দিয়ে হেটে যাচ্ছেন মমতাজ স্যার। দু পাশে সহস্র হাতের করতালি। প্রায় সবাই তার ছাত্র-ছাত্রী। সবাই দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে প্রিয় স্যারকে। কিন্তু মমতাজউদ্দিন মজুমদার তখন অন্য এক জগতে! চোখের জল ফেলে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কানে বাজতে থাকে সেই মর্মস্পর্শী আর্তনাদ- স্যার আমারে বাঁচতে দিলেন না।

মাথাটা আরো নিচু হয়ে যায় স্যারের। পা যেন চলছেই না। হু হু করে উঠে মনটা। চোখে তখন নোনা জলের বন্যা।

২০ বছরের জমানো জলের ধারা কী এতো সহজে থামে!


Saturday, May 12, 2012

শুভকামনা ও অতল ভালবাসা



ভালবাসা নাকি বাতাসের মতো! আপনি চাইলেই তা দেখতে পারবেন না। কিন্তু ঠিকই অনুভব করতে পারবেন! এই যেমন আমি এখন সিলেট থেকে ২৪৮ কিলোমিটার দুরে থেকেও সাকি আর সুবর্নার ভালবাসা অনুভব করতে পারছি।
চায়ের শহরের দুটো মানুষ তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন দিনে আমাকেও পাশে চাইছে। আনন্দ ভাগাভাগির সময় যখন হলো তখন আমাকে তারা কাছের মানুষ ভাবছে, ভাল লাগলো! নাগরিক যন্¿না কিংবা নষ্ট সময় আমাদের এতোটাই স্বার্থপর করে ফেলেছে যে দুঃখের দিনেই কেবল বন্ধু-কাছের মানুষদের মনে পড়ে। সুবর্না-সাকি তেমন নয়! সুখটাও ওরা ভাগ করে নিতে জানে।

সাকির সঙ্গে পরিচয়টা মুঠো ফোনে। বছর ছয়েক আগে হবে হয়তো। হঠাত্ একদিন কথা হলো। এরপর পেশাদ্বারিত্বের টানেই কথা হতো প্রায় নিয়মিত। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্পকর্টা শুধুই পেশাদারিত্বে আটকে থাকেনি। সেটা না হলে কি আর পারিশ্রমিকের ব্যাপার ভুলে ওভাবে কেউ দিনের পর দিন লিখে যেতে পারে? ধন্যবাদ দিলে ছোট করা হয়ে যাবে সাকির ওই আন্তরিকতা!
সুর্বনার সঙ্গে পরিচয় ওই মুঠো ফোনেই। এরপর সেই পরিচয়টা দিন দিন মজবুত হয়েছে আরো। যখন সুবর্না নারী সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার জিতলো তখন মনে হচ্ছিল এ অর্জন যেন আমারও! কাছের কেউ সম্মানিত হলে নিজেকেও সম্মানিত মনে হয়।

সাকি-সুবর্না তাদের মধুরতম দিনগুলোর প্রতীক্ষায়। আমার দুজন প্রিয় মানুষ সারা জীবন সুখে-দুঃখে একসঙ্গে থাকার সিদান্ত নিয়েছে! ওদের জন্য অতল ভালবাসা, শুভকামনা। হাসি-মুখ দেখতে চাই সারা জীবন।

সুখী হতেই হবে...

Friday, March 30, 2012

রোদ্দুর


''সারাটা রাত দরজা ধরে দাড়িয়েছিলেম ঠায়
হঠাৎ দেখি রোদ পড়েছে ভোরের বারান্দায়..''

অনেক প্রতীক্ষার ‌‌‌পর 'রোদ্দুরে' দেখা মিলেছে.. :)))

Monday, March 12, 2012

মেঘ

..ছোট্ট মাহির সরওয়ার মেঘের এই ছবিটা সকালে পত্রিকার পাতায় দেখে মনটা বিষন্ন হয়ে উঠলো আরো। ব্যানারে মায়ের ছবি। মানববন্ধন-টন্ধন এইসব বোঝার বয়স হয়নি ওর। কিন্তু ব্যানারের ওই মানুষটা যে ভীষণ চেনা। তাইতো সরলতা নিয়ে তাকিয়ে আছে ওই ছবির মানুষটার দিকে

মা এখন কেবলই ছবি, যিনি আর কোনদিনই পরম মমতায় আদর করবে না ওকে! সাংবাদিক দম্পতি মেহরুন রুনি আর সাগর সরওয়ার হত্যার একমাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো কোন কুল-কিনারা পায়নি দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী!
অথচ হত্যার পরের দিনই স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই খুঁজে বের করা হবে অপরাধী!

আজ সত্যিই হতাশা ছুঁয়ে ফেলছে! 


Wednesday, December 21, 2011

জীবন বহতা নদীর মতো..



..একটা গোলাপ রাত-দিন অহর্নিশ মৌমাছির কথা ভাবতো, কিন্তু কখনোই তার পাপড়িতে এসে মৌমাছি বসেনি!

তাতে কি? গোলাপটি তারপরও স্বপ্ন বুনে যেতো। সারারাত জেগে সে ভাবতো সেই স্বর্গের কথা যেখানে অনেক অনেক মৌমাছি উড়ে এসে বসতো তার পাপড়িতে আর মমতাময় চুমুতে ভরিয়ে দিত তাকে! এভাবেই একসময় ঘুমিয়ে পড়তো। টিকে থাকতো পরের দিন পর্যন্ত যখন সূর্যের আলোতে তার ঘুম ভাঙতো।

আকাশের ওই চাঁদ জানতো তার এই একাকিত্বের কথা। এক রাতে চাঁদ তাকে জিজ্ঞেস করলো-তুমি যে এতো অপেক্ষা করো, অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাওনা?

-হয়তো হই। কিন্তু আমাকে যে চেস্টা করে যেতেই হবে।

কেন?

কারণ আমি যদি নিজেকে এভাবে মেলে না রাখি, তাহলে তো একদিন মিলিয়ে যাবো।

যখন একাকীত্ব সমস্ত সৌন্দর্যকে পিষে ফেলতে চায়, তখন টিকে থাকার একমাত্র উপায় মনকে মেলে রাখা...।

                                  .................................

এটা পাওলো কোয়েলোর লাইক দ্য ফ্লোইং রিভার (Like the Flowing River) বইয়ের রিমেনিং ওপেন টু লাভ গল্পের কিছুটা অংশ। যখন সত্যিই আমি ক্লান্ত হয়ে উঠি তখন এই গল্পটা বারবার অনুপ্রেরনা হয়ে উঠে আমার জন্য। কতোবার যে এটা পড়েছি হিসেব নেই। এর আগে ফ্লিকারেও একটা পোষ্ট করেছিলাম। তুলে রাখলাম আমার ব্লগে।

আমার অনুবাদ পড়ে ক্লান্ত হয়ে উঠলে মুল ইংরেজি অংশটি পড়ে নিতে পারেন।  


A rose dreamed day and night about bees, but no bee ever landed on her petals.

The flower, however, continued to dream. During the long nights, she imagined a heaven full of bees, which flew down to bestow fond kisses on her. By doing this, she was able to last until the next day, when she opened again to the light of the sun.

One night, the moon, who knew of the rose's loneliness, asked: 'Aren't you tired of waiting?'
'Possibly, but I have to keep trying.'
'Why?'
'Because if I don't remain open, I will simply fade away.'

At times, when loneliness seems to crush all beauty, the only way to resist is to remain open...

Tuesday, December 13, 2011

sombre


aaaand my mood is also very melancholic and moody... sometimes I just adrift. as if I fall asleep with eyes wide open in the public... I still see people in front of me talking and me saying yes, but my mind just Thirst For You.. though I would really like to be present, to be eager - so that time goes by quickly and I am sooooon back with you..., but I just can't... 

my mind just adrifts...


ফ্লিকারে অনেক আগে এই ছবিটি পোষ্ট করেছিলাম। কক্সবাজার থেকে ইনানী যাওয়ার পথে তোলা। বিষণ্ন, আমারই মতো।

পাখিটা আসলে কি বলতে চাইছে?

সেদিন রোদ ছিল না আকাশে। কুয়াশা উড়ছিল! শীতের অলস দুপুরে কিছুই ভাল লাগছিল না আমার। চারদিকে এতো হাসি, এতো উচ্ছাস কিছুই যেন টানতে পারছিল না আমাকে। সবার সঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু কারোর সঙ্গেই ছিলাম না! কতো কথাই বলছিল আমার বন্ধুরা। হেসে গড়িয়ে পড়ছিল একেক জন। আমি মাথা-নাড়ছিলাম। হাসি-হাসি মুখ করছিলাম। সঙ্গ দিচ্ছিলাম ওদের। অথচ কি নিয়ে কথা হচ্ছে, তারা কেনই বা এতো উচ্ছসিত- কিছুই যেন শুনছিলাম না সেদিন..!

এমন করে এর আগে কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলাম? এমন করে কেউ কি এর আগে বিষন্ন করে তুলেছিল আমাকে? এতোটা ভালোবাসা! এতোটা অনুভব!

ভাবছিলাম... ভাবছিলাম, কতো কিছু!

কি আশ্চর্য্য প্রায় তিন বছর পরে এসে এখনো আমার ভাবনাগুলো ঠিক একইরকম! এখনো আমি সেই আগের আমি! মানুষ নাকি বদলায়। তাহলে আমি কেন...

এখনো তেমন করেই তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠি আমি। অদ্ভুদ এক বিষণ্নতা অহর্নিশ ঘিরে থাকে আমাকে। হয়তো প্রশ্রয় পেয়ে আমার এইসব তৃষ্ণা, বিষণ্নতা কিংবা ভাবনা আমাকে গ্রাস করে ফেলছে, প্রতি দিন একটু একটু করে..! 

কোন খেয়ালে ভেসে যাচ্ছি আমি?

Sunday, December 11, 2011

শিরোনামহীন..

অনেক দিন আগের কথা.. অনেক অনেক দিন আগের গল্প। জানি না কেন কি ভেবে আকাশে উড়তে ইচ্ছে হলো! কেউ একজন আমাকে বললো- সম্ভব। পৃথীবির সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনুদিত এক বইয়ে নীল অক্ষরে লেখে দিলো, ‘কোন কিছুই অসম্ভব নয়। যদি যে নিরন্তর চেস্টা চালিয়ে যায়..'’ 


এরপর সকাল, বিকেল, সন্ধ্যে চলতে থাকলো আমার চেস্টা। নিরন্তর চেস্টা। প্রতীক্ষা দিনের পর দিন। তারপর একদিন খুব করে চেস্টা করলাম উড়তে! দু হাত দুদিকে বাড়িয়ে দিলাম.. চোখ বন্ধ করে শুন্যে ভাসিয়ে দিতে চাইলাম নিজেকে। হলো না! এতো চেস্টার পরও ওই পাখিটার মতো উড়তে পারলাম না
তাই বলে হাল ছাড়িনি। 


এখনো সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা চলতে থাকে আমার নিরন্তর চেস্টা! অসম্ভব কে সম্ভব করার সেই খেলা থামাই কি করে? নীল অক্ষরগুলো যে আমাকে প্রতিটি মুর্হুতেই বলে যাচ্ছে- ‘সম্ভব.. কোন কিছুই অসম্ভব নয়। যদি যে নিরন্তর চেস্টা চালিয়ে যায়..