Showing posts with label dhaka. Show all posts
Showing posts with label dhaka. Show all posts

Tuesday, July 5, 2016

এ কেমন ঈদ!

আজ চাঁদ উঠলে কাল ঈদ। না উঠলে পরশু! টিভি-রেডিওতে বাজতে থাকবে নজরুলের সেই 'কিংবদন্তি' হয়ে যাওয়া গান, ''ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ..'' প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে এরইমধ্যে যাত্রা পথের শত কষ্ট একপাশে সরিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন অনেকেই। নাড়ির টান বলে কথা!
কিন্তু সত্যিই কি এবার খুশির বারতা ছড়িয়ে ঈদ আসছে? যেমন একটা ঈদের জন্য ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রতীক্ষায় থাকেন, তেমনই কী এবারেরটি। প্রশ্ন থেকে যায়।
ইস্তাম্বুল আক্রান্ত; অতিথি পরায়ন বাংলাদেশ দেখল গুলশানে ভিনদেশী বন্ধুদের রক্তের বন্যা, কী হয়ে গেল এটা! হৃদয়ে রক্তক্ষরণ গোটা জাতির। বাগদাদের পর এবার খোদ জেদ্দা, মদীনাতেও বোমা হামলা! মসজিদে নববী আক্রান্ত! চারদিকে শুধু রক্ত আর কান্না। বিবর্ণ ধুসর প্রানহীন অন্য এক পৃথীবি, এই আমার ঢাকা!
এ কেমন ঈদ এলো এবার...

Sunday, April 20, 2014

ছিন্নপত্র..

জীবন অতীব সুন্দর.. সেই ছোট্ট বেলায় একদিন শেষ বিকেলে ঘরে ফিরতে ফিরতে আমি দেখেছি- বৃষ্টির শেষে আকাশে রঙ ছড়িয়ে হেসে উঠে রঙধনু.... :)

Friday, May 10, 2013

Bangladeshis are a nation of fighter



I cried in joy!! Rescue workers in Bangladesh free woman buried for 17 days in rubble of factory.. actually We Bangladeshis are a nation of fighter, same way she fought for life for last 17 days..

আমরা যারা অতি অল্পতে সাহস হারিয়ে ফেলি, একটুতেই ধরে নেই আমাকে দিয়ে হবে না, তাদের ঘরে বাধিয়ে রাখা উচিত এই ছবি। স্যালুট রেশমা!!

Tuesday, February 12, 2013

Spirit of '71 revives at Shahbagh

Spirit of '71 revives at Shahbagh

'Starting from February 5 in the year of 2013, hundreds of thousands of Bangladeshi citizens gathered in a place called Shahbag in the capital city of Dhaka to demand maximum punishment of war criminals of 1971. Then the movement started all over the world''

shahbag.org/

razakar should be hanged

razakar should be hanged

"We swear an oath that the leadership of the mass of people from the Gonojagaran Mancha (National Awakening Stage) will continue the movement from Teknaf to Tetulia until capital punishment is handed down to those Razakar and Al-Badr members who committed crimes against humanity like mass killing and rape in 1971.''

Thursday, June 14, 2012

‘পাপ’


(এটা ঠিক গল্প নয়। আমি আসলে গল্প লিখতে জানি না। সত্য ঘটনার চরিত্রগুলো ঠিক রেখে শুধুই নাম বদলে এখানে তুলে রাখলাম। এটা আমাদের স্কুলের স্যুভিনির জন্য লিখেছিলাম।)

চারদিকে যেন উত্সবের আমেজ। গন্ডার দিয়া গ্রামে পার্বন লেগেছে! মে মাসের এই সময়টাতে এমন দেখা যায় না। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মাইকিংয়ের শব্দ, পূর্বপাড়া থেকে পশ্চিমপাড়া। বাজারে, স্কুলের মোড়ে মসজিদে সবখানেই ওই একটাই আলোচনা। ছেলে-বুড়ো সবাই এমন এক সুরে কবে যে শেষ কথা বলেছে তা মনে করতে পারছিলেন না নব্বই ছুঁই ছুঁই করা ফজর আলী মেম্বার। 

হবেই না কেন? আজ যে গন্ডার দিয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মমতাজউদ্দিন মজুমদারের বিদায় সংবর্ধনা। বিদায়ের সঙ্গে কষ্টের বসবাস সব সময়ই। কিন্তু তার এই বিদায়ের রাগীনিতে উত্সবের ছোঁয়াটাও আছে। তিনি যে জাতীয় পর্যায়ে দুইবারের স্বর্ণপদক জয়ী শিক্ষক। এলাকার গর্ব। তার মতো একজন মানুষকে তো আর সাদামাটাভাবে বিদায় দেয়া যায় না। তাইতো গত দুই সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি চলছে। লেখা হয়েছে বিদায় বাণী, কেনা হয়েছে উপহার, তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। মনোহরদীর টিএনও সাহেব জানিয়ে দিয়েছেন তিনি হাজির থেকে বিদায় জানাবেন। মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে কিছুক্ষণ পর পর। ধারণা করা হচ্ছে, মাঠ উপচে পড়বে মানুষে। 

প্রিয় স্যারকে সংবর্ধনা দিতে চায় গ্রামের সবাই। কিন্তু যাকে ঘিরে এতো আয়োজন সেই মমতাজউদ্দিন মজুমদার সকাল থেকেই মনমরা হয়ে আছেন। দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙেছে সেই মাঝরাতে। এরপর ঘুমোবার কত যে চেষ্টা করেছেন লাভ হয়নি। মেডিটেশনের অভ্যাস আছে। সেটা করেও দুচোখের পাতা এক করতে পারেননি।

দুঃস্বপ্নটা কিছুতেই মন থেকে মুছতে পারছেন না। অথচ আজ গর্বভরে হাসিমুখে বিদায় নেয়ার দিন তার। তার অনেক পুরনো ছাত্রছাত্রীরা ব্যস্ততা রেখে এরই মধ্যেই গ্রামে চলে এসেছে। সবাই দিনটা স্মরণীয় করে রাখতে চায়। শ্রদ্ধা জানাতে চায় প্রিয় মমতাজ স্যারকে।
এইতো গতকাল শেষ বিকেলে আয়েশা এসেছিল তার স্বামী নিয়ে। সালাম করে গেছেন স্যারকে। আয়েশা এখন ঢাকায় থাকে। কাজ করে সচিবালয়ে। স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে তার সুখের সংসার। অথচ দারিদ্র্যতার ছোঁবলে পরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল সব কিছু। সেটা ৩০ বছর আগের গল্প। মমতাজ স্যারের বয়সও তখন তেমন কিছু নয়। ক্লাসের সবার খুটিনাটি আচরণই চোখে পড়তো তার। এভাবেই একদিন আবিষ্কার করলেন আয়েশা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ক্লাসেও আসছে অনিয়মিত। এক-দুই ক্লাস করে অসুস্থতার কথা বলে চলে যাচ্ছে বাড়িতে। অথচ মেয়েটা অনেক মেধাবী। নিশ্চিত ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে।

মমতাজউদ্দিন মজুমদার বুঝতে পারলেন কিছু একটা নিশ্চয়ই ঘটেছে। আয়েশার বাড়ি পাশের দাইদারি গ্রামে। সাইকেল নিয়ে সোজা চলে গেলেন সেখানে। খুঁজে বের করলেন আয়েশার বাবাকে। এরপরই বেরিয়ে আসলো ঘটনা।

তিনবেলার মধ্যে যদি একবেলাও খাবার না জুটে তাহলে কি আর পড়ায় মন বসে? স্কুল থেকে শরীর খারাপের কথা বলে এসে প্রায় প্রতিদিনই আয়েশা কাজ করতো পাশের ভুঁইয়া বাড়িতে। তাতেই জুটতো একবেলার খাবার। এমন ঘটনা নাড়িয়ে দিল মমতাজ স্যারকে। আয়েশার বাবাকে বললেন, বৃত্তি পরীক্ষার আগে ও আমার বাড়িতে থেকে পড়বে।
তাই হলো। তিন মাস পেট পুড়ে খেয়ে পড়াশুনা করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল আয়েশা। এরপর হাইস্কুলে পড়ার সময়ও খরচের একটা অংশ আয়েশাকে দিয়েছেন মমতাজ স্যার। উনার মতো মানুষের সংবর্ধনায় না থেকে কি পারা যায়?
এমন অনেকেই গতকাল এসে পা ছুঁইয়ে সালাম করে গেছেন তাদের প্রিয় স্যারকে।
কিন্তু মমতাজউদ্দিন মজুমদার স্বস্তিতে নেই। ফজরের নামাজ পড়ে সরকার বাড়ির পাশ দিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে এসেছেন। কথাও বলেছেন কয়েকজনের সঙ্গে। তারপরও মন ভাল হচ্ছে না। পুরনো একট স্মৃতি ফিরে এসেছে আবার। সবাই যেখানে তাকে সফল আর আদর্শ শিক্ষক বলছে, সেখানে নিজেকে শুধুই ব্যর্থ নয় অপরাধীও মনে হচ্ছে মমতাজ স্যারের।

গতকাল গভীর রাতে দেখা স্বপ্নটা যে নিছকই স্বপ্ন নয়। সেটা যে তার জীবনের ঘটে যাওয়া এক ঘটনা। আজকের এই বিদায়ের দিনে এসে নিজেকে আর ক্ষমা করতে পারছেন না তিনি।
এই যখন ভাবছিলেন, তখন বাড়ির বাইরে থেকে কেউ একজন ডাকছিলেন স্যারকে। অনিচ্ছা নিয়ে বিছানা ছেড়ে বাইরে গেলেন। গফুর চেয়ারম্যান এসেছেন। স্যারকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আপনার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। আমি ঠিক করেছি স্বর্ণের মেডেল আজ আপনার গলায় পড়িয়ে দেব।

সকালের নাস্তা পড়ে রয়েছে সামনে। বছর কয়েক আগে ডায়াবেটিস হয়েছে। তাইতো নিয়ম মেনে চলতে হয়। দুটো আটার রুটি আর আলুর ভাজি। কিন্তু আজ মুখে যে কিছুই উঠছে না।
সেই স্বপ্নটা যেন গ্রাস করে ফেলেছে তাকে। 

ভাবনার স্রোতে ভাসতে ভাসতে মমতাজউদ্দিন মজুমদার চলে গেলেন ২০ বছর আগে। তখন মাত্রই প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। এমনিতেই নিয়ম শৃঙ্খলার ব্যাপারে দারুণ কঠোর তিনি। এবার তো দায়িত্বটা আরো বেড়ে গেল। 

গন্ডার দিয়া সরকারী প্রাথমিক স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করার তেমন রেকর্ড নেই। মমতাজ স্যারের কল্যাণে এটি উপজেলার সেরা প্রাইমারী স্কুলের একটি। কিন্তু এবার সেই নিয়মের ব্যাতিক্রমটাই যেন ঘটলো। ক্লাস ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করলো পুর্ব পাড়ার সালমা। পুরো স্কুলে ফেল ওই একজনই।

সবাই যখন রেজাল্ট নিয়ে হাঁসিমুখে বাড়ির পথে, সালমা তখন দাঁড়িয়ে টিচার্স রুমের সামনে। এই মুখ নিয়ে বাড়ি যাবে কি করে? আবার স্যারদের সামনে যেতেও লজ্জা পাচ্ছে!
সালমার এমন অসহায়ভাবে দাড়িয়ে থাকার ব্যাপারটা খেয়াল করছিলেন স্কুলের পুরনো দপ্তরি রমজান আলী। তিনি জানতে চাইলেন, কিরে কী হয়েছে তোর?

সালমা পুরো ঘটনা খুলে বললো রমজান চাচাকে। রমজান আলীও তার মতো করে একটা বুদ্ধি বের করলেন। বললেন, কিছু টাকা এনে স্যারদের খাওয়াও। তারা তোমারে পাশ করাইয়া দিব।

প্রস্তাবটা খারাপ মনে হলো না সালমার। কিন্তু সমস্যা হলো ও টাকা পাবে কোথায়? বাড়িতে ফেল করার কথা বলবে নাকি চুরি করে টাকা জোগাড় করবে তাই নিয়ে দ্বিধায় থাকলো কিছুক্ষণ। কিন্তু ঘরে তো তেমন কিছুই নেই। কী বিক্রি করবে? তেমন কিছুই খুঁজে না পেয়ে চোখ গেল চালের ড্রামের দিকে। ঢাকনা খুলতেই দেখলো সেখানে কিছু চাল জমা আছে। তাই তুলে নিল গামছায়। বাজারে নিয়ে তা বিক্রি করে ৮ টাকা পেল।  

সেই টাকা নিয়ে যখন স্কুলে গেল তখন সাড়ে তিনটা বাজে প্রায়। কিছুক্ষণ পরই স্যাররা বাড়ি চলে যাবেন। ভাবলো, সংকোচ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কোন অর্থ হয় না। সালাম দিয়ে সালমা ঢুকে পড়ে টিচারদের রুমে।

কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখস্ত বুলির মতো বলতে থাকে, স্যার আমারে পাশ করাইয়া দেন। আমি ৮ টাকা নিয়া আইছি। এইটা দিয়া আপনাদের চা-বিস্কুট কিন্না দেই। আমারে ফিরাইয়া দিয়েন না স্যার। আমি ক্লাস সিক্সে উঠতে চাই। আমি পড়া লেখা করতে চাই।
জলিল স্যার বয়স্ক মানুষ। তার মেজাজ সারাক্ষণই চড়া। এমন কথা শুনে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন, তোর এত্তো বড় সাহস! ঘুষ দিতে আইছস। যা এক্ষুনি! জলিল স্যার তো মারতেই যাচ্ছিলেন। তাকে থামালেন তানিয়া ম্যাডাম।

মমতাজউদ্দিন পুরো বিষয়টাই দেখছিলেন। তিনি শিক্ষক মানুষ। নিয়মের বাইরে তো আর যেতে পারেন না। কিন্তু আবেগ বলেও তো একটা কথা আছে। কিছুক্ষণ ভাবলেন। শেষে সালমাকে ডেকে বললেন, আমাদের কিছুই করার নেই। ভালভাবে পড়াশোনা করো। পরেরবার পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠো।

স্যারদের এমন কথা আর আচরণের পরও বেশ ক্ষানিকক্ষণ সালমা দাঁড়িয়েছিল। চোখের জলও ফেলছিল। যদি তাতে কিছুটা দয়া হয়! কিন্তু হলো না।

এবার বিপদটাতো আরো বেড়ে গেল। ফেলের সঙ্গে যোগ হলো চুরি! কী করবে সালমা ভেবে উঠতে পারে না। অস্থিরতা বেড়ে যায় আরো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু কোন মুখে ফিরবে ও?

ভুঁইয়া বাড়ির বাগানের বেল গাছে সালমার ঝুলন্ত লাশ দেখে পরদিন ভোর হয় গন্ডারদিয়া গ্রামে। আ্ত্তহত্যা করে সালমা। সবাই এটাই জানতে পারে চুরির লজ্জা থেকে বাঁচতেই আ্তাাহুতি দিয়েছে ১১ বছর বয়সী মেয়েটি। 

স্বপ্নে দেখা এই বাস্তব ঘটনাই যখন পোড়াচ্ছিল মমতাজ স্যারকে, তখন আবার বাইরে থেকে ডাক আসে- স্যার চলেন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হইছে। স্কুলের দপ্তরি বদি মিয়া নিতে এসেছে মমতাজ স্যারকে। কিন্তু কিছুতেই যে সেখানে যেতে মন চাইছে না তার। তার মতো একজন ব্যর্থ মানুষের জন্য সংবর্ধনা-টংবর্ধনা কেন?

সালমার ওই মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করেন তিনি। ওই দিন তাকে পাশ করিয়ে দিলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটতো না। সবাই যাই জানুক তিনি জানেন এই মৃত্যুর জন্য তিনিই দায়ী।
স্বপ্নে দেখা সালমার সেই আর্তনাদ কানে বাজছে- স্যার আমারে বাঁচতে দিলেন না।
বাড়ির বাইরে থেকে বদি মিয়ার আবার তাড়া স্যার জলদি আসেন।
 
গ্রামের চিকন আইল ধরে মমতাজউদ্দিন ধরেছেন স্কুলের পথ। দূর থেকে শোনা যাচ্ছে মাইকে কেউ একজন বলছে এলাকার গর্ব, দুইবারের স্বর্ণপদক জয়ী সফল শিক্ষক মমতাজ স্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবেন।
 
শ্রেষ্ঠ, সফল, গর্ব এই শব্দগুলো জ্বালা দিতে থাকে স্যারকে। মমতাজউদ্দিন মজুমদার ভাবতে থাকেন, আজ এমন দিনে আমার ওই অপরাধের গল্পটাও সবার জানা উচিত। তাতে যদি পাপ বোধ কিছুটা কমে!

মাথা নিচু করে স্কুল মাঠ দিয়ে হেটে যাচ্ছেন মমতাজ স্যার। দু পাশে সহস্র হাতের করতালি। প্রায় সবাই তার ছাত্র-ছাত্রী। সবাই দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে প্রিয় স্যারকে। কিন্তু মমতাজউদ্দিন মজুমদার তখন অন্য এক জগতে! চোখের জল ফেলে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কানে বাজতে থাকে সেই মর্মস্পর্শী আর্তনাদ- স্যার আমারে বাঁচতে দিলেন না।

মাথাটা আরো নিচু হয়ে যায় স্যারের। পা যেন চলছেই না। হু হু করে উঠে মনটা। চোখে তখন নোনা জলের বন্যা।

২০ বছরের জমানো জলের ধারা কী এতো সহজে থামে!


Monday, March 12, 2012

মেঘ

..ছোট্ট মাহির সরওয়ার মেঘের এই ছবিটা সকালে পত্রিকার পাতায় দেখে মনটা বিষন্ন হয়ে উঠলো আরো। ব্যানারে মায়ের ছবি। মানববন্ধন-টন্ধন এইসব বোঝার বয়স হয়নি ওর। কিন্তু ব্যানারের ওই মানুষটা যে ভীষণ চেনা। তাইতো সরলতা নিয়ে তাকিয়ে আছে ওই ছবির মানুষটার দিকে

মা এখন কেবলই ছবি, যিনি আর কোনদিনই পরম মমতায় আদর করবে না ওকে! সাংবাদিক দম্পতি মেহরুন রুনি আর সাগর সরওয়ার হত্যার একমাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো কোন কুল-কিনারা পায়নি দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী!
অথচ হত্যার পরের দিনই স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই খুঁজে বের করা হবে অপরাধী!

আজ সত্যিই হতাশা ছুঁয়ে ফেলছে! 


Saturday, April 24, 2010

জীবন এতো ছোট কেন?


ঘুম ভাঙ্গলো শুনতে না চাওয়া খারাপ খবরটি শুনে। কায়সার ভাই জানালেন ''আপনাদের ভোরের কাগজ এর টিপু ভাই মারা গেছেন!'' দেশ টিভিতে নাকি তাই দেখাচ্ছে!
কথা শেষ না হতেই আমাদের টিপু ভাই, জহিরুল আহসান টিপু ভাইয়ের মুখটা কপ্পনা করছিলাম। খুব বেশি স্বাস্থ্য তো ছিল না। আবার বয়সও তো বেশি হয়নি। কি হয়েছিল? কেন এই হঠাৎ মৃত্যু?

কায়সার ভাই অবশ্য বিস্তারিত উত্তর দিতে পারলেন না। কথা হলো বন্ধু মুকুল শাহরিয়ারের সঙ্গে। জানালো ব্রেন হ্যামারেজ! দুমাস আগে স্ট্রোক হয়েছিল একবার। ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছিলেন জীবন বাঁচাতে হলে পত্রিকার এই টেনশয় ময় চাকুরি ছাড়তে হবে। কিন্তু নেশা নাম যখন জার্নালিজম, তখন তা আর কী ছাড়া যায়। পারেন নি টিপু ভাই। আবার যোগ দেন ভোরের কাগজে। গতকালও ঠিক ঠাক মতো অফিস করেছিলেন। বার্তা বিভাগের কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাকি বাসায় ফিরেন। উনার মা অসুস্থবেশ কিছুদিন ধরে। বাসায় ফিরে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন! কিন্তু এরপরই হঠাৎ অসুস্থহয়ে পড়লে তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। এরপর যা হওয়ার নয় তাই হলো। আর চোখ মেললেন না টিপু ভাই।
শুনেছি বয়স নাকি ৪৭ ছুয়েছিলেন কিছুদিন আগে। এটা কি চলে যাওয়ার সময়?
আমি যখন ভোরের কাগজ কাজ করতাম, তখনই টিপু ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। তিনি অনেক আগে থেকেই এই পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজকের কাগজ হয়ে আসেন এখানে। এরপর বেশ কয়েকবারই ভোরের কাগজ ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন পত্রিকায়। কিন্তু কি এক অদৃস্ট সুতোর টানে আবারো ফিরেছেন।
এবার আর ফেরার সুযোগ নেই।

বার্তা সম্পাদক টিপু ভাই প্রায়ই আমাদেরপাষন্ডবলে সম্বোধন করতেন। এটা অনেকটা আদরের ভঙ্গিতেই করতেন তিনি। কিন্তু কী অদ্ভুদ ব্যাপার, নিজেই পাষন্ডের মত স্ত্রী , দুই সন্তান আর পরিবার, বন্ধু সহকর্র্মীদের রেখে চলে গেলেন।
ভোরের কাগজে সকালে লাশ আনা হয়েছিল। আমি যেতে পারিনি। আসলে টিপু ভাইয়ের হাসি মুখটাই স্মৃতিতে ধরে রাখতে চেয়েছি আমি! কী লাভ কফিনে বন্ধী ওই জড় মানুষটাকে দেখে?

                                *************************

এই লেখা যখন লিখছি, তখন আরো একটা খারাপ খবর শুনলাম। খবর পেলাম, আমাদের মাসুদ ভাইয়ের বড় ভাইয়ের স্ত্রী আত্নহত্যা করেছেন। ট্রেনের নিচে নাকি আত্নাহুতি দিয়েছেন!
জানি না নিয়তির কোন খেলা। কেন এমন হয়? ভাবছি, আজ রাতে ঘুম হবে কি?

Sunday, April 11, 2010

আহ! শর্ষে ইলিশ!!


আমি খুব একটা ভোজনরসিক নই! অন্যভাবে বলা যায় খাবার-দাবার একটু এড়িয়েই চলি। কিন্তু আজ 'না' করলে হয়তো আক্ষেপই হতো অবলম্বন! রুপালি ইলিশের আমন্ত্রন এড়িয়ে যাই কী করে..বৈশাখের আগে এমন নিমন্ত্র কবুল করলাম।

কিন্তু পরিবেশনা যে এমন লোভনীয় হবে কে জানতো? খাবার আগে তাই ক্যামেরাবন্ধী করে রাখলাম। কি জিভে জল এসে গেছে? সেটাই তো স্বাভাবিক। বাঙালি মাত্রই ইলিশ প্রেমী। কিন্তু আগের সেই স্বাদ কি আছে? আমার নিজের অভিজ্ঞতাই এখন হয়তো গল্পের মতো শোনাবে। মনে আছে সেই ছোটবেলায় আমার বাবা ইলিশ নিয়ে বাজার থেকে ফিরতেন। মা রান্না করতেন আর পড়ার টেবিলে বসে সেই ইলিশের গন্ধ পেতাম আমরা আমরা ভাই-বোনরা মিলে অপেক্ষা করতাম কখন মা ডাকবেন।

এরপর খাবারের টেবিলের সেই স্বাদ লেখে হয়তো বোঝানো যাবে না। আহ, চোখ বুজলেই মনে পড়ে হারানো সেই দিন! ইলিশের তেলে ভাত যখন মাখাতাম-তখন সেটা আর ভাত থাকতো না, হয়ে উঠতো অমৃত! আবদার করতাম প্রায়ই- '' মা, আরো খানিকটা ইলিশ হবে?'' মা হাসি মুখে আরো একটা পিস তুলে দিতেন পাতে! একজন বায়না করলে সবাই মিলে শুরু হতো, '' আমার জন্যও একটা চাই'' মা সেই চেনা হাসি মুখে সামাল দিতেন আমাদের। খাওয়া শেষেও হাতে লেগে থাকতো অপুর্ব এক গন্ধ। ইলিশ দিয়ে ভাত গেলাম যে..!!

এখন সেই স্বাদ-গন্ধ কোথায়? যতো দিন যাচ্ছে সব কিছুই কেমন যেন বিবর্ন হয়ে উঠছে! জাতীয় মাছ হয়ে উঠছে দুর্লভ! মাঝারি সাইজের ইলিশের কেজি এখন ৭০০ টাকার মতো। সহজলভ্য সেই ইলিশ সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেকের। ইলিশ পাতে নিয়ে ভাবছিলাম সেই সব দিনের কথা! এমন রঙীন দিন কি আর কখনোই ফিরে আসবে না?

নস্টালজিক হয়ে উঠাকে প্রশ্রয় দিলাম না। কেননা, এখন যে শুধুই শর্ষে ইলিশে ভুরিভোজের সময়!!

Friday, April 9, 2010

ছবির হাট..


বৈশাখ এসে গেলো প্রায়! আরো একটা নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন..! চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে আজ ভালো করেই টের পেলাম নতুন আরেকটি বাংলা বছর এসে যাচ্ছে

পহেলা বৈশাখ যেমন হয়ে উঠেছে সার্বজনিন উৎসব, তেমনি মঙ্গল শোভাযাত্রাও হয়ে উঠেছে এর অংশ নতুন বছরের সেই সকালের শোভা যাত্রার প্রস্তুতি চলছে এখানে চারুকলার শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত, ভীষন ব্যস্ত! হাতে সময় খুব একটা নেই, দ্রুত তুলের আচড়ে রঙীন করে তুলছেন সবকিছু!

অন্যরকম মুগ্ধতা নিয়ে দেখছিলাম তাদের কাজ, শিল্পিত ছোঁয়া..! প্রতিবছরই যত্নের সঙ্গে এই কাজটি করে আসছেন তারা। আত্নার উৎসব বলে কথা! বেশ কয়েকবছর ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের এই আয়োজন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। রমনার বটমুলে সেই ভয়ানক সন্ত্রাসী হামলা প্রানের উৎসবের সামনে বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। রমনার বটমুল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই মুলত ঢাকার উৎসব।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় এনিয়ে লেখা হয়েছে-
(
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাযানট-এর গানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহবান। পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাযানটের শিল্পীরা সম্মিলত কন্ঠে গান গেয়ে। নতুন বছরকে আহবান জানান। স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃত পক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরী হয সেটি বট গাছ নয, অশ্বত্থ গাছ। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির নিপীড়ন সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছাযানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা।

ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয। এই শোভাযাত্রায গ্রামীণ জীবণ এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো নয রং-বেরঙের মুখোশ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ।)

আমাদের প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখের প্রতীক্ষায় আছি...