Showing posts with label bangla. Show all posts
Showing posts with label bangla. Show all posts

Friday, March 23, 2018

হেরে গেলে শেইম শেইম

১৬ কোটির এই দেশে প্রত্যেকেই একেক জন ক্রিকেট এক্সপার্ট। সবাই সবার চেয়ে বেশি বুঝে। এমন কী সাকিব-মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ক্রিকেট জ্ঞান বেশি পাড়া মহল্লার করিম-রহিম-আবদুল্লাহর! ফেসবুকের স্ট্যাটাসে তো এক যন্ত্রণা আছেই, সকাল থেকে যেখানে যাচ্ছি সেখানেই শুনছি এইসব এক্সপার্ট মাল-দের বিশ্লেষণ। সৌম্যকে কেন শেষ ওভারে দেয়া হল, কেন সাকিব এতো বাজে ক্যাপ্টেন্সি করল, কেন রুবেল তার শেষ ওভারে ২২ রান দিল... প্রশ্নের পর প্রশ্ন! যে করেই হোক জয়ই যেন শেষ কথা! জিতে গেলে হুররে, হুররে.. আর হেরে গেলে শেইম শেইম!
অথচ এইসব কুতুবরা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক মতো কখনো শেষ করেছেন বলে মনে হয় না! বিনীত অনুরোধ-অনেক হয়েছে- মাঠের ক্রিকেট নিছকই একটা বিনোদন। একটা টুর্নামেন্ট শেষ সামনে আরেকটা আসবে। তাছাড়া মুশফিক-মাশরাফিদের ব্রেড এন্ড বাটার নিয়ে না ভাবলেও চলবে। আমরা বরং চলুন নিজেদেরটা নিয়েই ভাবি।
ক্রিকেটারদের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা চলুন নিজেদের আয়নায় দেখি। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক মতো করি। তাহলে একসময় শুধু ক্রিকেট না. সব কিছুতেই ভারত, শ্রীলঙ্কা এমন কী ইংল্যান্ডের সঙ্গেও ফাইট দিতে পারবো আমরা!

Friday, April 15, 2016

শহুরে বৈশাখী মেলা

এমন মুগ্ধতা নিয়ে ফিরতে পারবো ভাবিনি! বাংলা একাডেমির চত্বরে যেন এক টুকরো গ্রাম, সেই ফেলা আসা দিনগুলো ফিরে এলো আবার। শহুরে ছোঁয়া থাকলেও কী নেই সেখানে। সেই পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, চরকি, নাগরদোলা, বাঁশের বাশি, চুড়ি, ফিতা, একতারা, দোতারা, বাঁশ-বেতের তৈরি কতো কি যে। আছে নারী উদ্যোক্তোদের নিয়ে আসা বাহারি রঙের কাপড়, মুখোশ, মাটির ও কাঠের তৈরি জুয়েলারি।

আবার মেলার সেই জিলিপি, মুড়ি, নাড়ু-মোয়া থেকে শুরু করে আছে নুডুলস-স্যুপও! সবচেয়ে ভাল লাগল বানিজ্য মেলার মতো এখানে অতিরিক্ত বানিজ্যের দেখা নেই। সাধ্যের মধ্যেই আছে সব কিছু। সঙ্গে বোনাস সন্ধ্যার লোক সঙ্গীত

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিসিকের বৈশাখী মেলা প্রথম শুরু হয় বঙ্গাব্দ- ১৩৮৫'তে। আমি গেলাম এই ১৪২৩-এ এসে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই বৈশাখী মেলা!

ফেলা আসা শৈশব কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফিরে পেতে আবার যাবো ভাবছি...

















Sunday, April 11, 2010

আহ! শর্ষে ইলিশ!!


আমি খুব একটা ভোজনরসিক নই! অন্যভাবে বলা যায় খাবার-দাবার একটু এড়িয়েই চলি। কিন্তু আজ 'না' করলে হয়তো আক্ষেপই হতো অবলম্বন! রুপালি ইলিশের আমন্ত্রন এড়িয়ে যাই কী করে..বৈশাখের আগে এমন নিমন্ত্র কবুল করলাম।

কিন্তু পরিবেশনা যে এমন লোভনীয় হবে কে জানতো? খাবার আগে তাই ক্যামেরাবন্ধী করে রাখলাম। কি জিভে জল এসে গেছে? সেটাই তো স্বাভাবিক। বাঙালি মাত্রই ইলিশ প্রেমী। কিন্তু আগের সেই স্বাদ কি আছে? আমার নিজের অভিজ্ঞতাই এখন হয়তো গল্পের মতো শোনাবে। মনে আছে সেই ছোটবেলায় আমার বাবা ইলিশ নিয়ে বাজার থেকে ফিরতেন। মা রান্না করতেন আর পড়ার টেবিলে বসে সেই ইলিশের গন্ধ পেতাম আমরা আমরা ভাই-বোনরা মিলে অপেক্ষা করতাম কখন মা ডাকবেন।

এরপর খাবারের টেবিলের সেই স্বাদ লেখে হয়তো বোঝানো যাবে না। আহ, চোখ বুজলেই মনে পড়ে হারানো সেই দিন! ইলিশের তেলে ভাত যখন মাখাতাম-তখন সেটা আর ভাত থাকতো না, হয়ে উঠতো অমৃত! আবদার করতাম প্রায়ই- '' মা, আরো খানিকটা ইলিশ হবে?'' মা হাসি মুখে আরো একটা পিস তুলে দিতেন পাতে! একজন বায়না করলে সবাই মিলে শুরু হতো, '' আমার জন্যও একটা চাই'' মা সেই চেনা হাসি মুখে সামাল দিতেন আমাদের। খাওয়া শেষেও হাতে লেগে থাকতো অপুর্ব এক গন্ধ। ইলিশ দিয়ে ভাত গেলাম যে..!!

এখন সেই স্বাদ-গন্ধ কোথায়? যতো দিন যাচ্ছে সব কিছুই কেমন যেন বিবর্ন হয়ে উঠছে! জাতীয় মাছ হয়ে উঠছে দুর্লভ! মাঝারি সাইজের ইলিশের কেজি এখন ৭০০ টাকার মতো। সহজলভ্য সেই ইলিশ সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেকের। ইলিশ পাতে নিয়ে ভাবছিলাম সেই সব দিনের কথা! এমন রঙীন দিন কি আর কখনোই ফিরে আসবে না?

নস্টালজিক হয়ে উঠাকে প্রশ্রয় দিলাম না। কেননা, এখন যে শুধুই শর্ষে ইলিশে ভুরিভোজের সময়!!