Showing posts with label bengali new year. Show all posts
Showing posts with label bengali new year. Show all posts

Sunday, April 11, 2010

আহ! শর্ষে ইলিশ!!


আমি খুব একটা ভোজনরসিক নই! অন্যভাবে বলা যায় খাবার-দাবার একটু এড়িয়েই চলি। কিন্তু আজ 'না' করলে হয়তো আক্ষেপই হতো অবলম্বন! রুপালি ইলিশের আমন্ত্রন এড়িয়ে যাই কী করে..বৈশাখের আগে এমন নিমন্ত্র কবুল করলাম।

কিন্তু পরিবেশনা যে এমন লোভনীয় হবে কে জানতো? খাবার আগে তাই ক্যামেরাবন্ধী করে রাখলাম। কি জিভে জল এসে গেছে? সেটাই তো স্বাভাবিক। বাঙালি মাত্রই ইলিশ প্রেমী। কিন্তু আগের সেই স্বাদ কি আছে? আমার নিজের অভিজ্ঞতাই এখন হয়তো গল্পের মতো শোনাবে। মনে আছে সেই ছোটবেলায় আমার বাবা ইলিশ নিয়ে বাজার থেকে ফিরতেন। মা রান্না করতেন আর পড়ার টেবিলে বসে সেই ইলিশের গন্ধ পেতাম আমরা আমরা ভাই-বোনরা মিলে অপেক্ষা করতাম কখন মা ডাকবেন।

এরপর খাবারের টেবিলের সেই স্বাদ লেখে হয়তো বোঝানো যাবে না। আহ, চোখ বুজলেই মনে পড়ে হারানো সেই দিন! ইলিশের তেলে ভাত যখন মাখাতাম-তখন সেটা আর ভাত থাকতো না, হয়ে উঠতো অমৃত! আবদার করতাম প্রায়ই- '' মা, আরো খানিকটা ইলিশ হবে?'' মা হাসি মুখে আরো একটা পিস তুলে দিতেন পাতে! একজন বায়না করলে সবাই মিলে শুরু হতো, '' আমার জন্যও একটা চাই'' মা সেই চেনা হাসি মুখে সামাল দিতেন আমাদের। খাওয়া শেষেও হাতে লেগে থাকতো অপুর্ব এক গন্ধ। ইলিশ দিয়ে ভাত গেলাম যে..!!

এখন সেই স্বাদ-গন্ধ কোথায়? যতো দিন যাচ্ছে সব কিছুই কেমন যেন বিবর্ন হয়ে উঠছে! জাতীয় মাছ হয়ে উঠছে দুর্লভ! মাঝারি সাইজের ইলিশের কেজি এখন ৭০০ টাকার মতো। সহজলভ্য সেই ইলিশ সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেকের। ইলিশ পাতে নিয়ে ভাবছিলাম সেই সব দিনের কথা! এমন রঙীন দিন কি আর কখনোই ফিরে আসবে না?

নস্টালজিক হয়ে উঠাকে প্রশ্রয় দিলাম না। কেননা, এখন যে শুধুই শর্ষে ইলিশে ভুরিভোজের সময়!!

Friday, April 9, 2010

ছবির হাট..


বৈশাখ এসে গেলো প্রায়! আরো একটা নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন..! চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে আজ ভালো করেই টের পেলাম নতুন আরেকটি বাংলা বছর এসে যাচ্ছে

পহেলা বৈশাখ যেমন হয়ে উঠেছে সার্বজনিন উৎসব, তেমনি মঙ্গল শোভাযাত্রাও হয়ে উঠেছে এর অংশ নতুন বছরের সেই সকালের শোভা যাত্রার প্রস্তুতি চলছে এখানে চারুকলার শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত, ভীষন ব্যস্ত! হাতে সময় খুব একটা নেই, দ্রুত তুলের আচড়ে রঙীন করে তুলছেন সবকিছু!

অন্যরকম মুগ্ধতা নিয়ে দেখছিলাম তাদের কাজ, শিল্পিত ছোঁয়া..! প্রতিবছরই যত্নের সঙ্গে এই কাজটি করে আসছেন তারা। আত্নার উৎসব বলে কথা! বেশ কয়েকবছর ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের এই আয়োজন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। রমনার বটমুলে সেই ভয়ানক সন্ত্রাসী হামলা প্রানের উৎসবের সামনে বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। রমনার বটমুল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই মুলত ঢাকার উৎসব।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় এনিয়ে লেখা হয়েছে-
(
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাযানট-এর গানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহবান। পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাযানটের শিল্পীরা সম্মিলত কন্ঠে গান গেয়ে। নতুন বছরকে আহবান জানান। স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃত পক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরী হয সেটি বট গাছ নয, অশ্বত্থ গাছ। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির নিপীড়ন সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছাযানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা।

ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয। এই শোভাযাত্রায গ্রামীণ জীবণ এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো নয রং-বেরঙের মুখোশ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ।)

আমাদের প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখের প্রতীক্ষায় আছি...