Sunday, August 23, 2020

জীবন সত্যিই সুন্দর

এমন একটা ব্যস্ত দিন শেষ হতেই ক্লান্তি উবে গিয়ে ‘শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল...’

জীবন সত্যিই সুন্দর 🏊 👣

Monday, August 10, 2020

কুলফি'র কাবুলিওয়ালা আশরাফুলের আনন্দ-বেদনার কাব্য!

 

 ‘এই কুলফি লাগবে কুলফি...’ -দূর থেকে কাছে আসছিল শব্দটা! গলিতে উঁচু গলায় এমন হাঁকডাকে কেমন যেন স্বস্তির পরশ ছুঁয়ে গেল। প্রচন্ড গরমের কারণে কিনা কে জানে কুলফি মালাই- শব্দ দুটো কানে আসতেই অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব করলাম। খাঁটি দুধে চিনি, এলাচ, বাদাম, কিশমিশ আর গরম মসলার মিশ্রণে এক অমৃত স্বাদের আইসক্রিম! ১৬শ শতাব্দীতে মুঘল সাম্রাজ্যে যে হিমায়িত মিষ্টান্নের পথ চলা, তার আঁতুড় ঘর এখন কুষ্টিয়া।

ঢাকার অলি-গলিতে কান পাতলে প্রায়ই ভেসে আসে- কুষ্টিয়ার রশিদ ভাইয়ের কুলফি মালাইয়ের বিজ্ঞাপন। সেটা কতোটুকু খাঁটি তা নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই! তবে সত্যিকারের কুলফি মালাই পেতে আপনাকে আসতে হবে সীমান্তবর্তী অঞ্চল কুষ্টিয়ায়।

 
খাঁটি দুধে চিনি, এলাচি, বাদাম, কিশমিশ আর গরম মসলার মিশ্রণে এক অমৃত স্বাদের আইসক্রিম

স্বাদের সঙ্গে সুঘ্রাণেরও যে নিবিড় একটা সম্পর্ক আছে, সেটা তুলোর মতো নরম কুলফিতে কামড় দিয়ে আঁচ করতে পারলাম। কুষ্টিয়ায় বেড়াতে এসে স্বাদ নেওয়া হলো কুলফি মালাইয়ের। দৌলতপুরের আল্লার দর্গায় দেখা মিলল ৩৭ বছর বয়সী যুবক মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে। যার জন্মের পরের পুরোটাতেই জড়িয়ে আছে লালন সাঁইজির অঞ্চলের এই ডেজার্ট!

কুমারখালির উত্তর কয়ার ছেলে আশরাফুল। এটা জানিয়ে রাখা ভাল- কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া আর শিলাইদহ'র বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেকেই পেশায় কুলফি বিক্রেতা! আশরাফুলও তাদের একজন। যিনি নিজের তৈরি কুলফি সিলভারের হাঁড়িতে নিয়ে ঘুরে বেড়ান কুষ্টিয়া আর কুমারখালীর রাস্তায়!

অভাবের সংসারে বেড়ে উঠা আশরাফুলের। বাবা নেশার জগতে গিয়ে বিক্রি করে দেন শেষ সম্বল ভিটেটুকুও। তিনভাই পড়ে যান অকুল পাথারে। ঠিক তখনই কিশোর আশরাফুল পেয়ে যান আব্দুল জলিল মিয়ার দেখা। এই নামটা এই অঞ্চলে বেশ বিখ্যাত। কারণ তার হাত ধরেই যে কুলফি সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি বেঁচে নেই, তার ছেলেরাই এখন বাবার ব্যবসা আর সুনামের হাল ধরেছেন।

 
আশরাফুলের কুলফি মালাই

জলিল মিয়ার কাছেই আশরাফুলের হাতেখড়ি। শিখেছেন কিভাবে গরুর খাঁটি দুধের সঙ্গে কিশমিশ, চিনি আর সামান্য মসলায় যাদুকরী স্বাদের মালাই তৈরি করা সম্ভব। ব্যস এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। আশরাফুল বলছিলেন, ‘ওস্তাদ শিখাই দিতিই আমি আর এলাকায় থাকলাম না। সুজা চইলি গেলাম ঢাকায়। মিরপুর, খিলগাঁও, ফার্মগেট ম্যালা জাগাতেই ফেরি কইরি বিক্রি করিছি কুলফি মালাই। বলতি পারেন এরপরই আমার দিন ফেরেছে!’

বাবা ছিলেন সংসার বিবাগী, অগোছালো। আশরাফুল পিতার বেখেয়ালি জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে একেবারেই এক সংসারী মানুষ। যখন হাতে কিছু পয়সা এলো আর দেরি করেন নি, ফিরে এসেছেন কুষ্টিয়ায়, কয়া গ্রামে। সংসার পেতেছেন। সন্তানও হয়েছে। নিজের জীবনের গল্পটা বলছিলেন, ‘বড় কিছু করার ইচ্ছা নিকো আমার। সব সুময় ঝামেলা মুক্ত থাকতি চাই। এই কারণেই ঢাকায় থাকলাম না। চইলি আলাম গ্রামে। এখন এক ছেলে আর এক মেয়ের সংসার আমার। ভালই আছি আমি।’

মহামারি করোনা এসে গরমে ব্যবসার ঠিক সময়ে বড় ক্ষতি করে দিয়েছে আশরাফুলের। এমনিতে মাস শেষে কম করে হলেও ২০ হাজার টাকা লাভ থাকে। কিন্তু করোনার সময়ে অনেকেই ভয়ে ঠান্ডা মালাই খেতে চায় না। আবার শীতকালে তো আইসক্রিম চলেই না। তখন অবশ্য বসে থাকার মানুষ নন আশরাফুল। কুষ্টিয়ার আরেক বিখ্যাত খাবার তিলের খাজা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

যদিও কুলফি মালাই বিক্রেতা হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে ভালোবাসেন তিনি। কারণ এই খাবারটায় যে তার নিজের স্বাদ, রুচি লেগে আছে। নিজের হাতেই প্রতিদিন তৈরি করেন কুলফি। প্রতিদিন ২০ কেজি দুধ জ্বাল দেওয়ার কাজটা অবশ্য তার ঘরণীই করে। স্বাদের বাকি সিক্রেট থাকে তার হাতে! ১০০ থেকে ১৫০ পিস কুলফি নিয়ে বের হন প্রতিদিন। ১০, ২০, ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় মেলে একেকটি কুলফি।

লালসালু কাপড়ে মোড়ানো সিলভারের পাতিলে বরফের আড়ালে রাখা কুলফি নিয়ে হাঁক দেন রাস্তায়, অলিতে গলিতে। আশরাফুলের কী ইচ্ছে করে না ব্যবসাটা আরও বড় করতে। নিজের নামে বিজ্ঞাপন করে আরও নাম কামাতে?


খাঁটি দুধের তৈরি কুলফি মালাই

-প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে কুলফি'র কাবুলিওয়ালা বলছিলেন, ‘বুঝতি পারছি আপনে রশিদের কথা বলতি চাইছেন। আসলে সত্যি হলো জিনিস ভালো হলি অ্যাডভার্টাইজের দরকার হয় না। মানুষ আপনেক এমনি খুঁজি নিবি।’ আশরাফুলের তৈরি খাঁটি দুধের কুলফিতে কামড় দিয়ে এই কথাটাই মনে হলো আমার! মনে হচ্ছে আমি নিজেও হয়তো এখানে পা রাখলে খুঁজে নেবো তাকে!

তবে কিছুতেই এই পেশায় নিয়ে আসতে চান না ছেলেকে। এভাবে ফেরি করা কষ্টের জীবন দিতে চান না ছেলেকে। আশরাফুল বলছিলেন, ‘ম্যালা সময় নিয়ে বানানো এরপর মাথায় করি ৩০ কেজি ওজনের পাতিল নিয়ে ঘুরি বেড়ানো অনেক কঠিন কাজ। এটা আমি কখনোই আমার ছেলেকে করতি দেবো না। ওকে বলেছি তুই মন দিয়ে পড়াশোনা কর। যা কষ্ট করার আমিই করি!’

কথাটা শেষ করেই অবশ্য জিভে কামড় দিলেন আশরাফুল। না একটুও কষ্ট নেই তার। তিনি সুখী। কোনো দুঃখ নেই। হাসি মুখে জানাচ্ছিলেন, ‘যখন আপনাগোর মতো মানুষরা আমার কুলফিতে কামড় দিয়ে দুটা প্রশংসা করে তখন সব ভুইলে যাই। মনে হয় আমার জন্মই তো হয়েছে কুলফি বেচার জন্য!’

এভাবে ভাবতে পারেন বলেই শত অভাবের মাঝেও আশরাফুলদের জীবন সুন্দর। তাদের বেঁচে থাকাটা আরও সুন্দর! কথাগুলো যখন ভাবছিলাম তখন কাছ থেকে আরও দূরে হারিয়ে গেল আশরাফুলের চড়া গলা-‘এই কুলফি লাগবে কুলফি...!’

Sunday, August 9, 2020

কেন?

অনেক দিন তো বাস মালিকদের স্বার্থ দেখা হলো, স্বাস্থ্যবিধিকে যখন বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে তখন ৬০% বাড়তি ভাড়াই দিয়ে যাবো কেন?
মহামারির সময়ে সাধারণের দুঃখ-কষ্টের কথা একটু ভাবুন, আগের ভাড়া ফিরিয়ে আনুন প্লিজ! স্বাস্থ্যবিধি শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব ঠিক রেখে দুই সিটে এক যাত্রী যখন বসানো হচ্ছে না, তখন বাড়তি ভাড়া দেবে কেন জনগন?

Monday, July 6, 2020

বিদায় কিংবদন্তি!

 আপনার গান শুনেই বেড়ে উঠেছি আমরা। বিনোদন মানেই তখন বাংলাদেশ বেতার। যেখানে সিনেমার গান মানেই এন্ড্রু কিশোর। অনুরোধের আসর, গানের ডালি, দুর্বার কিংবা নাজমুল হুসাইনের ধারা বনর্নায় ১৫ মিনিটের সিনেমার ট্রেলর! দুই ব্যাটারির রেডিও থেকে টেপ রেকর্ডার...আমাদের শৈশবের একটা দিনও সম্ভবত আপনার গান ছাড়া কাটেনি।

শুনতে না চাইলেও রেডিওতে, ক্যাসেট প্লেয়ার এমন কী পাড়া-মহল্লা কাঁপিয়ে মাইকে এখানে সেখানে কোথাও না কোথায় বেজে উঠতো আপনার গলায়... ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, কিংবা ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’। কতোশতবার শুনেছি ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস’... ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’,‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ‘ভালোবেসে গেলাম শুধু ভালোবাসা পেলাম না’, কিংবা ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া...এমন কতশত গান বলে শেষ করা যাবে না।

আমাদের সুখ-দুঃখ ভালবাসা-বিচ্ছেদ সবকিছুতেই আপনার একের পর এক যাদুকরি গান। প্লে-ব্যাক এন্ড্রু কিশোর ছাড়া হয় নাকি!

আহা সেইসব মধুর দিনের স্মৃতি ফের জাগিয়ে দিয়ে চলে গেলেন আজ। জীবনের গল্প ফুরাল! কিন্তু আপনার সুর, সেই দরদ, মায়ায় মোড়ানো কণ্ঠস্বর চাইলেও কোনদিনই ভুলতে পারবো না আমরা।

বিদায় কিংবদন্তি!

 

Friday, June 19, 2020

সাহসের শিকড় খুঁজে বেড়াই

 

২৩ বছর আগে শীতের এক শেষ বিকেলে চলে গিয়েছিলেন আপনি।

ক্লান্ত একটা দিনের শেষে গোধূলী যখন বিষন্ন আলো ছড়িয়েছে তখন আকাশ-পাতাল এক করে আমরা কেঁদেছি। আম্মা আর আমরা চার ভাইবোন! এখনো আমি কাঁদি, যা কিঞ্চিৎ প্রার্থনা তার শেষটাতে এসে আকুল হয়ে কাঁদি, নোনা জলের ঝাপটায় ঝাপসা হয়ে ওঠে চোখ! সেই চোখের জল শুকিয়ে গেলে গলার কাছে এসে কষ্টরা আহাজারি করে.. তখন আরও বেশি যন্ত্রণায় পুঁড়ি।

কেউ বুঝতে পারে না, কিন্তু এখনো এতোদিন পরও আপনাকে খুঁজে বেড়াই। জীবন যুদ্ধে খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে গেলে বটবৃক্ষের সেই ছায়া, শাসন আর সাহসের শিকড় খুঁজে বেড়াই।

জানি আপনি আর ফিরে আসবেন না আব্বা; কিন্তু ওপারে ওই দুনিয়াতে আপনি যেন সুখে থাকেন সেই প্রার্থনা করে যাই অহর্নিশ। করুণাময় নিশ্চয়ই শীতল ছায়া দিয়ে রেখেছেন আপনাকে। আর এটাও জানি নিশ্চয়ই সেই রহস্যময় জগতে বসেও বিশ্রাম নেই আপনার, আমাদের মঙ্গল কামনায় তসবিহ জপে যাচ্ছেন, ক্লান্তিবিহীন নিরন্তর....!

বাবা'রা তো এমনই হয়!

Thursday, December 26, 2019

পাগলাটে, আবেগী আর কর্মচঞ্চল

 ফেসবুকে হাই-হ্যালো, পরিচয়টা জাস্ট এতোটুকুই!

এরপর ভারত সফরে নভেম্বরে আসল পরিচয়ের শুরু। দিল্লির পর ভারতে যতোগুলো শহরে থেকেছি প্রতিটিতেই আমরা সহযাত্রী! আর এই সময়টাতেই নাজমুস সাকিবকে প্রতিনিয়ত নতুন ভাবে আবিস্কার করেছি। কর্ম চঞ্চল, প্রতিভাবান প্রাণবন্ত এক তরুণ!

অন্যরা যখন ভাবতে থাকে ধীর-সুস্থে রিপোর্ট কিংবা ভিডিওটা বানাবো, সাকিব তখন সেটা পাবলিশ করে ফেলে। চোখের পলকে গাড়িতে বসে, রাস্তায় হেটে, হোটেলে খেতে খেতে মোবাইলে চটজলদি বানিয়ে ফেলে দুর্দান্ত সব রিপোর্ট। ভারতে একমাস দেখেছি-সবার আগে ওর কাছে কাজ, তারপর অন্যকিছু।

না, একটু ভুল বলা হলো.. পরোপকারী সাকিবকেও দেখেছি। দিল্লির পাহাড়গঞ্জে সিম কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটা দিনই ও আমার পাশে ছিল। যে কোন সমস্যায় এগিয়ে এসেছে সবার আগে। আইডিয়া দিয়েছে। আবার বাস্তাবায়ন করতেও বাড়িয়েছে সহযোগিতার হাত!
সাকিবের মতো কেউ সঙ্গে থাকলে সফরটা সময়টা স্মরণীয় হতে বাধ্য! ভারতে বাংলাদেশের সফর কাভার- মনে রাখাই মতোই স্মৃতি!

Md Shakib, জন্মদিনে শুধু একটুও বলবো, আসছে বছরগুলো আরও ভাল কাটুক, সব স্বপ্নেরা ধরা দিক হাতের মুঠোয়; কিন্তু যেমন আছেন তেমনই থাকুন, পাগলাটে, আবেগী আর কর্মচঞ্চল!

শুভ জন্মদিন সাকিব
 
 

Sunday, November 17, 2019

অচেনা শহরে

 অচেনা শহরের পুরনো গলিতে 🇧🇩🇧🇩 — in Rajwada.

Friday, March 23, 2018

হেরে গেলে শেইম শেইম

১৬ কোটির এই দেশে প্রত্যেকেই একেক জন ক্রিকেট এক্সপার্ট। সবাই সবার চেয়ে বেশি বুঝে। এমন কী সাকিব-মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ক্রিকেট জ্ঞান বেশি পাড়া মহল্লার করিম-রহিম-আবদুল্লাহর! ফেসবুকের স্ট্যাটাসে তো এক যন্ত্রণা আছেই, সকাল থেকে যেখানে যাচ্ছি সেখানেই শুনছি এইসব এক্সপার্ট মাল-দের বিশ্লেষণ। সৌম্যকে কেন শেষ ওভারে দেয়া হল, কেন সাকিব এতো বাজে ক্যাপ্টেন্সি করল, কেন রুবেল তার শেষ ওভারে ২২ রান দিল... প্রশ্নের পর প্রশ্ন! যে করেই হোক জয়ই যেন শেষ কথা! জিতে গেলে হুররে, হুররে.. আর হেরে গেলে শেইম শেইম!
অথচ এইসব কুতুবরা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক মতো কখনো শেষ করেছেন বলে মনে হয় না! বিনীত অনুরোধ-অনেক হয়েছে- মাঠের ক্রিকেট নিছকই একটা বিনোদন। একটা টুর্নামেন্ট শেষ সামনে আরেকটা আসবে। তাছাড়া মুশফিক-মাশরাফিদের ব্রেড এন্ড বাটার নিয়ে না ভাবলেও চলবে। আমরা বরং চলুন নিজেদেরটা নিয়েই ভাবি।
ক্রিকেটারদের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা চলুন নিজেদের আয়নায় দেখি। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক মতো করি। তাহলে একসময় শুধু ক্রিকেট না. সব কিছুতেই ভারত, শ্রীলঙ্কা এমন কী ইংল্যান্ডের সঙ্গেও ফাইট দিতে পারবো আমরা!

Tuesday, March 6, 2018

‘নিন্দিত নন্দন’ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী


''একে একে শুখাইছে ফুল এবে, নিবিছে দেউটি''
দুপুর থেকেই কেমন যেন বিষন্নতায় ডুবে আছি। পেশাদারি সমর্পনের কাছে এইসব আবেগের মূল্য নেই বলেই হয়তো যা করার সবই করে গেলাম, দিনভর! প্রচন্ড ব্যস্ত একটা দিন শেষেও সেই একইভাবে যন্ত্রণায় দম বন্ধ হয়ে আসছে! কি যেন বলতে চাইছি, ঠিক বলে উঠতে পারছি না। কিছু কি হারিয়ে গেল, চিরতরে?
আপনি তো চলেই যেতে পারতেন সেই ৭১'এ! হায়েনারা তো শেষই করে দিতে চেয়েছিল আপনাকে। তারপরও অদম্য সাহস আর বিশাল ব্যক্তিত্বকে সঙ্গী করে মাথা উচু করেই প্রাণ দিয়ে গেছেন ঝরা পাতা, শুকনো ডাল, মরা গাছে! আমাদের শুনিয়েছেন স্রোতের বিপরীতে কী করে সাঁতরে যেতে হয়! লড়ে গেছেন আপনি শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত। অফুরন্ত প্রেরণার উৎস হয়েই থেকেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে!
তারপর এই স্বাধীনতার মাসে ঠিক সেই ৭১-এ চির বিদায়ের পথে পা বাড়ালেন। আপনার কাছে ঋণী হয়ে থাকছি আমি, আমরা আর গোটা বাংলাদেশ।
অতলান্ত শ্রদ্ধা-ভালবাসায় আপনি বেঁচে থাকবেন, আমাদের ‘নিন্দিত নন্দন’ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী!

Sunday, December 31, 2017

কুয়াকাটা!

যেখানে একটা এটিএম বুথ নেই, সেখানেই হোটেল, রিসোর্টে কার্ডে বিল দেয়ার ব্যাপারটা ভাবলে অন্যায় হবে। পকেটে করে টাকা নিয়ে আসবেন। থুতু দিয়ে টাকা গুনে নিতেই অভ্যস্ত রিসিপশনের কম বয়সী চাকুরে। তারচেয়ে বড় কথা ২৪ ঘন্টার বেশি জার্নির পর ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আপাতত এখানে না আসা ভাল।
''বড় সাবরা'' নজর না দিলে আপাতত কুয়াকাটার পর্যটন এলাকা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠার আভাস নেই। অথচ দেখার মতো কতো কিছুই তো আছে এখানে..