Monday, February 1, 2010

দলীয়করণ, লেজুড়বৃত্তি

এসএ গেমসের জন্য বাংলাদেশ কি এখন সত্যিই প্রস্তুত ছিল?’ গতকাল কোনোরকম ভনিতা না করে প্রশ্নটা করে ফেললেন নেপালের সাংবাদিক মনোজ গিমেরা। প্রশ্নটা সঙ্গত কারণেই করেছেন সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারের পঞ্চম দক্ষিণ এশিয়ান গেমস কাভার করতে আসা কাঠমান্ডুর এই সাংবাদিক। ১১তম এসএ গেমস শুরু হয়েছে তিনদিন হয়ে গেছে। কিন্তু সবকিছুই যে এখানে এখনও অগোছালো!
গতকালও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে তৈরি মিডিয়া সেন্টারের সংস্কার কাজ চলছিল। দিনের বেশিরভাগ সময় ধরে চলা ড্রিল মেশিন নিয়ে ঠোকাঠুকির কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে অনেক সাংবাদিককে। এটা তো গেল মিডিয়া সেন্টারের ভেতরের সমস্যা। সেখান থেকে বেরিয়ে যে সাংবাদিকরা অন্য ভেন্যুতে যাবেন তার সুযোগ নেই। শাটল বাসের ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও সেটা গতকাল পর্যন্ত কথা হয়েই থেকেছে, বাস্তবতার ছোঁয়া মিলেনি! জুডোর লড়াই দেখতে তাই নিজ উদ্যোগেই সাভার যেতে হলো শ্রীলঙ্কান সাংবাদিক মহিন্দা বিবেলকে। শ্রীলঙ্কান রেডিও লাখান্দার এই সাংবাদিক বলছিলেন, ‘আমি এর আগে কোনো গেমসেই এমনটা দেখিনি। দেশের বাইরে যখনই গেছি গেমস কাভার করতে সঠিক গাইডলাইন পেয়েছি আয়োজকদের কাছ থেকে। এখানে তেমনটা নেই। আমার তো মনে হয় ইসলামাবাদ ও কলম্বো গেমস এর চেয়ে ভালো ছিল। ওরা অনেক আন্তরিক ছিল। এখানে নিজের উদ্যোগেই ভেন্যুতে যেতে হচ্ছে।’
এখানেই শেষ নয়, ভেন্যুতে গিয়েও খুব একটা সহায়তা মিলছে না!গতকাল প্রশ্নগুলো উঠতেই আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ‘দেখুন আমি একা কি করব? যখনই যেটা আমার কানে আসে আমি সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। এখন আপনার কাছে শুনলাম সাংবাদিকদের শাটল গাড়ি নেই, সেটাও সমাধান করব।’ আগামীকাল থেকে হবে— এই বলে প্রসঙ্গটা এড়িয়ে গেলেন মহাসচিব।
কিন্তু গতকাল সাংবাদিকদের হাতে আসা বিওএ’র তৈরি গেমস গাইড নিয়ে ঠিকই বিব্রত হলেন কুতুবউদ্দিন। ভুলেভরা ওই গাইড গতকাল তুলে দেয়া হয়েছে গেমস কাভার করা সাংবাদিক, প্রতিযোগী, কর্মকর্তা এবং লিয়াজোঁ অফিসারদের হাতে। তথ্যগত একাধিক ভুলে সয়লাব এই গাইড। যা তৈরি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি শাহরিয়ার আলম। তাইতো রাজনীতি থেকে দূরে থাকেনি এই সঙ্কলন। প্রথম পৃষ্ঠা উল্টাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। এই গেমসের সঙ্গে এই ছবির রহস্য কি কে জানে! এখানেই শেষ নয়, তুলে ধরা হয়েছে শেখ মুজিবের সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী। গেমস গাইডে বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে তুলে ধরেছেন হাজারো ভুল তথ্য। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বানানো হয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক। একইভাবে আমার দেশ ক্রীড়া সম্পাদক এম. এম. কায়সারকে দেখানো হয়েছে যে, তিনি কর্মরত জনকণ্ঠ পত্রিকায়। এমন ভুলেভরা গেমস গাইড হাতে নিয়ে বিব্রত বিওএ মহাসচিব কাল বলছিলেন, ‘আমি জানি না ওরা কেন এমন ভুল করল। মহাসচিব হিসেবে এমন ব্যর্থতা আমারই।’ এই বলে এই প্রতিবেদকের সামনেই গেমস গাইডের প্রকাশক শাহরিয়ার আলম এমপির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন কুতুবউদ্দিন। কিন্তু টেলিফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে মহাসচিব জানিয়েছেন ভুলগুলোর জন্য তারা লজ্জিত!
এভাবে অতি উত্সাহীদের এমন কাণ্ড অবশ্য এবারই প্রথম নয়। শোনা গিয়েছিল এসএ গেমসের প্রথম আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি জুড়ে দেয়া হয়েছিল। পরে কয়েকজনের আপত্তির মুখে তা বাতিল হয়। ছাপানো হয় নতুন ডিজাইনের আমন্ত্রণপত্র। আবার শেখ মুজিবের নামে গেমসের নামকরণের কথাও বলেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু গেমসের নিয়ম অনুযায়ী সেটা করা সম্ভব নয় বলে তা বাতিল হয়ে যায়।তারপরও দক্ষিণ এশিয়ার এই গেমসকে ‘দলীয় রাজনীতি’র বাইরে রাখতে পারছেন না অতি উত্সাহীরা! ১৭টি স্বর্ণপদকের টার্গেট নিয়ে এবারের গেমসে লড়ছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত কোনো স্বর্ণপদক জেতা হয়নি স্বাগতিকদের।
তবে ‘দলীয়করণ, লেজুড়বৃত্তি ও অব্যবস্থনার’— ‘হীরক পদক’(!) এখনই গলায় ঝুলিয়ে ফেলেছেন গেমসের ছোট—বড় কর্তারা!আখের গোছাতে হবে যে!

Saturday, January 30, 2010

সন্ধ্যায় রঙিন স্টেডিয়াম

চোখ ধাঁধানো, জমকালো কিংবা বাংলাদেশে এই প্রথম! এমন কথা গত কয়েকদিন ধরেই বলছিলেন এসএ গেমস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজকরা। তাদের সেই কথায় বিশ্বাস না রেখেও উপায় ছিল না। টাকা যে কথা বলে! এবারের এসএ গেমস বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে উদ্বোধনী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে। হিসাবটা মনে রাখুন—৪৮ কোটি টাকা! সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ‘অ্যাকুয়েটিক শো’র রঙ্গিন ছটায় যা একটু আলোক ছড়াল। কিন্তু এই মিনিট পনের বর্ণিল আলোকরশ্মির আলোকমালা ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাকি পর্বগুলোতে নতুনত্ব ছিল কোথায়?
গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রায় তিনঘণ্টা স্থায়ী সেই ১১তম এসএ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল সোয়া ৪টায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতেই শুরু হয়ে যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আফগানিস্তানের অ্যাথলিটদের দিয়ে শুরু হয় মার্চপাস্ট। এরপর ইংরেজি বর্ণমালা অনুযায়ী মার্চপাস্টে অংশ নেয় অন্য ৭ দেশ। মার্চপাস্টে ৪৫৩ সদস্যের বাংলাদেশ দলের পতাকা ছিল কমনওয়েথ গেমসে স্বর্ণপদক জেতা শুটার আসিফের হাতে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ ক্রীড়া আসর ১১তম এসএ গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। মুহূর্তেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আকাশ ছেয়ে যায় শান্তির প্রতীক কবুতর এবং বেলুনে।সাবেক ১১ কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের হাতঘুরে শেষ পর্যন্ত মশাল আসে আরেক কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিনের হাতে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি ও সাবেক এই ফুটবলার জ্বেলে দেন ১০০ ফুট উপরে স্থাপিত গেমস মশাল।
এরপর ক্রীড়াবিদদের শপথ!মোবাইল কারাভ্যান দিয়ে তারপরই মাঠে আসেন দেশের তিন জনপ্রিয় শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, সাবিনা ইয়াসমীন এবং শুভ্র দেব। গানে গানে তারা স্বাগত জানান সবাইকে। গেমসের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দু’এক কথা বলার পরই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার চারটি লাইন আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর কাজী নজরুল ইসলামের গান অঞ্জলি লহমোরের সঙ্গে নেচে ওঠেন একঝাঁক নৃত্যশিল্পী। যার নেতৃত্বে ছিলেন দেশসেরা দুই নৃত্যশিল্পী শিবলী মুহাম্মদ এবং শামীম আরা নীপা। এমন আয়োজন ভারতেশ্বরী হোমসের মেয়েদের অংশগ্রহণ ছাড়া চিন্তা করা যায় না। এবার ঠিক প্রজাপতির সাজে তারা হাজির হয়েছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। সেই চেনা গান ‘প্রজাপ্রতি প্রজাপ্রতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা..!’
রঙিন সাজ পোশাকে আসা সেই পারফরমারদের মনে হচ্ছিল বুঝি সত্যি সত্যিই উড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়! এই পারফরম্যান্সের রেশ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই মাঠে আসে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ছেলেরা। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’—এই গানের সঙ্গে তারা ফুটিয়ে তোলে স্বাধীনতার নানা রূপকচিত্র। সঙ্গে গ্যালারির একপাশে ঢাকা ইডেন কলেজের মেয়েদের ক্যালিসথালিক শো চলেছে! সেখানে অবশ্য রাজনীতিকে দূরে রাখা হয়নি। কারণে অকারণে বেশ কয়েকবারই ভেসে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি! জাগ্রত বাংলাদেশ পর্বের এক পর্যায়ে বাংলার ঐতিহ্যের অংশ ঢোল নিয়ে নামে পারফরমাররা। চলে নাও ছাইড়া দে পাল ওড়াইয়া দে’র সঙ্গে মিক্সড তাকধুম তাকধুম বাজে বাংলাদেশের ঢোল! সঙ্গীত আর নাচে মনে হচ্ছিল পদ্মার ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছে মাঠে!সাঁওতাল বিদ্রোহের গৌরব ইতিহাস ইলা মিত্রের ‘নাচোলের রানী’র গীতিকাব্য পরিবেশনাও ছিল অনুষ্ঠানের কিছু অংশজুড়ে। এখানে ৬০০ সাঁওতাল শিল্পী অংশ নেন।
এমন চেনা ও এর আগে অনেকবার দেখা পর্বগুলো শেষ হতেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের রাতের আকাশ রঙ্গিন হয়ে ওঠে। শুরু হয় অ্যাকুয়েটিক শো। যেখানে লেজার শো’র সঙ্গে জলের বুকে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। বাংলাদেশের মানুষদের পাশে দাঁড়ানো বিটলস গায়ক জর্জ হ্যারিসন, ৭ মার্চের ভাষণ সেখানে উঠে এলেও দেশের অনেক মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ছিলেন তাদের এই পাণ্ডুলিপির বাইরে!
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেই প্রত্যাশার বেলুন চুপসে যাওয়ার পর এবার পদকের লড়াই! বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা ১৭টি সোনার পদকের লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকেই নেমে পড়বে মাঠ, ট্র্যাক, সুইমিং পুল, কোর্ট আর শুটিং রেঞ্জে। সময় এখন দেখার আমাদের ‘অলিম্পিক’ গেমস কতটা আমাদের হয়ে ওঠে!

Friday, January 29, 2010

আমাদের অলিম্পিক গেমস

কথায় আছে, যায় দিন ভালো যায়! বহুল প্রচলিত এ কথার যৌক্তিকতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে আমাদের যাপিত জীবনে। আজ থেকে ঢাকাসহ ৫টি বিভাগীয় শহরে শুরু হচ্ছে এ অঞ্চলের ‘অলিম্পিক গেমস’ বলে পরিচিত এসএ গেমস! অথচ একদিন আগেও খেলার পাতার প্রায় পুরোটাজুড়েই ছিল ক্রিকেট। এর আগে যে দুবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ ক্রীড়া আসর, তখন এমনটা চোখে পড়েনি। ১৯৮৫ ও ১৯৯৩ সালের সে আসর ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে উন্মাদনা ছড়িয়েছিল শুরু হওয়ার মাসখানেক আগেই। দিন গণনায় ব্যস্ত থেকেছে মিডিয়াগুলো! সবাই প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছে কখন শুরু হবে গেমস!
আজ অন্যরকম এক আবহের মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে এসএ গেমসের ১১তম আসর। যেখানে ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহের পারদ নিচেই থাকছে। কিন্তু এরই মধ্যে এ গেমসে অংশ নিতে ঢাকায় চলে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার অপর সাত দেশ আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিক বাংলাদেশের অ্যাথলিটরাও ট্র্যাকে কিংবা মাঠে নামার অপেক্ষায়। ২৩টি ডিসিপ্লিনে ১৫৮টি স্বর্ণ পদকের জন্য লড়বেন ২ হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী! গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে সংবাদমাধ্যমকে যখন এ তথ্য দিচ্ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার তখনও এসএ গেমসের ক্রীড়া স্থাপনাগুলোতে চলছিল হাতুড়ি-বাটালের ঠোকাঠুকির শব্দ!
১৭০ কোটি টাকা বাজেটের এ আসর উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টা আগেও শেষ হয়নি অনেক ভেন্যুর নির্মাণ এবং সংস্কার কাজ। তার চেয়েও বড় কথা গেমস ঘিরে যেমন স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি করা হয় এখানে তেমনটা নেই। অনেকটা হযবরল অবস্থার মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে সবকিছু! যদিও আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ গতকাল বলছিলেন, ‘এটার সঙ্গে অন্যসব ক্রীড়া আসরকে মেলানো ঠিক হবে না। এটা অলিম্পিক কিংবা কমনওয়েলথ গেমস নয়। আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে ভালো করার চেষ্টা করেছি। আর আপনাদের এটা জানিয়ে রাখছি আয়োজন সবাইকে মুগ্ধ করবেই।’সেই মুগ্ধতা আজ থেকেই শুরু হবে! চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আজ বিকাল সোয়া ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এ আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপরই থাকছে চোখ ধাঁধানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মনোমুগ্ধকর হতে তো বাধ্য। উদ্বোধনী আর সমাপনী অনুষ্ঠানের পেছনেই যে খরচ হচ্ছে ৪৮ কোটি টাকা! দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি ১৩৩ মিনিটের তিন পর্বের এ অনুষ্ঠানে থাকবে অ্যাকুয়েটিক শো! ফ্রান্স থেকে এরই মধ্যে আনা হয়েছে ১৮ বাই ৪০০ ফুটের পুল! যেখানে জলের ঝড় তুলে সবাইকে মুগ্ধ করার প্রতীক্ষায় পারফরমাররা। মোট ২২ হাজার পারফরমার যুক্ত হচ্ছেন এ আয়োজনে।উদ্বোধনী আর সমাপনী অনুষ্ঠানই কিন্তু গেমস নয়। মাঝের ১০ দিনই হবে সত্যিকারের গেমস। পদক জয়ের জন্য অ্যাথলিটরা গতির ঝড় তোলার চেষ্টায় থাকবেন ট্র্যাকে। জলের বুকে ঝড় তুলবেন সাঁতারুরা। শুটাররা খুঁজবেন সঠিক নিশানা! আর এখানে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা স্বর্ণের দেখা পেলেই এদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে সত্যিকার অর্থে জমে উঠবে গেমস। এবারের এসএ গেমসে ১৭টি সোনার পদক জয়ের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে অনেক ডিসিপ্লিনের অ্যাথলিটরা অনুশীলন শুরু করলেও অনেকের মনে আছে আক্ষেপ। অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে অনেক অ্যাথলিটের প্রস্তুতির ঘাটতিও থাকছে!
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি অন্য ৪ বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেট প্রস্তুত। আজ থেকে ক’দিন হয়তো সবার জীবনযাত্রায় যোগ হবে নতুন এ অধ্যায় এসএ গেমস। স্টেডিয়ামমুখী যারা হতে পারবেন না তাদের জন্য থাকবে টেলিভিশনে সরাসরি ২৩ ডিসিপ্লিনের পদক জয়ের লড়াই দেখার সুযোগ। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হবে ১৭টি জায়ান্ট স্কিন!এরই মধ্যে ল্যাম্পপোস্টের গায়ে লেগে থাকা ব্যানার-ফেস্টুনের সংখ্যা বেড়েছে! জাতীয় পাখি দোয়েলের নতুন নতুন সাজ চোখে পড়ছে সবার।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কাল নিশ্চিত করেছে স্পোর্টস ভিলেজ না করতে পারলেও পুরো বাংলাদেশই সাজবে নতুন সাজে! হাজারো সমস্যা ঘিরে থাকা দেশের ১৫ কোটি মানুষ কিছুদিন অন্তত উত্সবের অনুষঙ্গ পাবে। প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের জন্য দেড়শ’ কোটিরও বেশি মানুষের সামনে নিজেকে তুলে ধরার এইতো সুযোগ!

Monday, December 14, 2009

দাদাগিরি আনলিমিটেড

বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমার অধ্যায় শেষ হয়েছে সেই আশির দশকে। মহানায়ক না ফেরার দেশে চলে গেছেন ১৯৮০ সালের অপয়া ২৪ জুলাই! দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও রোমান্টিক ছবির প্রসঙ্গ উঠলে এখনও সেই উত্তম কুমারে ফিরে যায় সবাই। যেমনটা হয় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। ভালোবাসা কিংবা বিরহ, আমাদের যাপিত জীবনের যে কোনো আবেগ প্রকাশের জন্য জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির ওই মহাপুরুষটির সাহিত্যকর্মই তো বাঙালির অবলম্বন! তার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় সবকিছু!রবি ঠাকুরকে ছাপিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস এখনও কেউ দেখায়নি ভারতবর্ষে। সেটার বোধকরি সুযোগও নেই! কিন্তু উত্তম কুমারের সেই চিরায়ত রোমান্টিক ইমেজ একজন ঠিকই পেরিয়ে যেতে পারতেন। একজন ঠিকই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারতেন তার ওই আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। তেমনটাই মনে করেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চিন্ময় রায়! তিনি এমন একজন মানুষের নাম বলেছেন যেটি শুনে আবার বিষম খাবেন না। সৌরভ গাঙ্গুলী—ভুল পড়েননি, সৌরভ গাঙ্গুলীই। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এই অধিনায়ক যদি সিনেমায় নামতেন, উত্তমের মতোই সফল হতেন কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু!চিন্ময় রায়ের কথায় ‘যদি’র ব্যাপারটা থাকছে বলে ওই প্রসঙ্গ তুলে রাখাই ভালো! কিন্তু মহারাজ সৌরভ যে বাঙালির ‘বোকা বাক্সে’ রীতিমত আলোড়ন তুলেছেন। মাঠে সেই স্টেপ আউট করে ছক্কা মারার মতোই টেলিভিশন অ্যাঙ্করিংয়েও ম্যাজিক। একেবারে শান্ত গলায় ভণিতাবিহীন তার সেই উপস্থাপনায় ‘দাদাগিরি’ নামের অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা ওপার বাংলা ছাপিয়ে আছড়ে পড়ে এখানেও। টিআরপি রিপোর্ট বলছে, দুই বাংলা মিলিয়ে এ যাবতকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান এটিই।লর্ডসের ব্যালকনিতে ইংরেজদের সেই নাক উঁচু মানসিকতাকে একহাত দেখিয়ে জার্সি খুলে লাফানো সৌরভকে এবার দেখা গেছে সম্পূর্ণ অন্য ভূমিকায়। সেই অ্যাগ্রেসিভ ব্যাপারটা উধাও। কুইজ শো’র আদলে তৈরি অনুষ্ঠানের প্রতিযোগীদের সঙ্গে মিশে গেলেন ঠিক পাশের বাড়ির ছেলের মতো। সেই তারকা ইমেজের বালাই ছিল না। আর তাই তো বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপ্যাধায় থেকে শুরু করে যারাই অতিথি হয়ে এসেছেন সৌরভের, তারাই মুগ্ধ হয়েছেন উপস্থাপনায়। অনেকেই সবুজ মাঠের ২২ গজে ব্যাট হাতে শাসন করা সৌরভের টিভি পর্দায় সাবলীল উপস্থাপনা দেখে অবাক হয়েছেন। তবে সেই অবাক হওয়াদের দলে নেই ইরফান পাঠান। একটি পর্বে তিনিও ছিলেন দাদাগিরি’র অতিথি। ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার বলছিলেন
—‘পেশাদার উপস্থাপকদের চেয়ে দাদার (সৌরভ) এমন ভালো উপস্থাপনা দেখে আমি কিন্তু অবাক
হচ্ছি না। আমি
আগেও বলেছি, কমেন্ট্রিতে গেলে দাদা সেরাদের একজন হতেন! অসাধারণ ব্যক্তিত্বই এগিয়ে
দেয় সৌরভকে।'
অথচ ভারতীয় একটি টিভি চ্যানেলে দেড় ঘণ্টার সেই কুইজ অনুষ্ঠান শুরুর আগে তেমন প্রস্তুতি ছিল না সৌরভের। অবশ্য তিনি নিজেও ভাবেননি, সপ্তাহের তিন দিন রাতে চলা এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে এমন উন্মাদনা হবে। ৬ মাস চলার পর এখন শেষ প্রান্তে তার এই দাদাগিরি। কিন্তু চ্যানেলটির কর্তাব্যক্তিরা কিছুতেই ছাড়ছেন না তাকে। এরই মধ্যে তার হাত দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে তাদের অ্যাকাউন্টে। সৌরভের অনুষ্ঠান মানেই স্পন্সরদের লম্বা লাইন। মুম্বাইয়ের পত্রিকা মিড-ডে জানাচ্ছে, দাদাগিরি নাকি শুধু বাংলায় নয়, হিন্দিতেও হবে। ভারতীয় জাতীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে এটি।তবে আপাতত লাইট-ক্যামেরা অ্যাকশনের পর্ব শেষ! আগামী সপ্তাহে শেষ হবে দাদাগিরি’র প্রথম পর্ব। সৌরভ ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কলকাতা নাইট রাইডার্স নিয়ে। আইপিএল ভাবনা এখন মাথায়। তাই টিভি পর্দার লাজুক আর রোমান্টিক নায়কের চেহারা নিয়ে উপস্থাপনা করা সৌরভকে ভুলে যান। কেননা, এবার যে মাঠের গুগলি অপেক্ষায় আছে তার!অনেকটা রূপকথার জাদুকরের মতো সৌরভ যেটাতেই হাত দিয়েছেন সেটাই সোনা হয়েছে! এবার শেষের শুরুটা ভালো করার মিশন! এরই ফাঁকে চিন্ময় রায়ের প্রস্তাবটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে কিনা কে জানে? মহারাজ চাইলে ঠিকই পারেন!

Sunday, October 11, 2009

গাহিয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম...


সদ্য প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম যেমনটা গেয়েছিলেন-‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’- আসলেই তাই, আগের দিনগুলোই বরং সুন্দর ছিল আমাদের। বিনোদনের জন্য এমন নৌকাবাইচ কিংবা আরও অনেক অকৃত্রিম খেলা বেছে নেয়া হতো। কিন্তু দিন পাল্টে গেছে, এখন এই প্রজন্মের কিশোর-তরুণরা কম্পিউটার গেমস কিংবা এ জাতীয় কৃত্রিম আনন্দতেই গা ভাসিয়ে দেয়! আমাদের গ্রামগুলোও পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত। তারপরও মাঝে মধ্যে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। নদীপ্রধান বাংলাদেশে চলে নৌকাবাইচ। এ মাসের শুরুতে নরসিংদীর মেঘনা নদীতে এমনই এক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে এখনও যে সবার আগ্রহ আছে সেটাই দেখা গেছে। হাজারো উৎসুক মানুষ মুগ্ধ হয়ে দেখেছে মাঝিমাল্লাদের এই লড়াই।

কিন্তু কথা হলো, দু-একটা বিচ্ছিন্ন আয়োজন কি বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠা এই গ্রামবাংলার লড়াইকে? মনে হয় না। এখনই পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে হয়তো হারিয়েই যেতে পারে নৌকাবাইচের মতো নির্মল বিনোদন। তখন হয়তো ভাটি অঞ্চলের বাউল সম্রাটের ওই গান আরও বেশি আবেদন নিয়ে ধরা দেবে আমাদের কাছে!

Wednesday, July 8, 2009







Saturday, May 2, 2009

আবারো...

প্রতিদিনই অফিসে এসে কাগজে লিখে রাখি- 'আজ আমাকে এই কাজগুলো করতে হবে, করতেই হবে। এক, দুই তিন এভাবেই সিরিয়াল করা থাকে। আজ হিসেব করে দেখলাম আমার সেই প্রব্লেম লিস্টের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেটাই তো স্বাভাবিক। কাজ যে কিছুতেই এগুচ্ছে না...
মনটা ভালো নেই, অনেক দিন হলো, পেছনে হাটছি শুধু। যতো দিন যাচ্ছে মনে হচ্ছে ব্যর্থতার এই বৃত্ত থেকে বুঝি বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় কোনভাবেই। আশাবাদী হয়ে উঠার মতো কিছুই তো হচ্ছে না চারপাশে। আবারো নিজেকে অসহায় অার অচেনা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি আমার নিয়তি...

Friday, April 17, 2009

আইপিএল



সল্পúাসী হামলার ভয়, সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন দুই মিলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) আকাশে জমেছিল কালো মেঘ! মনে হচ্ছিল বুঝি মিলিয়ন ডলারের এই কিদ্ধকেট উৎসব তার ™ি^তীয় সংস্ট‹রনে এসেই থমকে যাবে। কিল্পøু লোকসভা নির্বাচন, অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা সল্পúাসীদের চোখ রাঙ্গানি কোন কিছুতেই থেমে যায়নি আইপিএল টু! ভেন্যু দেশ বদলে দনি আফিদ্ধকাতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিশে^র সবচেয়ে ধনী কিদ্ধকেট বোর্ডের এই বিগ ইভেন্ট। ২০ ওভারের এই লড়াইয়ে এবারো অংশ নিচ্ছে ৮টি দল। আজ কেপটাউনে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় চেল্পুাইÑমুল্ফ^াই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে আইপিএল। ৫৯ ম্যাচ শেষে ২৪ মে জোহানেসবার্গে ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের দুই সেরা দল।
টি টুয়েন্টি কিদ্ধকেট দুনিয়ায় এখনো নতুনই। যখন যাত্রা শুরু হয়েছিল সংপ্টিø এই কিদ্ধকেট লড়াইয়ের নাক সিটকেছিলেন অনেক বিশেèষকই। বলেছিলেন এটা তো শুধ্ইু পিকনিক কিদ্ধকেট। এটা কখনোই ঠিক সত্যিকারের কিদ্ধকেটেরও ওই মেজাজ কিংবা মর্যাদা পাবেনা। মর্যাদার প্রসংঙ্গ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে কিল্পøু মেজাজ ঠিকই পেয়ে গেছে! আসলে টাকা কথা বলে। অর্থই যেন বদলে দিয়েছে সব হিসেব। এখন এটা শুধু বিনোদনই নয় ধুল্পব্দুমার লড়াইও। সেই লড়াই শুরু হয়ে যাচ্ছে আজ। যা থেকে বাদ থাকছেন না এবার বাংলাদেশও। গতবার আইপিএলে ছিলেন শুধুই আমাদের আ¦ন্ধুর রাজ্জাক। এবার নাম লিখিয়েছেন মাশরাফি মতুর্জা এবং মোহাম্মদ আশরাফুল। মাশরাফিকে নিয়ে তো আইপিএল নিলামে রীতিমতো কাড়াকাড়ি হয়েছে প্রীতি জিনতা আর জুহি চাওলার মধ্যে। সেই লড়াইয়ে জিতেছে জুহি’র কলকাতা নাইট রাইডার্স। আসলে জয় হয়েছে মাশরাফিরই। তিনি পাচ্ছেন ৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে আশরাফুলকে কিনেছে শচীনের মুল্ফ^াই। সন্দেহ নেই দুটি দলই পাবে বাংলাদেশী কিদ্ধকেটপ্রেমীদের সমর্থন।
তবে ক্রিকেট শুধু ওই সবুজ মাঠ জুড়েই থাকছে না। মাঠের বাইরেও ¹è্যামারের ছড়াছড়ি। বলিউড কিং শাহরুখ খান মাতবেন মাশরাফিদের নিয়ে। প্রীতি জিনতার দল পাঞ্জাব। রাজস্ট’ানের মালিকানায় জড়িয়েছেন আরেক নায়িকা শিল্কপ্পা শেঠী। সব মিলিয়ে আসলে এটা কিদ্ধকেটের বাইরেও অনেক কিছু!
বিকেল আর রাতের সময় আজ থেকে টেলিভিশনের সব সিডিউল বদলে ফেলুন।

Saturday, April 11, 2009

মার্মা রুপকথা!


রীতিমত রহৃপকথার গল্কেপ্পর মতোই শোনায় সবকিছু! রাঙ্গামাটির পুরানপুরা পাড়ার কোনো এক পাহাড়ে জুম চাষ নিয়ে ব্যস্টø থাকাটাই যেন তার জন্য ছিল স্ট^াভাবিক। পহৃর্বসুরীরা তো তাই করে এসেছেন। জুম চাষ, ঘরকল্পুা আর মাঝে-মধ্যে বৈসাবি উৎসবের মতো কিছু একটাÑএভাবেই তাদের সময় গেছে ফুরিয়ে।
কিল্পøু চিং ম্রাউ মার্মা এভাবে তার ছেলে-মেয়েরা বেড়ে উঠুক তা চাননি। চেয়েছেন ওরা জীবনটাকে আরো বেশি করে দেখুক। বুঝতে শিখুক রাঙ্গামাটির এই পাহাড় ছাড়িয়েও জীবন আছে। সমতল ভূমির সেই লড়াই জীবনকে সুন্দর করে দেয় আরো। তাই তো সেই ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন অবাধ স্ট^াধীনতা। কখনোই এটা শুনতে হয়নি যে ‘তোমার এটা করতে হবে না। ওটা কর!’
তাই বলে ফুটবলার হবেন? ঢাকায় এসে ফুটবল খেলবেন?Ñনা, এতটা ভাবেননি সাইনু প্রু মার্মা। তবে ঢাকায় এসে দুঃখ ঘোঁচানোর একটা তাগিদ তো ছিলই সব সময়। সুযোগটা এসে গেল ২০০৩ সালে। ঢাকা থেকে একদল মানুষ এসেছেন মহিলা ফুটবলার খুঁজতে। খবরটা শুনে সহপাঠীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে যান সাইনু নিজেও। স্ট‹ুলে অ্যাথলেটিক্সে সেরা হলেও তখন ফুটবলে লাথি দেয়াই জানতেন না তিনি। তারপরও সাইনুর উচ্চতা আর ফিটনেস মু¹ব্দ করে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ করতে যাওয়া ফুটবল কোচদের। ৫৫ জনের মাঝ থেকে তুলে নেয়া হয় তাকে।
রাঙ্গামাটির সেই জীবন শেষে সাইনুর জন্য শুরু হয় আরেক লড়াই। চলে আসেন ঢাকায়। প্রথমে সখীপুরে আনসার ক্যা¤েক্স ঠিকানা হয় তার। এখনো তাদের সঙ্গেই আছেন। তবে মাঝের সময়টাতে ঘটে গেছে অনেক কিছু। আনসারের সেই সীমানা ডিঙ্গিয়ে তিনি উঠে এসেছেন জাতীয় দলে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তো সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেন ‘সাইনু শুধু আমাদের দেশের সেরা মহিলা ফুটবলারই নয়, দণি এশিয়ার সেরাদের একজন।’ গলা মেলালেন আনসার মহিলা ফুটবল দলের কোচ রেহানাও ‘আসলেই অসাধারণ ফুটবলার সে। তার দুই পা-ই সমান চলে। যেটা সচরাচর দেখা যায় না। ওর ¯ল্ট্যামিনাও দুর্দাল্পø।’ এরই মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে সফর করেছেন বেশ কয়েকটি দেশে। তবে সামনে তার স্ট^পু পহৃরণের মিশনÑএসএ গেমস। সেখানে মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশকে পদক এনে দেয়ার জন্য লড়বেন সাইনু। নিজের ব্যক্তিগত ল্য সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া।
সেই স্ট^পু হয়তো পহৃরণ হয়েও যেতে পারে। কিল্পøু আসলেই কি স্ট^পু পহৃরণ হবে পুরানপুরা পাড়া পাইলট হাইস্ট‹ুলের দশম শ্রেণীতে পড়া সাইনু প্রু মার্মার?
সেই ইঙ্গিত এখন কোথায়? সচ্ছলতার আশায় পাহাড় থেকে চলে এসেছিলেন সমতল ভূমিতে। কিল্পøু সেই সচ্ছলতার দেখা মিলেনি। আেেপর সঙ্গে বলছিলেন সাইনু ‘আমার ছোট বোন মাইনুও ফুটবল খেলে। সেও আমার সঙ্গে জাতীয় দলে আছে। আমাদের এলাকায় অনেকেই মনে করেন ফুটবল খেলে আমরা নিশ্চয়ই কোটি টাকা আয় করছি। কিল্পøু আমাদের অবস্ট’াটা এখন এরকম যে মাঝে-মধ্যে রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকায় আসার টাকাও পাচ্ছি না।’ এখানেই থামলেন না দেশসেরা এই মহিলা ¯ল্ট্রাইকার। সঙ্গে যোগ করলেন ‘দেখুন আমাদের পরে এখানে শুরু হয়েছে মহিলা কিদ্ধকেট। অথচ কিদ্ধকেট বোর্ড অনেক সুবিধা দিচ্ছে তাদের। সে তুলনায় আমরা কিছুই পাচ্ছি না।’
তবে হতাশ নন সাইনু, তার বিশ^াস কাজী সালাউদ্দিন ঠিকই পথ দেখাবেন তাদের। দাঁড়াবেন পাশে। মিলবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিণের সুযোগ এবং সচ্ছল জীবন। সাইনু মনে করেন সেটা করলেই কেবল সত্যিকার অর্থে জেগে উঠবে দেশের মহিলা ফুটবল। জাতীয় দলে নাম লেখাতে প্রস্টøুত থাকবে লল্ফ^া লাইন!
আর না হলে সাইনু মার্মার মতো স্ট^পু দেখতে থাকা তরুণী আর কিশোরীদের স্ট^পেুর মৃত্যু হবে অচিরেই। তখন হয়তো ফুটবল রেখে পাহাড়ের সেই জুম চাষেই জীবনের মানে খুঁজবেন তারা। নারী জাগরণ নিয়ে কথা বলা মানুষদের কানেও হয়তো যাবে না সাইনু-মাইনু কিংবা অন্য পাহাড়িদের এই জীবন সংগ্রামের গল্কপ্প।
ওদের এই সংগ্রামের শেষটা রঙিন করার দায়িÍ^ এখন ফুটবল কর্তাদেরই।

Saturday, April 4, 2009

রাজকন্যা মিলল কিন্তু.

রাজ্য এবং রাজকন্যা-দুটোর হাতছানিই ছিল তার সামনে! সুপার কাপে যেভাবে খেলছিলেন, তাতে টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর ফাইনাল। কোটি টাকার সেই ম্যাচটি জিততে পারলে রাজকন্যা, মানে লাল টুকটুকে ওই গাড়ি এবং রাজ মানে সুপার কাপ। দুটোই মিলত!
কিন্তু চেনা ছকের মতো হিসেবটা এখানে ঠিক মিলল না। টুর্নামেন্ট সেরার গাড়ি পেলেন এমিলি। কিন্তু দল পেল না সুপার কাপ। কোটি টাকার টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার সপ্তাহহখানেক পরও তাই আপে থাকল তার, ‘আসলে টুর্নামেন্ট যখন শুরু হয়েছিল, তখন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশন নিয়েই শুরু করেছিলাম। আপনাদের সবার বিশে›ষণেই তো আমাদের ফেভারিট ধরা হয়েছিল। ফাইনাল পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল; কি কিন্তু আসল ম্যাচেই পাল্টে গেল সবকিছু।’
ফাইনালের ™ি^তীয় মিনিটে ইনজুরিতে পড়লেন। খেললেন মাত্র ৩৪ মিনিট। আপনার ইনজুরিই কি সব শেষ করে দিল?
Ñআমি ঠিক সেভাবে দেখছি না। দেখুন, ট্রফি জিততে হলে কিল্কপ্পস্টুু ভাগ্যেরও সহায়তা চাই। ফাইনালেও ভালো খেলেছি আমরা; কিল্কপ্পস্টুু গোল পাইনি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও হতাশ। ইনজুরি শেষ করে দিল সবকিছু। গাড়িতে উঠলেই হয়তো দুঃখটা তাড়াবে আমাকে।
গাড়ি হলো এবার...
কথায় আছে বাড়ি, গাড়ি তারপর নারী...! বাড়ি তো ছিলই, এখন পেলেন গাড়ি! বিয়ে করছেন কবে?
এমন প্রশল্ফু শুনে রীতিমত লাজুক, বলতে থাকলেন, ‘না, সেসব নিয়ে এখনো ভাবছি না! কাব ও জাতীয় দলে আরো কিছুদিন খেলতে চাই। এরপরই ভেবে দেখব এসব।’ তবে একটা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কথা ভাবতে হচ্ছে এখনই। না, হলে যে ‘মোস্টল্কল্ট ভ্যালুয়েবল প্টেল্ট›য়ারে’র গাড়িটা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনের গ্যারেজেই শোভা পাবে। তবে আর বেশিদিন নয়, জাতীয় দলের ব্যস্টল্টস্টুতা একটু কমলেই ড্রাইভিং শিখে নেবেন এমিলি। এরপরই ইচ্ছে আছে, একদিন এই গাড়ি নিয়ে হাজির হয়ে যাবেন গ্রামে, শৈশবের বল্কপ্প¦ন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন, ইচ্ছেমত...

বেড়ে ওঠা...
এমিলি বেড়ে উঠেছেন এমন একটা পরিবেশে, যেখানে তিনি ফুটবলার না হলেই হয়তো অবাক হতে হতো। তার বাবা ইদ্রিস আলী পিরোজপুর অঞ্চলের সেরা ফুটবলার ছিলেন। প্রায়ই ভাড়াটে ফুটবলার হিসেবে তাকে নিয়ে যাওয়া হতো; কিল্কপ্পস্টুু ইদ্রিস আলীর স্টল্ট^পল্ফু পহƒরণ হয়নি। বরিশাল ছেড়ে উঠে আসতে পারেননি ঢাকায়। খেলা হয়নি জাতীয় দলে।
তবে আসলেই কি স্টল্ট^পল্ফু পহƒরণ হয়নি? প্রত্য না হোক পরোভাবে হয়েছে ঠিকই। ৫ সল্কপ্পস্টুানকে দিয়ে নিজের অপ্রাপ্টিল্টস্টু ঘুচিয়েছেন তিনি। তার বড় দুই ছেলেÑলিটন এবং সাকিল খেলছেন ব্রাদার্স ইউনিয়নে। এরপরই এমিলি, তিনি তো এখন দেশসেরা স্টল্কল্ট্রাইকার। চতুর্থ সল্কপ্পস্টুান খেলছেন খুলনা আবাহনীতে। এই পরিবারের সবার ছোটটি এখন পড়ছেন বিকেএসপিতে। শুধু নিজের পরিবারই নয়, এমিলির চাচা-মামারাও ছিলেন ফুটবলার।
তাই তো সেই ছোটবেলায় তার পায়ে উঠেছিল বল। উদয়কাঠি গ্রামের মানুষ আসলে ফুটবলপাগল। বিকাল হতেই তার ছুটে যেতেন মাঠে। এমিলিও অনুসরণ করতেন তাদের। বাবার যেহেতু আপত্তি ছিল না; মুক্ত মনে খেলে যেতেন ফুটবল। এভাবেই যখন এগিয়ে যাচ্ছিল সবকিছু; তখন বল্কপ্প¦ন্ধুরা এমিলিকে বলতে থাকে, ‘তুই এবার ঢাকা চলে যা। বিকেএসপিতে ভর্তি হ।’
বাবাকে এই ইচ্ছার কথা জানাতেই নিয়ে আসেন ঢাকায়। ১৯৯৯-এ ভর্তি করিয়ে দেন বাংলাদেশ ক™ব্দীড়া শিা প্রতিষ্ঠানে। যতটা সহজে বলা হলো এটি, বিষয়টা ততো সহজ ছিল না। রীতিমত ভর্তিযু™¦ন্ধ শেষে পাস সার্টিফিকেট পেয়েছেন তিনি। এরপর পাটিগণিতের সহƒত্রের মতো দুইয়ে দুইয়ে চার করে এগিয়ে চলছে জীবন। যেমনটা বলছিলেন এমিলি, ‘আসলে আমার মাথায় সবসময় বাবার স্টল্ট^পল্ফু পহƒরণ করতে হবেÑএমন একটা তাগিদ ছিল। এভাবেই এক সময় আমি অনহƒর্ধ্ব ১৪ দলে ডাক পাই। এরপর অনূর্ধ্ব-১৬, সে সময় আমি হাসানুজ্জামান বাবলু স্যারের নজরে পড়ি আমি। ২০০১-এ আমি ডাক পাই অনহƒর্ধ্ব-২০-এ। যদিও তখন আমার বয়স একেবারে কম। সে সময় জর্জ কোটান আমার অনুশীলন দেখে পছন্দ করেন। ২০০২-এ অনহƒর্ধ্ব-২০ খেললাম পাকিস্টল্টস্টুানে। একই বছর যাই কাতারে। তখনই আমি যোগ দেই ব্রাদার্সে। সে কাবে আমার বড় ভাই খেলতেন। সেই ২০০২ থেকেই আমি আছি প্রিমিয়ার লীগে।
২০০৩-এ বিকেএসপি চলে যাই। এসএসসি পরীা দিই। এরপর আবার ফিরে আসি ঢাকা লীগে। তিন মৌসুম খেলেছি ব্রাদার্সে। এরপর ২০০৭-০৮ থেকে আবাহনীতে। এখনো সেখানেই আছি।’
এর পরের গল্ক‹প্টপ্প তো সবার জানা। আবাহনীতে যোগ দিয়েই চলে আসেন আলোচনায়...
গৃহযু™¦ন্ধ!
আবাহনী সমর্থকদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে দুঃসংবাদ! ধানমন্ডির এই কাবে খেললেও এমিলির সেই শৈশবের প্রিয় দল মোহামেডান। এ নিয়ে ছোটবেলায় অনেক ঝগড়া হতো ভাইদের সগ্ধেগ। তেমনি এক ঘটনার কথা শোনাচ্ছিলেন এমিলি, “সালটা আমার মনে নেই। তখন আবাহনীতে মুল্কপ্পল্ফুা ভাই খেলতেন। মোহামেডানে সাব্বির ভাই। তখন লীগের আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের দিন মানেই আমাদের ঘরে ‘গৃহযু™¦ন্ধ’। আমরা ভাইরা তখন দুই ভাগে বিভক্তÑআবাহনী-মোহামেডান। একবার হলো কী, আমি বাঁশ কেটে তার মাথায় মোহামেডানের পতাকা লাগালাম। বাসার সামনে সেটা উড়তে থাকল। কিল্কপ্পস্টুু কিছুণ পরই আমার বড় ভাই এসে সেই বাঁশে ঝুলালেন আবাহনীর পতাকা। এ নিয়ে তো তুমুল যু™¦ন্ধ আমাদের মধ্যে। শেষ পর্যল্কপ্পস্টু বাবা সমাধান করলেন। দুই কাবের পতাকা উড়ল এক বাঁশে। মনে পড়লে এখনো হাসি পায়।’
নাম কাহিনী এবং স্টল্ট^পল্ফু ....
‘আমি যখন জল্প§ নিই তখন সম্রাট হোসেন এমিলি দেশসেরা স্টল্কল্ট্রাইকার। তাকে দেখেই বাবা আমার নাম রাখেন এমিলি। তবে সম্রাট হোসেন নয়, জাহিদ হোসেন। নিজের নাম রহস্যটা এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন এই প্রজল্পে§র অন্যতম সেরা স্টল্কল্ট্রাইকার এমিলি।
তবে তিনি নিজে ভালো করেই জানেন, নামে কিছু যায়-আসে না। কাজই হলো আসল। তাই তো জীবনের ল্যটাও ঠিক করে ফেলেছেন তিনি, ‘আসলে অবাস্টল্টস্টুব স্টল্ট^পল্ফু দেখতে চাই না আমি। জানি আমার সীমাব™¦ন্ধতা। সব মিলিয়ে ভাবছি, দণি এশিয়ার সেরা স্টল্কল্ট্রাইকার হতে পারলেই আমি খুশি।’
আর জাতীয় দলের হয়ে টার্গেট?
Ñঅবশ্যই এসএ গেমস ফুটবলের সেরা। দণি এশিয়ান অঞ্চলে এক সময় বেশ দাপট ছিল আমাদের। কিল্কপ্পস্টুু দিন বদলে গেছে। আমি আবারো সেইদিন ফিরিয়ে আনার জন্য লড়তে চাই সামনে থেকে।
এর মধ্যে এমিলি জানালেন ভারতীয় লীগ থেকেও খেলার প্রস্টল্টস্টুাব এসেছিল তার। কিল্কপ্পস্টুু ব্যস্টল্টস্টু থাকায় জেসিটির সেই প্রস্টল্টস্টুাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে সময়-সুযোগ হলে, আবারো প্রস্টল্টস্টুাব এলে ভেবে দেখবেন।
এবং কি™ব্দকেট
এমিলি যখন সত্যিকার অর্থেই ফুটবলের প্রেমে পড়েন, তখন দেশে ফুটবলের তেমন জোয়ার ছিল না। সবাই মেতেছিল কি™ব্দকেটেই। তারপরও চেয়েছিলেন পছন্দের খেলাটিতেই মেতে থাকতে। তবে দুঃখ হতো তার প্রিয় ফুটবলের দৈনদশা দেখেÑ‘দেখুন শুধু আমাদের এখানেই ফুটবলের সগ্ধেগ কি™ব্দকেটের তুলনা হয়। অন্য কোথাও সেটা নেই। জনপ্রিয়তায় বিশে^ ফুটবলের ধারেকাছে নেই কি™ব্দকেট। আমাদের দেশেও তো তাই ছিল। কিল্কপ্পস্টুু এখন বদলে গেছে। এখন আমি চাই না কি™ব্দকেট পিছিয়ে যাক, আসলে এগিয়ে যেতে হবে ফুটবলকে। এমনিতে ফুটবলের বাইরে তার প্রিয় খেলা কি™ব্দকেটই। যেমনটা বলছিলেনÑ‘সুযোগ পেলেই আমি কি™ব্দকেট খেলি। বিকেএসপিতে আমার দুই ব্যাচ জুনিয়র সাকিব আল হাসান। আমার পাশের রুমে থাকত সে। এখনো নিয়মিত যোগাযোগ হয় তার সগ্ধেগ। কথা বলি কি™ব্দকেট নিয়ে।
জাতীয় দল এবং ডিডো
এমনিতে আর্জেন্টোইন ফুটবলের ভক্ত তিনি। কিল্কপ্পস্টুু ব্রাজিলিয়ান ডিডোর ফুটবল শেখানোর প™¦ন্ধতিটা মু¹º¦ন্ধ করেছে এমিলিকেÑ‘আসলে অল্ক‹প্টপ্প কিছুদিনেই আমার মনে হচ্ছে, তিনি অসাধারণ কোচ। ডিডো বই পড়ে কোচ নন। খেলে তবে এসেছেন এ পর্যল্কপ্পস্টু। আমার বিশ^াস, তিনি আমাদের ফুটবলকে ঠিক পথে নিয়ে যাবেন। তবে অবশ্যই এ জন্য তাকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। দায়ব™¦ন্ধ হতে হবে আরো। সালাউদ্দিন ভাই তো কথা রেখেছেন। মাঠে আবারো দর্শক নিয়ে এসেছেন। এখন সেই দর্শক ধরে রাখার দায়িÍ^টা আমাদের।’
আহঃ শৈশব!
পিরোজপুরের কলাখালীর সেই দিনগুলো এখনো টানে তাকে। যখনই একা থাকেন, ব্যক্তি আমি বড় হয়ে ওঠে, তখন মন চলে যায় সেই শৈশবে। আহ! শৈশব! ‘মানুষ কখনো তার জল্প§স্টল্ট’ান ভুলতে পারে না। আমিও মিস করি সেই দিনগুলো। এখন হয়তো আমাকে অনেকেই চিনছে। কিল্কপ্পস্টুু আমি আমার শৈশবের বল্কপ্প¦ন্ধু সুজন, কামরুলদের কাছে সেই এমিলি, উদয়কাঠি গ্রামের মানুষদের কাছে ইদ্রিস আলীর ছেলে। ওরা তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মাঝে মধ্যে মন চায়, রাতের অল্কপ্প¦ন্ধকারে ঢাকা শহর ছেড়ে পালিয়ে যাই গ্রামে। কিল্কপ্পস্টুু জানি, আমার ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে দেশ বড়। আমাকে কিছু করতেই হবে বাবার জন্য, বল্কপ্প¦ন্ধুদের জন্য, দেশের জন্য।’
এমন করে ভাবেন যিনি, সেই এমিলির জন্য হয়তো সুন্দর আগামীই অপো করছে।
জাহিদ হোসেন এমিলি
জল্প§ তারিখ : ২০ ডিসেল্কম্ফ^র ১৯৮৭
জল্প§স্টল্ট’ান : কলাখালী, পিরোজপুর
বাবা : ইদ্রিস আলী
মা : হাওয়া বেগম
প্রিয় খেলা (ফুটবল ছাড়া) : কি™ব্দকেট
প্রিয় দল (দেশ) : মোহামেডান
প্রিয় দল (বিদেশ) : ম্যানইউ, বার্সা
প্রিয় খেলোয়াড় : লিওনেল মেসি, শহিদ আফি™ব্দদি
প্রিয় ব্যক্তিÍ^ : বাবা, মা
প্রিয় গায়ক : বালাম, হাবিব
প্রিয় : অভিনেতা: মোশরফ করিম, তিশমা
শখ : বল্কপ্প¦ন্ধুদের সগ্ধেগ ঘুরে বেড়ানো
প্রিয় খাবার : ভুনা খিচুড়ি
অবসরে : গান শোনেন, বই পড়েন
প্রিয় লেখক : হুমায়ুন আহমেদ