Saturday, February 23, 2008

শৈশবে ফেরা...


কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসেছিল প্রথম জাতীয় ঘুড়ি উৎসব। শৈশবে ফেরানো সেই উৎসব কাভার করতে গিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাই এখানে তুলে ধরার চেস্টা করেছি-


শৈশব স্মৃতি এ কারণেই মধুর, কারণ তখন কোনো শৈশব স্মৃতি ছিল না; ফেলে আসা সেসব দিনের গুরুত্বটা এভাবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন কোনো এক দার্শনিক। সেই দুর্লভ শৈশব আবারো ফিরে আসার যখন হাতছানি, তখন সুযোগটা মিস করবো কেন? ছোট্ট জীবনের ছোট্ট ইচ্ছেগুলো অপহৃর্ণ রাখার কোনো মানে হয় না।
পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি উৎসব! জাতীয় ঘুড়ি উড়ানো উৎসব। কায়সার ভাই যখন বললেন ‘যাবেন নাকি কক্সবাজার? তিনদিনের ট্যুর’তখন একটু দ্বিধা নিয়ে বলেছিলাম-‘যাবো।’
দ্বিধায় থাকার কারণ একটাই, ২৫ জানুয়ারি মানে শুক্রবার আমাদের একটি সাংবাদিক সংস্থার নির্বাচন। আমার অনেক প্রিয় মানুষ এরইমধ্যে ফোন করে 'ভালো আছো, অনেক দিন দেখা হয় না ' এই কথার ফাঁকে ভোট চাওয়ার কাজটা সেরে নিয়েছেন। অনেক দিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হবে সেটা ভোটের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছিল। তাই তো এই দ্বিধা কিন্তু যখন শুনলাম, ঘুড়ি উড়ানো উৎসব, তখন মনে হলো এমন গেট টুগেদার অনেক করা যাবে, কেন জানি ভোট দেয়াটাকেও অর্থহীন মনে হতে লাগল! ভাবলাম ফিরে যাই না একটু সেই শৈশবে...
.......
মাসুদ পারভেজ আমার পুরনো সহকর্মী। ভোরের কাজের পর আমার দেশেও কিছুদিন ছিলেন। এখন কাজ করছেন বিডি নিউজে। সাম্প্রতিক সময়ে পারভেজ এমন ট্র্যাকিং মিস করেছেন, এই তথ্য নেই কারো কাছে। ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানলাম রাকিবও যাবে। রাকিব আমার ভোরের কাগজের সহকর্মী, বন্ধু।
আমি অবশ্য শৈশব ফিরে পাবো বলেই রোমাঞ্চিত! মনে আছে এখনো-সেই ছোটবেলা, ঘুড়ি উড়ানো, সুতো কেটে যাওয়া; এরপর কান্নাকাটি...
হারিয়ে গেছে সব!
কে বলেছে হারিয়ে গেছে সব, শুক্রবারই তো আবার হাতে তুলে নেবো নাটাই! ঘুড়ি উড়াবো সমুদ্র সৈকতে। সব টেনশন একপাশে সরিয়ে রেখে ওই ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়াবো ইচ্ছেমত! ভোকাট্টা ঘুড়ি...
গত বছর সেন্ট মার্টিনে বেশ উপভোগ করেছিলাম। এবারো প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগের পরিকপ্পনা নিয়েই যাচ্ছি। চাঁদের আলোয় সি-বিচে ছুটোছুটি, গলা ছেড়ে গান, সব চলবে...
.......
২৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ফকিরেরপুল থেকে গাড়িতে উঠতে গিয়েই আবারো সেই দ্বিধা! যেভাবে বৃস্টি পড়ছে কাল পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি উড়বে তো? নাকি অসময়ের এই বৃস্টি শেষ করে দেবে সব? এমনিতে বাস জার্নি আমার খুব একটা পছন্দের নয়। কিন্তু ইন্ডিপেন্টেডের সবুজ ভাই, চ্যানেল আইয়ের পান্থ’, যুগান্তরের পারভেজ ভাই, আরটিভির শিপলু, জেমস ভাই, চ্যানেল ওয়ানের আহমেদ রাকিব, সমকালের সঞ্জয়, ফোকাস বাংলার সান্টু, মাসুদ পারভেজ আর রাকিবের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে কখন যে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গাড়ি পৌঁছে গেল টেরই পেলাম না!
সকালে কান্তি নিয়েই পৌঁছলাম কক্সবাজারে। পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল লাবণীর ডরমেটরিতে অবশ্য বিশ্রামের সুযোগ মিললো না। সেই সকালেই শুরু হয়ে গেল ব্যস্ততা। ট্র্যাকিংয়ে গিয়ে আসলে শুয়ে থাকার কোনো মানে হয় না। পবর্তারোহী ‘এক্সট্রিমিস্ট’ দল হোটেল লাবণীর ছাদ থেকে নামানো দড়ি বেয়ে উপড়ে উঠছে, এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই মনে হলো সকালের খাবার নেয়া উচিত। কেননা কিছুণ পরই তো সি-বিচে শুরু হবে সেই ঘুড়ি উৎসব!
.......
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুড়ি উৎসবের মহৃল ভেন্যু। আমাদের একদিন আগেই কক্সবাজার হাজির হওয়া আলিম ভাইকে পেয়ে গেলাম সেখানে। ঘুড়ি উৎসবের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার বলেই একদিন আগে হাজির থাকতে হয়েছে তাকে। পরিচয় হলো রাকিবের ছোট ভাই তানভীরের সঙ্গে। পেশাগত কারণে এখন ও থাকছে সেখানে। মনে হচ্ছে গাইডের পাশাপাশি আরো অনেক সুবিধাই নেয়া যাবে তানভীরের কাছ থেকে।
কিন্তু সেসব ভাবার সময় কোথায়? আমার চোখ তখন বঙ্গোপসাগরে নয়, আকাশে। কেননা তখন নীল আকাশে খেলা করছে নানা রঙের ঘুড়ি। ঢাকায় ওইদিন ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে বৃদ্বি নেমে এলেও কক্সবাজারে রৌদ্রোজ্জ্বল দিন! আমার সেই শঙ্কা উধাও!
.......
উৎসবের জন্য আয়োজকরা তৈরি করেছিলেন আড়াইশ ডিজাইনের ঘুড়ি। সেসব ঘুড়ির জন্য অভিনব নামও রেখেছিলেন। বৈচিত্র্যপহৃর্ণ নামগুলো এরকম-বেসাতি, ড্রাগন, ডেল্টা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বক্স, মাছরাঙা, তোতা পাখি, ফরিঙ, ফিঙ্গে, প্রজাপ্রতি, গোল্ডফিশ, হাঙ্গর, ইগল, ডলফিন, অক্টোপাস, সাপ, মৌচাক, প্যাঁচা, মিকি মাউস কিংবা সান্তাক্লজ!
.......
শুক্রবার ছুটির দিন এমনিতেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় একটু বেশিই ছিল। কিন্তু শুধু সমুদ্র নয়, এই ঘুড়ি উৎসব ও টেনেছে সবাইকে। সবাই যেন নস্টালজিয়ায় পড়ে গেছেন! তেমনি একজন ঢাকার ইস্টাটনের জুবায়ের। ঘুড়ি উড়াতে উড়াতে বলছিলেন, ‘সত্যিই আমি যেন সেই শৈশবে ফিরে গেছি। কতদিন পর যে আবার নাটাই হাতে তুলে নিলাম!’ একইভাবে অতীতে ফিরে গেলেন প্রৌঢ়ত্বে পা দেয়া ব্যববসায়ী মাসুম ইকবাল, ‘কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম যে, আকাশের দিকে তাকাতেই ভুলে গিয়েছিলাম। আকাশের দিকে তাকালে তো মনটাও আকাশের মতো বিশাল হয়ে যায়! মনে হচ্ছে সেই ছোটবেলায় ফিরে গেছি আবার। এই দিনটার কথা ভুলবো না কখনো।’
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ছেয়ে গিয়েছিল রংবেংয়ের ঘুড়িতে। এমনিতে ১০৮ জন প্রতিযোগীর ঘুড়ি উড়ানোর কথা থাকলেও কক্সবাজারে আসা হাজারো পর্যটক কিছুণের জন্য হলেও হাতে তুলে নিয়েছিলেন নাটাই। এভাবেই যেন পৃর্ণতা পেয়েছে প্রথম জাতীয় ঘুড়ি উৎসব। পহৃর্ণতা পাওয়ার পেছনে যার সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল সেই ফেডারেশন সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু বলছিলেন, ‘আমরা চেয়েছি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে! মানে বঙ্গোপসাগরের ঠিক সামনে চমৎকার পরিবেশে ঘুড়ি উড়ানো আর প্রাকৃতিক সপতাশ্চর্যের সম্ভাব্য তালিকায় এগিয়ে থাকা কক্সবাজারকে আরো বেশি আলোচনায় নিয়ে আসা। ঘুড়ি আর কক্সবাজার দুটোই এখন আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এটা ঠিক ২৮০০ বছর আগে থেকে শুরু হওয়া এই সংস্কৃতি নিয়ে আগের মতো উন্মাদনা নেই। তাই তো আমরা চেয়েছি সমুদ্রের সামনে এই উৎসবটা জমিয়ে তুলতে। যাতে ১২০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতও উঠে আসে আলোচনায়। সত্যিই আমরা ভাগ্যবান যে, সবাই সত্বম্ফূর্তভাবেই বিষয়টা নিয়েছে।’
.......
শনিবার মানে ২৬ জানুয়ারি কোনো কাজ নেই! আয়োজকরা জানিয়ে দিয়েছেন ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়াবেন আপনারা। কিন্তু রাকিব ঠিক ছন্নছাড়ার মতো ঘুরে বেড়ানোর মানুষ নয়। এখানেও নিখুঁত প্ল্যান, ‘আজকের দিনটাকে কাজে লাগাবো আমরা। প্রথমে যাবো হিমছড়ি, এরপর ইনানি বিচ।’ পরিকপ্পনা বাস্তবায়নের জন্য তানভীর তো আছেই। একটা গাড়ি ম্যানেজ করলো ও। আর তাতে চড়েই আমরা রওনা হলাম হিমছড়ি। ছোট ওই ঝরনাকে ঘিরে পর্যটকদের অনেক ভিড় থাকলেও আসলে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই! একই কথা প্রযোজ্য কক্সবাজারের ক্ষেত্রেও। আমরা শুধু সর্ববৃৎ সি-বিচের কথাই বলি, কিন্তু এটা বলি না যে এখানে কী সুযোগ-সুবিধা আছে? সময় কাটানোর জন্য আসলে তেমন কিছুই নেই। এতো বড় বিচের পুরোটাতেই পরিকল্পনার বড় অভাব।
কিন্তু ইনানিতে গিয়ে রীতিমত মুগ্ধ হলাম। নীল জল! সব যেন সাজানো গোছানো!
এমন নোনা জলের হাতছানি পাশ কাটাবো কি করে? তানভীর, আসিফুল ইসলাম সাদ, আলীম ভাই, পারভেজ, সঞ্জয়, জেমস-আমরা সবাই নেমে গেলাম পানিতে। কক্সবাজার থেকে ১৮ কিলোমিটার দুরের এতো সুন্দর সৈকত, না দেখে গেলে আফসোস থেকে যেতো!
.......
এবার ফেরার পালা! আমরা গাড়িতে উঠলাম রাত ১টায়। ঢাকার বৃষ্টি তখন কক্সবাজারেও। রেস্টুরেন্ট অ্যাঞ্জেল ড্রপ থেকে ফেরার পথে চার নম্বর বিপদ সংকেতের খবর পেলাম। আমাদের মধ্যে অনেকেই চাইছিলেন দ্রুত ঢাকা ফিরতে, মধ্যরাতে চলতে শুরু করল গাড়ি। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন ড্রাইভার!
কিন্তু এনিয়ে আমাদের কোনো তাড়া ছিল না। কেননা তখন গাড়িতে আসর জমিয়ে তুলেছেন ছেলে-বুড়ো সবারই প্রিয় সেলিম ভাই! গলা ছেড়ে জিয়া, স্বপন, নওরোজদের সঙ্গে গান গাইছেন তিনিও।
এভাবেই কখন যে ঢাকায় পৌঁছে গেলাম, বুঝলামই না! ৮ ঘণ্টার পথ ১৩ ঘণ্টায় আসার পরও মনে হচ্ছিল আরেকটু দেরি হলো না কেন?
ভাবছিলাম এই তো আবার শুরু হলো নাগরিক ব্যস্ততা; বেঁচে থাকার যন্ত্রণা!

Wednesday, January 23, 2008

ভোকাট্টা ঘুড়ি

শৈশব স্মৃতি এ কারনেই মধুর, কারন তখন কোন শৈশব স্মৃতি ছিলনা ; ফেলে আসা সেইসব দিনের গুরুত্বটা এভাবেই ব্যখা করেছিলেন কোন এক দার্শনিক। সেই দুর্লভ শৈশব আবারো ফিরে আসার যখন হাতছানি , তখন সুযোগটা মিস করবো কেন?
কক্সবাজার যাচ্ছি। পৃথীবির সবচেয়ে দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি উৎসব! জাতীয় ঘুড়ি উৎসব। কায়সার ভাই যখন বললেন 'যাবেন নাকি কক্সবাজার? তিন দিনের টুর' -তখন একটু দ্বিধা নিয়ে বলেছিলাম ‌'যাবো'।
দ্বিধায় থাকার কারন একটাই -শুক্রবার ক্রীড়া লেখক সমিতির নির্বাচন। আমার অনেক প্রিয় মানুষই এরইমধ্যে ফোন করে বলেছেন ‌তাদের ভোট দেয়ার জন্য। অনেক দিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হবে সেটা ভোটের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছিল। তাইতো এই দ্বিধা। কিন্তু যখন শুনলাম -ঘুড়ি উড়ানো উৎসব, তখন মনে হলো এমন গেট টুগেদার অনেক করা যাবে, ভোট দেয়া টেয়া ফালতু ব্যাপার! ফিরে যাই না একটু সেই শৈশবে...
বাবু'র সঙ্গে যোগাযোগ করে জানলাম রাকিবও যাবে। তারা দুজনই আমার ভোরের কাগজের সহকর্মী, বন্ধু। দুজন অবশ্য আমারই মতো এখন ঠিকানা বদলে ভিন্ন জায়গায়। ওরা থাকছে ; মন্দ হবে না কক্সবাজার মিশন।
আমি অবশ্য শৈশব ফিরে পাবো বলেই রোমাঞ্চিত! মনে আছে এখনো -সেই ছোট বেলা, ঘুড়ি উড়ানো, সুতো কেটে যাওয়া এরপর কান্নাকাটি...
হারিয়ে গেছে সব!
কে বলেছে হারিয়ে গেছে সব, শুক্রবারই তো আবার হাতে তুলে নেবো নাটাই! ঘুড়ি উড়াবো সমুদ্র সৈকতে। সব টেনশন একপাশে সরিয়ে রেখে ওই ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়াবো ইচ্ছে মতো!
গত বছর সেন্ট মার্টিনে বেশ উপভোগ করেছিলাম। এবারো প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগের পরিকল্পনা নিয়েই যাচ্ছি। ট্র্যাকিংয়ে গিয়ে আসলে শুয়ে থাকার কোন মানে হয়না। শুনেছি রাকিবের ছোটভাই এখন ওখানে আছে। ওর কাছ থেকে একটা জিপ পাওয়া গেলে বেশ জমবে!
কাল মানে বৃহস্পতিবার রাতে গাড়িতে উঠবো। এমনিতে বাস জার্নি আমার খুব একটা পছন্দের নয়। আশা করছি সবার সঙ্গে মন্দ হবেনা। সকালে ক্লান্তি নিয়েই হয়তো পৌছবো কক্সবাজারে। তাতে কী ? নেমে পড়বো, ইচেছ আছে ওইদিনই সমুদ্রের জল ছুঁয়ে দেখার।
ভুল বললাম আমার পরিকল্পনা আসলে সমুদ্র স্নানের! নোনা জলের হাতছানি পাশ কাটাবো কি করে?
এরপর পুর্নিমার আলোয় সী বিচে ছুটোছুটি,গলা ছেড়ে গান এবং য়্যালকোহল...

Tuesday, January 22, 2008

বোধদয় !

বোধদয়- এই শব্দটার এরচেয়ে সফল প্রয়োগ এর আগে করার সুযোগ পাইনি! সঙ্গে মনে পড়ছে ছোট বেলায় পড়া 'গাধার ঘোলা জল খাওয়ার' সেই গল্প। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেন, ড. হারুন অর রশিদ, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও ড. সদরুল আমিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বলা উচিত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে ফকরুদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকার। তাহলে এতো নাটকের মানে কী?
যে পেশী শক্তির রাজনীতি অবসানের কথা বলে শপথ নিয়েছিল এই সরকার সেখানে সম্মানিত শিক্ষকদের নিয়ে তারা যা করলো তাকে যদি কেউ ওই পেশী শক্তির বাহাদুরীর সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে কী খুব অন্যায় হয়ে যাবে?
প্রশ্নটির উত্তর কিছুদিন আগেই পেয়েছি আদালতে দেয়া শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেনের জবানন্দী থেকে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র তুলে এনেছেন তিনি।
* অসম্পুর্ন। পরে এক সময় লেখাটা শেষ করবো!

Tuesday, January 1, 2008

২০০৮

হুমায়ুন আজাদের কবিতা; ভালো থেকো: শুভ কামনা ইত্যাদি....

বুকিং

Friday, December 21, 2007

বুকিং

চাংক নিয়ে রাখলাম। পড়ে আপডেট হবে: ইদ নিয়ে কপচানী আর কী!

Monday, December 17, 2007

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই


ভাগ্যে খুব একটা বিশ্বাস নেই আমার। কিন্তু এটা যখন ভাবতে যাই তখন নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে হয়। না, হলে আমার বাবাতো কোন মৌলবাদী হতে পারতেন। হতে পারতেন রাজাকার!

হননি বলেই গর্ব করে আমার বাবার কথা, আমার পরিবারের কথা বলতে পারি। আমি মানে তো আমার পরিবার। আমার সংস্কৃতি। যেখানে আমি নতুন সেখানে আমি শুধু আমাকেই প্রতিনিধিত্ব করি না। অনেক কিছুই জড়িয়ে যায় আমার সঙ্গে।
 
গতকাল আরো একটি বিজয় দিবস পালন করলাম। এখন থেকে ৩৬ বছর আগে যখন পাকিস্তান পাল্টে এই দেশটির নাম হয়েছিল বাংলাদেশ- তখন পৃথীবির আলো দেখিনি আমি। আমার জন্ম হয়েছে স্বাধীনতার অনেক পরে। সংগত কারনেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন স্মৃতিই আমার থাকার কথা নয়। কিন্তু কেন জানি একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি কিংবা আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি- কানে ভেসে আসে, আমি আনমনা হয়ে যাই। চোখে ভেসে উঠে পৃর্বসুরীদের সংগ্রাম, মার্চে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, জয়বাংলা আর একটি দেশের জন্ম যন্ত্রনার সেইসব দৃশ্য। কাল টেলিভিশনে দেখছিলাম- 'অস্তিত্বে বাংলাদেশ' নামের একটি ছবি। বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমানের জীবন নিয়ে তৈরি সেই ছবি দেখতে দেখতেই এক সময় খেয়াল করলাম আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে! নোনা জল চেপে রাখার চেস্টা করিনি!

পরম্পরায় এই আবেগ - অনুভুতি আমার নিজের অজান্তেই চলে এসেছে আমার মধ্যে। আমার বাবাকেও দেখেছি ঠিক এভাবেই ভেবেছেন সবকিছু। আমি ভাগ্যবান!

এবারের বিজয় দিবসটা কেন জানি অন্যরকম মনে হয়েছে আমার কাছে। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আল বদরদের বিচারের দাবী জানিয়ে এভাবে এর আগে দেশ এতোটা উত্তাল হতে দেখিনি আমি। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের গন আদালতের কথা ছোট ছিলাম বলেই হয়তো আমার মনে নেই। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীটা এতো তীব্র হওয়ার পেছনেও আছে যৌক্তিক কারন।
 
এইতো কিছুদিন আগেই আমাদের শুনতে হয়েছে 'এই দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই কিংবা এটা ছিল নিছকই গৃহযুদ্ধ' যারা বলেছেন তারা ধর্মের লেবাস নিয়ে ব্যবসা করেন। এভাবে ধর্ম পুজি করে সেই ৭১ আরো বর্বর হয়ে উঠেছিলেন তারা। আমাদের স্বাধীনতার বিরোধীতাই শুধু করেননি, তারা যুদ্ধের ওই সাড়ে নয় মাসে হয়ে গিয়েছিল পশু। জাতীর শ্রেষ্ট সন্তান বুদ্ধিজীবিদের নির্মমভাবে খুন করে দেশকে মেধা শুন্য করে দিয়েছিল আলী আহসান মুজাহিদ, গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী আর সাইদিরা। তাদের সেই ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি এখনো।
 
আর তাইতো সেইসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীটা আরো জোড়ালো হচ্ছে এখন। আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ফিরে আসার জন্যই এই অপরাধের বিচার হওয়া জরুরী। পৃথীবির সব দেশেই এমনটা হয়েছে। তাহলে আমাদের এখানে কেন নয়?

যতোটা মনে হচ্ছে এই সরকার বিচারের ওই পথ মাড়াবে না। বঙ্গভবনে কাল মুজাহিদদের দেখে শংকাটা জোড়ালো হলো আরো। যারা এই দেশটা চায়নি, পতাকাটা চায়নি-তারা যখন সেই দেশটির বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাস্ট্রপতির আমন্ত্রন পেয়ে যান, তখন অবাক হওয়ার যথেস্ট কারন থাকে!

কিন্তু সব সম্ভবের এই দেশে অবাক হওয়ার কিছু নেই। খালেদা সরকারের মন্ত্রী পরিষদেও তো ছিলেন দুজন রাজাকার! এটাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। জিয়াউর রহমানই তো পুর্নবাসিত করে গেছেন তাদের। অথচ তিনিই ছিলেন কীনা সেক্টর কমান্ডার!তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষক !!

আমি অবশ্য নিরাশাবাদীদের দলে নেই। পশুদের বিচার হবেই। পৃর্বসুরীদের সেই অসমাপ্ত কাজটা তো শেষ করতেই হবে। সেটা আমি, আমরাই করবো...

হাসির মুখে হাসি নেই...

সেই শুরু থেকেই তিনি অন্যদের চেয়ে একটু অন্যরকম। জন্মের পর পৃথিবীর আলো দেখে কান্না নয়, হাসি ছিল তার মুখে। আর তাই তো বাবা-মা শখ করে নাম রেখেছিলেন হাসি, হাসিনা বেগম হাসি! শত সমস্যাকে একপাশে সরিয়ে হাসিখুশিভাবেই দিন কাটছিল রাজশাহীতে জন্ম নেয়া এই তরুণীর। সামনে ছিল জীবনকে বদলে ফেলার হাতছানি। কিন্তু হুট করেই দুমাস আগে এলোমেলো হয়ে গেছে সবকিছু। হাসির মুখে হাসি নেই! চোখে জল! বিষ্ন্ন হয়ে থাকেন সারাক্ষণ।

আসলে এছাড়া কিইবা করার আছে হাসির? জীবনের সব স্বপ্নই তো বিবর্ণ হয়ে গেছে প্রায়। চেনা জীবনটা এখন অচেনা ঠেকছে জাতীয় ফুটবল দলের এই স্ট্রাইকারের কাছে। একটু ভুল বলা হলো, হাসিনা বেগম হাসি তো এখন আর জাতীয় দলে নেই। ভবিষ্যতে ফিরতে পারবেন কিনা সেটাও ঝুলে আছেযদি ওপর। বাঁ পায়ের হাড়ে টিউমার হয়েছে। এমআরআই করার পর ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন সমস্যাটা মামুলি নয়। অসে¿াপচার করালে সমস্যা সারবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা থাকছে! যেমনটা বলছিলেন তিনি, ‘পিজি হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমাকে সরাসরিই বলেছেন অপারেশন করালে আমি আর মাঠে নামতে পারব না। এমনকি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে গেলেও সমস্যা হবে। হাড়ের মধ্যে টিউমার থাকায় তারা অসে¿াপচারের আগে বেশ চিন্তিত।এর অর্থ তাহলে কি দাঁড়ালো-আর মাঠে ফিরতে পারবেন না তিনি? না তেমনটা নয়। কিছুটা আশার কথাও শুনেছেন ডাক্তারদের কাছ থেকে, ‘তারা বলেছেন ব্যাংকক কিংবা ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করালে আমি আবার সুস্থ হয়ে উঠব। আবার নামতে পারব মাঠে।

কিন্তু ডাক্তাররা বললেই তো হবে না, কে তাকে করাবে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা? সংসারে বাবা নেই। উপার্জনম একমাত্র ভাইটি চার বোন আর মাকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খায়। সেখানে তারও তো কিছু করার নেই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন শুরুতে এগিয়ে এলেও এখন ব্যাপারে অনেকটাই নীরব।

অথচ জাতীয় সম্পদই হয়ে উঠেছিলেন হাসি। জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরুর আগে খেলেছেন হ্যান্ডবল। বিজেএমসির হয়ে তার পারফরমেন্স মন্দ নয়। কিন্তু সবসময়ই মন পড়ে ছিল ফুটবলে। সেই ছোটবেলায় রাজশাহীতে ফুটবল খেলতেন। কাস এইটে পড়ার সময় ছেলেদের সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েও হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। পরিবার থেকে সহযোগিতা পেয়ে এক সময় তিনি চলে আসেন ঢাকায়। ২০০৪ সালে মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছেন ঢাকা জেলার হয়ে। আর প্রথম সেই টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনটিতেই। মহিলা জাতীয় দলের হয়ে তার শুরুটা হয়েছে এর এক বছর পর ২০০৫ সালে, এএফসি কাপে। সেখানে হংকংয়ের বিপে খেলতে গিয়েই প্রথম ব্যথা অনুভব করেন পায়ে। তারপরও গোল পেয়েছেন। ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে খেলে গেছেন এরপর। প্রতিনিধিত্ব করেছেন জাতীয় দলকে। হার মেনে যাওয়া শব্দটা নেই তার অভিধানে।
কিন্তু গত রোজায় ইন্দো-বাংলা গেমসের জন্য অনুশীলন করতে গিয়ে আবারো সেই পুরনো ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন হাসিনা বেগম হাসি। ব্যথা নিয়েই ছাড়েন ক্যাম্প। এরপরই তো হাতে আসে সেই এমআরআই রিপোর্ট।

এখন মাঠে নামার সামর্থ্য নেই তার। কিন্তু মন তো আর মানে না। মনটা পড়ে আছে মাঠে। তাই তো ধানমন্ডি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে চলতে থাকা দ্বিতীয় মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচ দেখতে প্রায়ই হাজির থাকছেন হাসি। খেলা দেখতে দেখতেই বিষন্ন হয়ে উঠছেন! তিনি মনে করেন দেশকে আরো অনেক কিছুই দেয়ার সামর্থ্য আছে তার, ‘আমার সামনে পুরো ক্যারিয়ারই পড়ে আছে। মহিলা ফুটবলে প্রিয় বাংলাদেশকে আরো অনেক দুর নিয়ে যেতে চাই আমি। যেখানে খেলাধুলার প্রতি মেয়েদের অনাগ্রহ সেখানে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে চাই, চাই আমাকে দেখে দেখে যেন মেয়েরা ফুটবলে আসুক।

এখন তো এসব কিছু শুধুই হাসির স্বপ্ন। তার চলার পথটা অমসৃণ হয়ে উঠেছে! পায়ের এই চিকিৎসার জন্য কে তার দিকে বাড়িয়ে দেবে হাত? কোন স্বহ্দয়বান মানুষ? নাকি তাকে সারিয়ে তোলাটা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব নাকি রাস্ট্রের?

এত কিছু জানেন না হাসি। তার একটাই ইচ্ছা দ্রুত আবার মাঠে ফেরা।মাঠের বাইরে থেকে অস্থির হয়ে উঠেছি। আর ভালো লাগছে না। মন চাইছে এই পা নিয়েই এক্ষুণি মাঠে নেমে পড়ি!’

চোখের জল মুছতে মুছতে বলছিলেন হাসতে ভুলে যাওয়া হাসি!

(
আমাদের ফটো সাংবাদিক আলিম ভাইয়ের অনুরোধে লিখেছিলাম এই লেখাটা।
১৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে আমাদের পত্রিকায়। এখানে তা তুলে রাখলাম।)