Thursday, February 25, 2010

মাসুদ, মিনহাজ এবং আমি...

আমরা হুজুগে জাতি! একবার কিছু একটা রটলেই হলো, আমরা হয়ে যাই এর অংশ। যতোক্ষণ না সেটা ডুবে যায় ততোক্ষণ পর্যন্ত আমরা এর পেছনে লেগে আছি!

আমিও সেই স্রোতেই গা ভাসালাম.. কিছুদিন হলো শেয়ারবাজারে যোগ দিয়েছি। জন্য অবশ্য মাসুদের অবদানটাই বেশি। তার বারবার তাগিদই আমাকে অনুপ্রানিত করেছে। সঙ্গে মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারে আসার পর তো আমার মতো অনেকেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সেজেছেন। গ্রামীনের শেয়ার অবশ্য আমি পাইনি। ব্যক্তিগতআমিবলাটা অবশ্য ঠিক হচ্ছে না। যেমনটা বলছিলাম মাসুদের কথা। - আসলে সবকিছু। সঙ্গে আমি আর ডাক্তার মিনহাজ কিছু টাকা বিনোয়োগ করেছি। তিনজনে মিলিয়ে সেটা প্রায় দুই লাখ টাকার কাছাকাছি। নিশ্চিত করেই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের শেয়ারবাজারে এটা মামুলি। কিন্তু শুরু যে করেছি সেটাও বা কম কী!


এরইমধ্যে দুতিনটা কোম্পানির প্রাইমারি শেয়ার পেয়েও গেছি। মাসুদের কাছে শুনলাম, তাতে লাভও মন্দ হবে না। কিন্তু বিক্রি করেনি এখনো। এতো তাড়াহুড়ো করে লাভ কি? প্রাইমারি শেয়ারে তো লস বলে কিছু নেই!


লস অবশ্য হতে পারে এবি ব্যাংকের শেয়ারে। সেকেন্ডারি শেয়ার কেনার পর থেকে এর মুল্য কমে গেছে। শুনেছি প্রতিটি ব্যাংকেরই নাকি একই অবস্থা। তবে শিগগিরই দর বাড়বে। কিন্তু সমস্যা হলো মাসুদ ইদানিং অন্য ব্যস্ততায় জড়িয়েছে। চাঁদপুরে তারা কয়েকবন্ধু মিলে একটা কিনিক দাড় করারোর চেস্টা করছে। তাতে শেয়ারবাজারে খুব একটা সময় দিতে পারছে না ও। আশা করছি এই ব্যাপারটাও সমান গুরুত্ব পাবে ওর কাছে। আমার দেখা সিনসিয়ার মানুষদের যদি খুব সংক্ষিপ্ত একটা তালিকা করি তাহলে অনেক ওপরেই রাখতে হবে তাকে। আমার প্রিয় মানুষদের একজন মাসুদ। ওর প্রসঙ্গে অন্য একদিন অন্য একটা পোস্টে বড় করে লেখার আশা করছি!

মতিঝিলের ওই স্টক মার্কেটকে ঘিরে অনেক গল্পই শুনি। শুনি মাত্র এক লাখ টাকা পুজি বিনোয়োগ করে কোটি টাকার মালিক হওয়ার গল্প! আবার শুনি পুজি খুইয়ে পাগল হওয়ার গল্পও।


অনেক পরিশ্রমী মানুষই এখন ভাগ্য বদলের জন্য ছুটছেন ব্যাংক পাড়ার ওই শেয়ার বাজারে। ঢাকার যা অবস্থা তাতে এক চাকুরি করে টিকে থাকা কঠিন! অবস্থায় একটু সিরিয়াস হলে হয়তো ওই কাংখিত গল্প নিজেদের জীবনেও যৌক্তিক হয়ে ধরা দিতে পারে! চোখ কান খোলা রাখলে নাকি তো সবই সম্ভব।


মাসুদ, মিনহাজ এবং আমার শেয়ার মার্কেট যাত্রা যখন শুরু হলো-তখন স্বপ্ন বুনতে বাধা কোথায়? আমরা স্বপ্ন দেখছি..
.

Wednesday, February 24, 2010

নামকরন


একেবারে সোজা করে বলছি-গত সংসদ নির্বাচনে আমার ভোট আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত মহাজোটের বাক্সে গেছে এছাড়া অন্য কোন বিকল্পও ওই মুহুর্তে আমার সামনে ছিল না দিবদলের স্বপ্ন দেখিয়েছিল ওরা


ভাবছিলাম, দিনটা যদি বদলই হয়, মন্দ কী! এভাবে আর মরার মতো বাচবো কতোদিন! জাতি ঠিকই জেগে উঠেছিল গত সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে মহাজোট এতো বেশি আসন আওয়ামী লীগ পেয়েছে যে তারা ইচ্ছে করলে সংবিধান নতুন করে লিখতে পারে! বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মন্ত্রী সভার নতুন মুখ দেখে ভাবছিলাম, দিন বদল বুঝি হচ্ছেই!

কিন্তু এক পেরিয়ে এসে অনেক হিসেবই যে মিলছে না বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকে যদি সাফল্য দেখি, তাহলে একবছরে অর্জন ওই একটাই! এছাড়া উল্টো পথেই হেটেছে শেখ হাসিনা সরকার বিএনপি-জামাত জোট সরকার কিংবা ফকরুদ্দিন সরকার থেকে তাদের খুব একটা আলাদা করা যাচ্ছে না সেই একই সংকীর্ন রাজনীতিতেই গা ভাসিয়েছে ওরা


সত্যি করে যদি ১৫ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশের দিকে যদি চোখ রাখি তবে প্রথম যে সমস্যাটা চোখে পড়ে তা হলো দারিদ্রতা! কাজ নেই কাজ নেই শিক্ষিত তরুনদেরও প্রতিদিনই বাড়ছে চাকুরি প্রাথীদের ভীড়! সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরেই যোগ হয়েছে বিদুৎ সমস্যা! যোগ হয়েছে গ্যাস সমস্যা সবমিলিয়ে শুধু আমাদের জীবনটাই দুঃসহ হয়ে উঠেনি সঙ্গে বন্ধ হতে চলছে আমাদের শিল্পের চাকাও গার্মেন্টস থেকে শুরু করে সবধরনের কলকারখানাই বন্ধ হওয়ার পথে! বন্ধ হওয়ার পথে প্রিয় ঢাকা শহরও জানজট এমন অবস্থা দাড়িয়েছে যে মতিঝিল থেকে আমার অফিস কারওয়ান বাজারে যেতে সময় লাগে ঘন্টা! শুক্রবার সরকারী বন্ধের দিন লাগে মাত্র ১০ মিনিট! জিনিস পত্রের দামের প্রসঙ্গটাও চলে এসেছে সামনে! টাকা যেন মুল্যহীন হয়ে গেছে!


কিন্তু এতোসব সমস্যা সমাধানের কথা কি সত্যিই ভাবছে আমাদের ভোটে মতায় আসা এই সরকার? সময় আরো পড়ে রয়েছে বছর কিন্তু আমার আপত অনুধাবন-সেই নোংরা রাজনীতির বলয় থেকে দিনবদলের সরকারও বেরিয়ে আসতে পারেনি


এখন শুরু হয়েছে নামকরন আর নামবদলের রাজনীতি! দেখলাম ২৯ বছর পর জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পাল্টে ফেলেছে সরকার একইসঙ্গে জিয়াউর রহমানের নামে সব স্থাপনার নামই বদলে ফেলা হচ্ছে!
কিন্তু প্রশ্ন হলো এই বিষয়গুলো সত্যিই প্রয়োজন ছিল এখন? এরচেয়ে বড় ইস্যু কি ছিল না?


অবাক হয়েছি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিএনপিকে শাস্তি দিতেই নাকি তারা এটা করছে! আহ! কি প্রতিহিংশা পরায়ন এই রাজনীতি! এটাই কি দিনবদলের নমুনা!
কালের কন্ঠ সম্পাদক আবেদ খান ওইদিন তার কলামে এমন নামবদলের বিষয়টির সমালোচনা করেছেন কেননা, এভাবে নমবদল করায় মোটা অংকের অর্থও খরচ হবে সরকারের! পড়তে হবে নানা ঝামেলায় গরব দেশের জন্য সেটা কতোটা যৌক্তিক? যখন আমাদের এতো সমস্যা তখন এমন কৃত্রিম সমস্যা তৈরি করা কেন?


জানি না কার বুদ্ধিতে সরকার এইসব করছেন অনুরোধ করবো মুল সমস্যার দিকে চোখ দিন

আবার আমাদের বিরোধী দলও হাটছে তাদের মতো যে সমস্যাগুলো জনগনের তা নিয়ে তারা ভাবছে কোথায়? বেকার সমস্যা, বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে একটা কথা বলছে না ওরা জিয়ার নাম কেন পাল্টে গেলো এটাতেই মজে আছে তারা!
আর তাতে এই আমরা জনগনই চিড়েচ্যাপটা হচ্ছি এমন রাজনীতির হাত থেকে কি মুক্তি নেই?

কবে পাল্টে যাবে আমার প্রিয় দেশ? কবে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়া একসঙ্গে বসে ভাবছেন শুধু আমাদের কথা? কখন আসবে সেই দিন, প্রতীক্ষায় থাকি..


Monday, February 22, 2010

জাহাপনা তুসে গ্রেট হু!

আমির খান মানেই ক্লাসিক বলিউডের অন্য আটদশজন নায়কের মতো তিনি নন, খুব বেছে বেছে কাজ করেন তিনি কেয়ামত সে কেয়ামত তক দিয়ে শুরু, এরপর আমিরের ছবি মানেই অন্যরকম স্বাদ!
তাই ছবি দেখতে সিরিয়াস ভঙ্গি নিয়ে বসেছিলাম কিন্তু ভুল ভাঙ্গলো শুরুতেই এটা ঠিক সিরিয়াস মুডে থাকার মতো ঠিক নয় শুরু থেকেই তিন ইডিয়ট মাধবন, শারমান জোসি এবং আমির খানের ফান চলতে থাকলো আরো একটা বিষয় চোখে পড়লো, বেশির ভাগ আমির খান অভিনীত ছবিই ..
* অসম্পুর্ন (পরে একসময় লিখবো সম্ভবত..)

Tuesday, February 16, 2010

সেভ আওয়ার টাইগার্স




সেদিন টেলিভিশনে এই বিজ্ঞাপনটা দেখছিলাম। আর মন বিষন্নতায় ছুয়ে যাচ্ছিল! আহারে কি কিউট বাঘ, তার মা হারাচ্ছে! বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঘ।

পাশের দেশ ভারতে বাঘ বাঁচানোর জন্য এমন কর্মসুচী চলছে এখন। যেখানে ক্রিকেট অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো অনেক তারকাই যোগ দিয়েছেন। নানাভাবে তারা বোঝাচ্ছেন! বন্য প্রানীটিকে নিরাপদে বাঁচতে দিতেই হবে!

কিন্তু আমরা কি ভাবছে এটা নিয়ে। এইতো কিছুদিন আগেই দেখলাম-সাতক্ষীরায় গ্রামবাসী মিলিয়ে পিঠিয়ে মেরেছে এক বাঘ! জনারন্যে বাঘ আসছে তখন তাকে আটকানোর বদলে একেবারে মেরে ফেলা হচ্ছে! প্রায়ই এমন ঘঠনা ঘটছে বাংলাদেশে! এভাবে চলতে থাকলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ একদিন টাইগার শুন্য হয়ে যাবে! আশংকা সেই দিন বুঝি বেশি দুরে নেই...

দ্বায়িত্বশীলরা কি কিছু শুনতে পারছেন?

Monday, February 15, 2010

মা..


মা, কোথায় ছিলে? তোমায় আমি কতো খুজেছি?’ -মনের ভাষায় হয়তো তার মাকে এমন কিছুই বলতে চাইছে। ছবির এই ছোট শিশুটি হাইতির ভুমিকম্পে আক্রান্তদের একজন। ভাগ্যগুনে বেচে গেছে সে। কিন্তু এরপরই হারিয়ে ফেলে তার প্রিয় মাকে।

শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবকরা হাসি ফুটিয়েছেন নিষ্পাপ ছেলেটির মুখে। মাকে পেয়ে বেচারা যেন আকাশের চাদ হাতে পেয়ে গেছেমা দেখো আমি বেঁচে আছি...তুমি ভালো আছো... :)))

ছবি সুত্র: দ্য ডেইলি মেইল, ইংল্যান্ড

Sunday, February 14, 2010

হাইতি


টিভি দেখা মনে হচ্ছে বন্ধ করে দিতে হবে! ভয়াবহ ভুমিকম্পের ছবি আর প্রতিবেদনগুলো দেখে গা শিউরে উঠছে! মৃত্যের সংখ্যা নাকি লাখ ছাড়াবে! রাস্তায় পড়ে আছে হাজারো মৃতদেহ! কেউ জানে না এই লাশগুলো কোথায় নেয়া যায়? এমন ভয়াবহ ভুমিকম্প কখনোই এর আগে হয়নি।

এই মানবিক বিপর্যয় কিভাবে কাটিয়ে উঠবে ... মহাসাগরের ওপর দাড়িয়ে থাকা গরীব এই দেশটি? সিএনএন এর রিপোর্টাররা বলছেন প্রচুর সাহায্য দরকার এই মুহুর্তে। ওষুধ, খাবার কিছুই নেই দেশটিতে। তারপরও যা একটু খাবার মিলছে, তা নিয়ে কাড়াকাড়ি করছেন বেচে থাকা মানুষগুলো।


ভালো লাগছে বিশ্বের প্রতিটি দেশই দাড়িয়েছে হাইতির পাশে। মানবিক বিপর্যয়ে পুরো বিশ্ব এক!

এসব দেখতে দেখতে ভাবছি ঢাকায় এমন ভুমিকম্প হলে মৃত্যের সংখ্যা নিশ্চিত করেই কোটি ছাড়াবে। মৃতদেহ হয়তো খুজেও পাওয়া যাবে না। ঢাকার ভবনগুলোর যা অবস্থা তাতে ভয় বেড়ে যাচ্ছে আরো! কি ভাবছেন দায়িত্বশীলরা? কিন্তু যখন চলে যেতে হবে তখন চলেই যেতে হবে

কোন নিরাপত্তা বলয় কি বাচাতে পারবে আমাদের?

Thursday, February 11, 2010

বন্ধু আবার কি দেখা হবে?


আজ কিছুই ভালো লাগছে না! মন খারাপের চেয়েও যেন বেশি কিছু গ্রাস করেছে আমাকে। আসলে গতকাল রাত থেকেই বিষাদের চেয়েও যেন বেশি কিছু ছুঁয়ে যাচ্ছে আমায়। সত্যি কিছুই ভালো লাগছে না! এটাই কি আসলে একাকিত্ব?

বিদায়! বিষাদ লেগে থাকা এক শব্দ। সেই বিদায়ের বিষাদই আমাকে আজ সকাল থেকে আরো বেশি কষ্ঠ দিচ্ছে। আজ আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুকে বিদায় বলতে হবে। আসলে বেশ কয়েকজন না বলে একজন বলাটাই সত্য। বাকীদের সঙ্গে তেমন কথা হলো কোথায়? মনোজ, আমার নতুন বন্ধু। ঢাকায় এসেছেন দণি এশিয়ান গেমস কাভার করতে। মনোজ কাজ করে নেপালের জাতীয় দৈনিক... কাঠমন্ডুর এই মানুষটির সাথে পরিচয় গেমসের প্রথম দিনই। এরপর প্রতিদিনই টুকটাক কথা হতো...

দুজনের পারিবারিক কথাও হতো মাঝে মধ্যে! বিয়ে করেছে। মনোজের দুই বছরের একটা মেয়ে আছে! এই গল্প করতো প্রায়ই। মেয়ের জন্য কি কিনে নেয়া যায় এই পরিকল্পনা করতো আমার সাথে।

সত্যি বলতে কী গত দুই সপ্তায় তেমন আবেগ জন্মানোর কথা নয় ভিনদেশী এই মানুষটির জন্য। তারপরও আজ যখন মনোজ বললো যে কাল সকালেই চলে যাচ্ছে কেমন যেন করে উঠলো আমার মন! আবার কি কখনো দেখা হবে ভেজিটেরিয়ান ওই মানুষটির সাথে? আবার কি কখনো কোন দিন হাসিমুখে বলবেআপন নট ফিনিশট ইয়েট ইউর রিপোর্ট?’

ইদানিং আমি অল্পতেই আবেগী হয়ে উঠছি। কাউকে বিদায় বলতে গেলে গলার কাছে এক ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করি! বন্ধু-শত্রকাউকেইগুডবাইবলতে চাই না! মনে হয় চোখের আড়াল হলেই সব শেষ!

অথচ গত একবছর ধরে যা হচ্ছে আমার সঙ্গে তাতে উল্টোটাই হতে পারতো! জীবন যন্ত্রণার শেষটা বুঝি দেখে ফেলেছি! তারপরও কেন জানি আজ মনোজ যখন বলবোযাই’-তখন মনটা হু-হু করে উঠলো! তাকে শুধু বললামহ্যাভ গুড জার্নি, সি ইয়া ম্যান সাম টাইম সাম হোয়ার ইফ উই এলাইভ...’

এই কথা বলে এক মুহুর্ত দেরি করিনি। এক মুহুর্ত থাকলে হয়তো লজ্জায় পড়তে হতো। মনোজ ভাবতোভিনদেশী এই মানুষটা কাদছে কেন?’
রাতের অন্ধকারকে এখন বন্ধু মনে হচ্ছে। আমারলজ্জাআড়াল করে দিয়েছে রাতের কালো অন্ধকার...

না এখন আর আবেগ আড়াল করার কোন মানে হয় না। নোনা জল গড়িয়ে পড়ুক ইচ্ছেমত...

Wednesday, February 10, 2010

বিরহ ছড়িয়ে ভাঙল মিলনমেলা

বিদায় সব সময়ই বিরহের! কিন্তু প্রথম দুই ঘণ্টায় ঠিক বিরহ ছুঁয়ে যাচ্ছিল না। গান সঙ্গে চলা রঙিন নৃত্য ঠিক জানিয়ে দিচ্ছিল না-ভাঙছে মিলনমেলা! কিন্তু যখনই আকাশে উড়িয়ে দেয়া হলো কুটুম নামের মাসকট, বেলুনে ভর করে উড়ে গেল দোয়েল পাখি—তখনই যেন বিষাদের করুণ সুর ছুঁয়ে গেল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। দু’সপ্তাহ শেষে এবার তবে ঘরে ফেরার পালা! নিভে ২৯ জানুয়ারি জ্বলে ওঠা গেমস মশাল! বিদায় ১১তম এসএ গেমস। বাংলাদেশের পাহাড়-সমতলের সংস্কৃতি সঙ্গে অ্যাকুয়াটিক, লেজার শো ও আতশবাজি—এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উত্সবের বাংলাদেশ পর্ব।প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী সমাপনী অনুষ্ঠানে গতকাল তুলে আনা হয়েছে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি।
অ্যাথলিটদের ফেয়ারওয়েল ল্যাপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এসএ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠান। এখানে অবশ্য অংশগ্রহণকারী আট দেশের এক দেশ আফগানিস্তানের কোনো অ্যাথলিট ছিলেন না। সমাপনীর আগেই দেশে ফিরে গেছেন তারা। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের অ্যাথলিটদের ল্যাপ শেষে সেই পুরনো ধাঁচে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। ক্যারাভানে করে মাঠে আসেন তিন শিল্পী—এসআই টুটুল, কনকচাঁপা এবং রফিকুল আলম। গেয়ে ওঠেন বিদায়ী সঙ্গীত।
এরপরই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জেনারেল আবদুল মুবিন গেমস মশাল তুলে দেন পরবর্তী এসএ গেমসের আয়োজক ভারতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রধান সুরেশ কালমাদির হাতে। দু’বছর পর ভারতেরই কোনো শহরে বসবে এসএ গেমসের পরের আসর। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের পারফরমেন্স। এরপরই লন্ডনভিত্তিক বাংলা ব্যান্ড লক্ষীটেরার পারফরমেন্স। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে পাশ্চাত্যের বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণে তারা গেয়ে ওঠেন কিংবদন্তি শচীন দেব বর্মণের গান—‘নদী যদি হয়রে ভরাট কানায় কানায়..।’ অনেকটা নিজেদের মতো করেই বাংলাদেশের আরও কিছু জনপ্রিয় গান গেয়েছেন তারা। সঙ্গে চলেছে মডেলদের র্যাম্প!লক্ষীটেরা বিদায় নেয়ার পরই মাঠে নেমে আসে আদিবাসী পারফরমাররা। মণিপুরী নৃত্যের সঙ্গে তারা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পাহাড় সমতলের মানুষদের জীবনসংগ্রামের চিত্র। যার সহিংস রূপটাও বাদ থাকেনি! পাহাড়ি সুরের সেই মাদকতা চলেছে অনেকক্ষণ।
এরই মধ্যে মাঠে আসেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। সবার জন্য শুভবার্তা জানান সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান—সৃষ্টি সুখের উল্লাসে দিয়ে শুরু হয় সুস্বাগত বাংলাদেশ নামের মিউজিক্যাল শো। এরপর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের—আমরা সবাই রাজার সঙ্গে নেচে ওঠে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পারফরমাররা।
দিজেন্দ্রলাল রায়ের গান—ধনে ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরার সঙ্গে চলে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে। যেখানে বাংলার প্রকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন পারফরমাররা। তাদের সেই পারফরমেন্স শেষে হতেই নিভে যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সব আলো! চমক যেন তখনও বাকি ছিল। শুরু হয় চোখ জুড়ানো অ্যাকুয়াটিক শো! যেখানে জলের খেলা ও শিবলি মুহাম্মদ এবং শামীম আরার নিপা’র সঙ্গে একঝাঁক নৃত্যশিল্পীর পারফরমেন্স অন্যরকম আবেদন তৈরি করে।
এরপর চলে লেজার শো এবং স্টেডিয়াম কাঁপানো আতশবাজির উত্সব! এভাবেই শেষ হয় বিগ বাজেটের সমাপনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী আর সমাপনীর পেছনে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়, খরচ একটু বেশিই লাগল!শেষ হলো ১১তম এসএ গেমস। এটা ঠিক, বিদায়ের বিরহ এখন ছুঁয়ে যাচ্ছে সবাইকে। কিন্তু এই বিদায় মানে আবারও দেখা হওয়ার প্রতিশ্রুতি।
দুই বছর পর আবারও এমন করে দক্ষিণ এশিয়ার দেড়শ’ কোটিরও বেশি মানুষের সামনে হাজির হবে এই ক্রীড়া উত্সব! জন্ম নেবে নতুন করে হাসি-কান্নার গল্প।

Tuesday, February 9, 2010

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নিতে চাই, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাই!

শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই চমকে উঠছেন! একবার নয়, বারকয়েক এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল কোচ জোরান জর্জেভিচকে। কিন্তু বাংলাদেশ কোচ নিজের কথায় অনড় থেকেছেন। জানিয়েছেন বাংলাদেশকে নিয়ে তার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের কথা। সেই স্বপ্নের শেষ ধাপ বিশ্বকাপ জয়! এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দলকে কোচিং করানোর জন্য সাকুল্যে সময় পেয়েছিলেন জর্জেভিচ মাত্র ১৫ দিন। তাতেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ১১ বছর পর জেতে ফুটবলের এই স্বর্ণপদক। এই সাফল্য ও বাংলাদেশকে নিয়ে তার পরবর্তী পরিকল্পনা এবং স্বপ্নের মৌতাতে মেতেছিলেন কাল জর্জেভিচ। টেলিফোনে তার এই সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন ... আপন তারিক
আপনিই এখন ‘ম্যান অব দ্য মোমেন্ট’না, না..., আমি একা কোথায়?
সবাই মিলেই এই অর্জন। এখানে আলাদা করে কাউকে বলা ঠিক হবে না। দলের ফুটবলার আমিনুল, ওয়ালী, এনামুল, নাসির, মিশু, মামুন, সবুজসহ সহকারী কোচ, মেডিকেল স্টাফ, ম্যানেজার—সবার পরিশ্রমেই এসএ গেমসের স্বর্ণপদক ধরা দিয়েছে আমাদের হাতে।
ফাইনালে শেষ বাঁশি বাজার পর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গায়ে আপনার উচ্ছ্বাসটা বেশ চোখে পড়ল...
এমন জয়ের পর আসলে আবেগ ধরে রাখা কঠিন। ৪-০ গোলে জয়! সত্যিই ছেলেদের এমন সাফল্যে আমি গর্বিত। এমন একটা মুহূর্তের জন্যই তো অপেক্ষা করেছি। যখন সেই মুহূর্ত এলো, তখন আর উত্সব না করে উপায় আছে? স্মরণীয় এক রাত কাটালাম সোমবার!
আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন! মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের অনুশীলনেই এই সাফল্য...
এ প্রশ্নটা সোমবার রাত থেকেই শুনছি। আমি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারব না কী আমার সাফল্যের রহস্য। তবে এটা বলতে পারি, আমি ফুটবল খেলাটিকে ভালোবাসি। ফুটবল আমার ধর্ম! ভালোবাসার জায়গায় আমি সব সময়ই সত্। সততা রেখে আমি আমার কাজগুলো করি বলেই সাফল্য এসে ধরা দেয় আমার হাতে। সবচেয়ে বড় কথা, এই খেলা থেকেই আয় করা অর্থে আমার পরিবারের মানুষরা বেঁচে আছে। এ কারণে যখনই যাদের সঙ্গে কাজ করি, নিজের সেরাটা দিতে চেষ্টা করি। কোনোরকম অসততা থাকে না আমার কাজে।
তাহলে আপনি বলছেন সাফল্যের এই অনুপ্রেরণাটা সবার আগে আপনার পরিবার থেকেই আসে?
অবশ্যই! এরপর যাদের হয়ে কাজ করছি, তাদের আবেগটাও আমার কাছে বড় হয়ে ওঠে। আসলে মানুষকে খুশি করার চেয়ে বড় কিছু আর হয় না। এখানকার মানুষগুলো খুব মিশুক। গেমস শুরু করার আগে আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। তার কথাগুলোও আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছিল। এছাড়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনও সারাক্ষণ পাশে থেকেছেন আমার। বাদল রায়সহ অন্যরাও সাহায্য করেছেন সব সময়।
কিন্তু সোমবার আফগানদের হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতার পর আপনি বলছিলেন যে, আপনি মুক্ত! বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আপনার সঙ্গে ভবিষ্যত্ নিয়ে কথা বলছে না—এটা নিয়ে আক্ষেপ ছিল আপনার...
না, এসব নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না (কিছুটা উত্তেজিত)। দেখুন, আপনাদের আরও দেশপ্রেমিক হতে হবে। এসব নেতিবাচক কথা বলবেন না!
এটা নেতিবাচক কথা হলো কোথায়? আগের দিন আপনি নিজেই তো এ নিয়ে হতাশ ছিলেন...
এ প্রসঙ্গে এখন আর আমার কিছু বলার নেই!
আপনার আগে বাংলাদেশের সর্বশেষ বিদেশি ফুটবল কোচ কীভাবে বিদায় নিয়েছিলেন, সে ঘটনা কি আপনার জানা আছে?
দেখুন, মনে হচ্ছে আপনি ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি এ নিয়ে কিছু বলব না!
ডিডো কিন্তু ফুটবল ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে বিদায় নিয়েছিলেন! ওই প্রসঙ্গ থাক; তাহলে এবার বলুন আপনার পরবর্তী লক্ষ্য কি?
আমার লক্ষ্য এখন শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় চ্যালেঞ্জ কাপ। কলম্বোতে সামনের সপ্তায় শুরু হওয়া ওই টুর্নামেন্টেও এভাবে ভালো ফুটবল উপহার দিতে চাই।এটা তো গেল নিকট-ভবিষ্যতের কথা।
দীর্ঘমেয়াদের জন্য বাংলাদেশ দল পেলে কতদূর নিয়ে যেতে পারবেন?
দেখুন, আমার স্বপ্নটা অনেক বড়। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে চাই। সত্যি বলতে কি, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাই।
আপনি যা বলছেন, তা কি বুঝেশুনে বলছেন? বাংলাদেশের কি সেই সামর্থ্য আর ফুটবলার আছে?
অবশ্যই আছে। চার বছর দায়িত্ব পেলেই আমি সবকিছু পাল্টে দিতে পারব! এখানে প্রতিভার কমতি নেই, শুধু খুঁজে বের করতে হবে। সবার আগে দরকার পরিকল্পনা। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে হবে।
আপনার সেই উচ্চাবিলাষী স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে। এমন কথা এর আগেও বাংলাদেশের অনেক বিদেশি কোচ শুনিয়েছেন। শুভ কামনা থাকল ১৬ তারিখ থেকে শুরু হওয়া চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য। সেখানে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে...
আসলেই এটা বড় চ্যালেঞ্জ! মিয়ানমার, তাজিকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে হবে। তবে আমার দৃষ্টি সামনের দিকেই থাকছে।